দুবাই: সুইডিশ পপ তারকা Zara Larsson সম্প্রতি তার ব্যক্তিগত সঙ্গীত পছন্দ ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ২০২৬ সালের ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত Etihad Airways Abu Dhabi Grand Prix-এর উদ্বোধনী কনসার্টে তিনি প্রধান পারফর্মার হিসেবে মঞ্চ মাতাবেন।
Cosmopolitan-এ প্রকাশিত এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে লারসনকে প্রশ্ন করা হয়, কোন শিল্পীর গান তিনি কখনো তার Spotify প্লেলিস্টে রাখবেন না। তিনি স্বচ্ছভাবে জানিয়েছেন যে, কিছু শিল্পীর গান তিনি সম্পূর্ণ ব্লক করেছেন। লারসন বলেন,
“আমার অনেক শিল্পী আছে যাদের আমি Spotify-তে ব্লক করেছি, এবং তাদের সবাই আচরণে সমস্যাজনক। যেমন, আপনি কখনো আমার প্লেলিস্টে ক্রিস ব্রাউন-এর গান পাবেন না।”
ক্রিস ব্রাউন (Chris Brown) হলেন একাধিক প্ল্যাটিনাম অর্জনকারী R&B শিল্পী, যার ক্যারিয়ার বাণিজ্যিক সফলতা ও আইনি বিতর্কে পরিপূর্ণ। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০০৯ সালে, যখন তিনি গায়িকা Rihanna-র সঙ্গে ঘটানো গৃহস্থালির সহিংসতার ঘটনায় দায়ী স্বীকার করেন। মামলায় তিনি প্রোবেশন ও কমিউনিটি সার্ভিসের শাস্তি পান, যা সঙ্গীত জগতে ব্যক্তিগত দায় ও নৈতিকতার প্রশ্ন তোলে।
এছাড়া, ব্রাউন বিতর্কের মধ্যেও নিয়মিত গান প্রকাশ করে চলেছেন এবং বৈশ্বিকভাবে বিশাল ফ্যান বেস বজায় রেখেছেন। লারসনের মন্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত শ্রবণ অভ্যাস ও নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন, যদিও Cosmopolitan-সাক্ষাৎকারে তিনি বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি।
নিচের টেবিলে লারসনের ব্লক করা শিল্পীদের সংক্ষেপে তথ্য দেওয়া হলো:
| শিল্পীর নাম | মূল বিতর্ক / কারণ | Spotify-এ অবস্থান |
|---|---|---|
| Chris Brown | গৃহস্থালির সহিংসতা, ২০০৯ | ব্লক করা |
| অন্যান্য অজ্ঞাত | আচরণগত সমস্যার অভিযোগ | ব্লক করা |
লারসনের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন যে, শিল্পীর ব্যক্তিগত আচরণ বিবেচনা করে শ্রোতাদের প্লেলিস্ট তৈরি করা উচিত। অন্যরা মনে করছেন যে, শিল্পীর কাজ ও ব্যক্তিগত জীবন আলাদা বিষয়, এবং সঙ্গীতকে তার নিজস্ব মর্যাদায় দেখার সুযোগ থাকা উচিত।
লারসনের অবস্থান একটি স্পষ্ট নৈতিক বার্তা প্রদান করছে: ব্যক্তিগত আচরণ ও দায়বদ্ধতা সঙ্গীত শোনার অভিজ্ঞতার অংশ হতে পারে। তার এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, বরং শিল্পীদের আচরণ নিয়ে সামাজিক আলোচনা ও বিতর্কের ক্ষেত্রও তৈরি করছে।
আজকের সময়ে একজন শিল্পীকে কেবল তার সঙ্গীতের জন্য নয়, বরং তার আচরণের জন্যও শ্রদ্ধা বা সমালোচনা করা হতে পারে, যা শ্রোতাদের জন্য একটি নৈতিক দিকনির্দেশনার সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
