
বাংলাদেশের যাত্রাগান: জনমাধ্যমও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত
Author: ড. তপন বাগচী Category: অনুবাদ, অন্যভাষার সাহিত্য Publisher: বাংলা একাডেমি More Details‘বাংলাদেশের যাত্রাগান: জনমাধ্যমও সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত’ হলো ড. তপন বাগচী এর লেখা একটি বই। যাত্রা বাঙালির প্রাচীন সংস্কৃতি। ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রায় পৌরাণিক কাহিনীর গীতবাদ্য-অভিনয়ের উপস্থাপনা একসময় যাত্রাগান হিসেবে পরিণতি লাভ করে। সময়ের বিবর্তনে ‘যাত্রার’-র রূপ বদলে গেছে। বিষয়ে, আঙ্গিকে, উপস্থাপনারীতিতে যাত্রা এখনও সামাজিক বিনোদন, জনজ্ঞাপন, শিক্ষণ এবং প্রভাব বিস্তারের ফলে প্রায়োগিক জনমাধ্যম হিসেবে গ্রহণীয়। আধুনিক নগর-জীবনে যেমন থিয়েটার, গ্রামীণ জনপদে তেমনি ‘যাত্রা’ এখনও অন্যতম বিনোদন-মাধ্যম হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে আছে। স্থূলতা, গ্রাম্যতা ও অশ্লীলতার অভিযোগ এবং নানান নেতিবাচক ধারণা সত্ত্বেও যাত্রার প্রভাব ও বৈভবকে অস্বীকার করা যায় না।
১৮৬০ সালে ঢাকায় কৃষ্ণকমল গোস্বামী (১৮১১-১৮৮৮) কৃষ্ণবিষয়ক ঢপ কীর্তন পরিবেশনের পাশাপাশি পৌরাণিক পালা রচনা ও মঞ্চায়নের মাধ্যমে যাত্রার যে গতিসঞ্চার করেন, চারণকবি বরিশালের মুকুন্দ দাসের (১৮৮৭-১৯৩৪) হাতে তা হয়ে ওঠে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের জাগরণী মন্ত্র। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি ব্রজেন্দ্রকুমার দে’র (১৯০৭-১৯৭৬) হাতে যাত্রা বিকশিত হয়ে পৌরাণিক পালার পাশাপাশি ঐতিহাসিক, লোককাহিনীভিত্তিক ও সামাজিক পালায়। পেশাদার যাত্রাদলের আবির্ভাবে যাত্রা হয়ে ওঠে গ্রাহ্য শিল্পমাধ্যম।