সংগীতশিল্পী ইশান মজুমদার নতুন গান ‘ধূপ’ প্রকাশ করেছেন। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা, স্মৃতির সঙ্গে বেঁচে থাকা এবং দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে নতুন করে অনুভব করার আবেগ নিয়ে তৈরি হয়েছে গানটি। ইউটিউবে নিজের চ্যানেল ‘Ishaan er Gaan’-এ গানটি প্রকাশ করেছেন তিনি। এর আগে ‘পাতার বাঁশরী’ গান দিয়ে ব্যাপক শ্রোতাপ্রিয়তা পাওয়ার পর নতুন এই গান নিয়ে হাজির হলেন শিল্পী।
গত জুলাইয়ে কোক স্টুডিও বাংলার অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিল ইশান মজুমদার ও সুনিধি নায়েকের গাওয়া ‘পাতার বাঁশরী’। প্রকাশের পর থেকেই গানটি শ্রোতাদের মধ্যে সাড়া ফেলে। দুই মাসেরও কম সময়ে ইউটিউবে গানটির ভিউ ৬ কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই সাফল্যের পর ইশানের নতুন প্রকাশনা হিসেবে ‘ধূপ’ নিয়ে সংগীতপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
‘ধূপ’ গানের মূল বিষয় প্রিয়জনকে হারানোর পরও তাঁর স্মৃতি কীভাবে মানুষের জীবনে থেকে যায়, সেই অনুভূতি। গানে সূর্যের আলোর প্রতীকী ব্যবহার করা হয়েছে। পরিচিত কোনো দৃশ্য, দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ মুহূর্ত কিংবা চারপাশের চেনা পরিবেশ কীভাবে অনুপস্থিত কাউকে আবারও মনে করিয়ে দিতে পারে, সেই অভিজ্ঞতাই উঠে এসেছে এতে।
কাউকে হারানোর পর তাঁর শারীরিক অনুপস্থিতি মেনে নেওয়া গেলেও স্মৃতি থেকে যায় নানা রূপে। কখনো পরিচিত কোনো আলো, কখনো কোনো অনুভূতি কিংবা সামান্য কোনো ঘটনা ফিরিয়ে আনে একসঙ্গে কাটানো সময়ের কথা। ‘ধূপ’ সেই অনুপস্থিতি ও উপস্থিতির মাঝামাঝি এক আবেগের জায়গা তৈরি করে, যেখানে হারিয়ে যাওয়া মানুষটি সরাসরি পাশে না থাকলেও স্মৃতির মধ্য দিয়ে যেন কাছেই থাকেন।
গানটির কথা লিখেছেন, সুর করেছেন এবং কণ্ঠ দিয়েছেন ইশান নিজেই। পিয়ানো বাজানোর পাশাপাশি সংগীত প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন দীপ্র আহমেদ। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন ইশান ও দীপ্র আহমেদ যৌথভাবে। ভায়োলিন বাজিয়েছেন অ্যান্ডি। অন্যদিকে, গানটির মিক্সিং ও মাস্টারিং করেছেন আদি বিশ্বাস। ‘ধূপ’-এর মিউজিক ভিডিও পরিচালনা করেছেন রোহিত দাস।
গানটি প্রকাশের পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে ইশান বলেন, প্রায় তিন বছর আগে তিনি নিজের ব্যক্তিগতভাবে শোনার জন্য ‘ধূপ’ রেকর্ড করেছিলেন। সে সময় গানটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার পরিকল্পনা ছিল না। পরে সময়ের সঙ্গে গানটির রূপ ও অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে। তিনি ও দীপ্র আহমেদ দীর্ঘ সময় ধরে গানটি নিয়ে কাজ করেছেন এবং এর সঙ্গে নিজেদের মতো করে সময় কাটিয়েছেন। অবশেষে সেটি শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা।
ইশানের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ‘ধূপ’ কেবল নতুন একটি গান প্রকাশের ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে নিজের কাছে লালন করা একটি সৃষ্টিকে শ্রোতাদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভিজ্ঞতাও। ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে তৈরি গানটি এখন বৃহত্তর শ্রোতামহলের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পেয়েছে।
বাংলা গানে ব্যক্তিগত আবেগ, সম্পর্ক ও স্মৃতির প্রকাশ শ্রোতাদের কাছে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ‘ধূপ’-এ সেই পরিচিত অনুভূতিকে সূর্যের আলো ও দৈনন্দিন জীবনের মুহূর্তের সঙ্গে মিলিয়ে তুলে ধরেছেন ইশান। গানটির সুর, কণ্ঠ ও সংগীতায়োজনের মধ্য দিয়ে প্রিয়জন হারানোর বেদনার পাশাপাশি স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার অনুভূতিও প্রকাশ পেয়েছে।
ইশান মজুমদারের নতুন গান ‘ধূপ’ এখন তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Ishaan er Gaan’-এ শোনা যাচ্ছে।














