আভা আলম । বাঙালি সঙ্গীত শিল্পী ও সঙ্গীত শিক্ষিকা

আভা আলম ছিলেন একজন বাংলাদেশি ধ্রুপদি সঙ্গীতশিল্পী ও সঙ্গীত শিক্ষিকা। সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।

 

প্রারম্ভিক ও কর্মজীবন

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ ডিসেম্বর মাদারীপুর জেলা শহরে আভা আলম জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হরিপদ দে। তার প্রকৃত নাম আভা দে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে গুনীব্যক্তিত্ব তরিকুল আলমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং আভা আলম নামে পরিচিতি লাভ করেন।

আভা আলমের সঙ্গীতবিদ্যায় হাতেখড়ি হয় পিতার কাছে। পরে ময়মনসিংহের প্রখ্যাত শিল্পী মিথুন দে’র নিকট তিনি উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে তালিম নেন। ১৯৫৯ সালে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে তাঁর সঙ্গীত পরিবেশন শুরু হয়। তারপর থেকে দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রে তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন। চট্টগ্রাম বেতারে প্রখ্যাত আমানত আলী খাঁ ও ফতে আলী খাঁর সঙ্গে এবং ময়মনসিংহে সালামত আলী খাঁ ও নাজাকত আলী খাঁর সঙ্গে রাগসঙ্গীত পরিবেশন করে তিনি স্বীয় প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।

আভা আলম ঢাকার বিভিন্ন সঙ্গীত-আসরে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। স্বামীর চাকরিসূত্রে বিভিন্ন সময়ে তিনি করাচি, রাওয়ালপিন্ডি, হায়দ্রাবাদ প্রভৃতি স্থানে সঙ্গীত পরিবেশন করে বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। লাহোর ও করাচির বেতার এবং টেলিভিশনেও তিনি সঙ্গীত পরিবেশন করেন।

 

সেখানে থাকাকালে তিনি ওস্তাদ আজহার মজিদের নিকট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। সে সময় লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সঙ্গীত সম্মেলনে সঙ্গীত পরিবেশন করে তিনি বিদগ্ধ মহলের অকুণ্ঠ প্রশংসা অর্জন করেন। পাকিস্তানের সঙ্গীত সম্রাজ্ঞী রোশন আরা বেগমের সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি সে সময়ই। ১৯৭৬ সালে ভারতের বিভিন্ন স্থানে সঙ্গীত পরিবেশনের সরকারি আমন্ত্রণ পেলেও স্বাস্থ্যগত কারণে সে আমন্ত্রণ রক্ষা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

আভা আলম বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, সৎসঙ্গীত প্রসার সমিতি, ছায়ানট, আলতাফ মাহমুদ সঙ্গীত একাডেমী ও আতিক সঙ্গীত একাডেমীসহ ঢাকার বিভিন্ন সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমৃত্যু জড়িত ছিলেন। তিনি ঢাকা বোর্ডের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের বহিরাগত পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিখিল পাকিস্তান সঙ্গীত সম্মেলনে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুরিয়া ধানেশ্রী রাগে সঙ্গীত পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন জয় করেন। তাঁর একটি লং প্লে রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে।

পুরস্কার

সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘একুশে পদক’ দিয়ে সম্মানিত করে।

 

মৃত্যু

১৯৭৬ সালের ২১ নভেম্বর মাত্র ২৯ বছর বয়সে তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।