
‘হাজার বছরের বাংলা গান সংগ্রহ’ বইটি ড. রশিদুন নবী, শাহীনুর রেজা এর খুব সারা জাগানো একটি উল্লেখযোগ্য বই। জ্ঞান স্পৃহা বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধানী করে তোলে। অনুসন্ধিৎসু মন তাঁদের গবেষণাকর্মে লিপ্ত হতে অনুপ্রেরণা যোগায়। অনুপ্রেরণার ফলে তাঁরা জ্ঞান পিপাসা নিবৃত্ত করার কাজে তত্ত্বাদি সন্ধান শুরু করেন। এতদসংক্রান্ত একটি প্রবন্ধ আমি পড়েছিলাম স্কুলের ছাত্র থাকাকালীন। তখন আমি কুমিল্লা জিলা স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ি। বৎসরের হিসেবে ১৯৫০ সাল। প্রবন্ধটি লিখেছিলেন অধ্যাপক ডক্টর কাজী মোতাহার হোসেন। যতদূর মনে পড়ে প্রবন্ধের শিরোনাম ছিল ‘বৈজ্ঞানিকের জ্ঞান সাধনা’। নবম শ্রেণির বাংলা বইয়ে আমাদের পাঠ্য ছিল।
এই প্রবন্ধটিতে তিনি বৈজ্ঞানিকদের জ্ঞান-সন্ধানের অত্যন্ত সুন্দর চিত্র তুলে ধরেছেন। বিজ্ঞানী যখন কোনো একটি নির্ধারিত বিজ্ঞান-বিষয়ে গবেষণাকর্ম শুরু করেন, প্রথমেই সেই বিষয়ে প্রবেশের দরজা খুলতে প্রয়াসী হন। আর সেই সঙ্গে তাঁর গবেষণার কাজও শুরু হয়। গবেষণার কাজ অগ্রসর হতে থাকে। বছরের পর বছর অতিক্রম হয়। তিনি যখন যে বিষয়ের দরজা উন্মোচন করে গবেষণার কাজ শুরু করে গবেষণার শেষপ্রান্তে উপনীত হন তখন সামনে দেখা দেয় আরেকটা বন্ধ দরজা। তিনি সেই বন্ধ দরজার ওপরে পৌঁছবার জন্য আবার গবেষণার কাজে লিপ্ত হন। এভাবে বন্ধ দরজার পর বন্ধ দরজা খুলে তিনি গবেষণাকর্ম নিয়ে এগিয়ে চলেন। অবশেষে তিনি শেষ বন্ধ দরজা খুলে যখন গবেষণা কাজ শেষ করেন তখন চেহারায় একটা তৃপ্তির আলো ফুটে ওঠে। তেমনি আবার যিনি মনে প্রাণে পড়ুয়া, নানাবিষয়ের নানা বই কিনে তিনি তাঁর জ্ঞান-পিপাসার তৃপ্তি মিটাতে চান। এভাবে বইয়ের পর বই জমতে থাকে।