
‘সুরের ইন্দ্রধনু’ বইটি আসলাম আহসান এর খুব সারা জাগানো একটি উল্লেখযোগ্য বই।’সুরের ইন্দ্রধনু/শতবর্ষের কালজয়ী বাংলা গান’-নামক বইটির পাণ্ডুলিপিতে গোগোড়া একটা নজর বুলিয়ে মনে হলো এটির উদ্দেশ্য প্রথমত ব্যবহারিক এবং তীয়ত গবেষণাধর্মী। বাংলা গানের মুগ্ধ শ্রোতা ও ব্যবহারকারীগণই সংকলক ও ম্পাদকের প্রধান বিবেচ্য। এই বিবেচনাই গানগুলি নির্বাচন ও গ্রন্থনের নিয়ামক সেবে কাজ করেছে। এর পরেই সম্পাদকের ওপর বর্তায় গ্রন্থটির কঠিনতম দায়, তথা গবেষণার- তথ্যের, গানের বাণী ইত্যাদির বিশুদ্ধি নিয়ে। এটি নিশ্চিত করার জন্য র্ভিরযোগ্য সূত্রসমূহ, বাংলাদেশে তো ঐতিহাসিক কারণেই সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাশিত নয়, শ্চিমবঙ্গেও নানাবিধ কারণে আজ সুদুর্লভ ক্ষেত্রবিশেষে প্রাপ্তব্যই নয়।
মোটকথা কারণ যা-ই হোক, আলোচ্য বিষয়ে প্রচলিত যত সংকলন ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আমি সংগ্রহ করতে পেরেছি- তার সিংহভাগই অনির্ভরযোগ্য পেয়েছি। এই হতাশাব্যঞ্জক অভিজ্ঞতার পটভূমিতে বর্তমান পাণ্ডুলিপিটি হাতে পেয়ে খুব কটা উৎসাহিত বোধ করিনি। কিন্তু বার বার উল্টেপাল্টে নেড়েচেড়ে অবশেষে নিষ্ঠা হকারে পাঠ করে নিশ্চিত হয়েছি যে বাংলা গানের এই সংকলনটি বিপুল শ্রমের সল। এককথায় ভুলভ্রান্তিতে আকীর্ণ সংগীত সংকলনের ভিড়ে এটি মোটামুটি মাদমুক্ত একটি সংগীত সংকলন। অনেক অপরিহার্য তথ্যই এ গ্রন্থে এক জায়গায় 1ওয়া যাবে নির্ভুলরূপে- যেমন গীতিকারের, সুরকারের, রূপকারের ও সংশ্লিষ্ট লচ্চিত্রের নাম এবং রেকর্ডের প্রকাশ-সাল প্রভৃতি।
সংকলিত সব গানই যে সমান গল্পসফল ও রসোত্তীর্ণ, এ কথা জোর দিয়ে বলা যাবে না। সম্ভবত, গানের বাঁক রিবর্তন দেখাতে গিয়ে, যুগের ছবি আঁকতে গিয়েই সংকলনকে রাখতে হয়েছে াম্প্রতিক সময়ের অপেক্ষাকৃত চটুল অঙ্গের কিছু গান। বাংলা গানের ভুবনে রাগপ্রধান শৈলীপ্রধান গানের বাইরে মুগ্ধ শ্রোতা আমি ধ্রুপদী রাধুনিক গানের। এ গানগুলি প্রধানত চল্লিশ, পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের অর্জন। ালজয়ী প্রমাণিত হবার পরেই কেবল এসব গান ‘ধ্রুপদী আধুনিক’ বলে অভিহিত য়। এই শ্রেণির বহু অমূল্য গানের নির্ভুল বাণী মুদ্রিত আছে বর্তমান গ্রন্থের একটি ল্লেখযোগ্য অংশ জুড়ে। এ অংশটিকেই বইটির সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বলে মনে য়েছে আমার কাছে।