নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন বিশ্বায়নের হাওয়া বইতে শুরু করেছে, তখন কবীর সুমন (তৎকালীন সুমন চট্টোপাধ্যায়) তাঁর ‘তোমাকে চাই’ অ্যালবামের মাধ্যমে বাংলা গানে এক নতুন ব্যাকরণ তৈরি করেন। এই গানে তিনি মধ্যবিত্তের চিরাচরিত ভণ্ডামিকে আঘাত করেছেন এবং দেখিয়েছেন কীভাবে শিল্প ও প্রতিবাদও শেষ পর্যন্ত ‘পণ্য’ হিসেবে বাজারে বিক্রি হয়।
যদি ভাবো কিনছো আমায়
যদি ভাবো কিনছো আমায় ভুল ভেবেছ
কেনা যায় কণ্ঠ আমার দফা দফা
রুজি-রোজগারের জন্য করছি রফা
দুহাতের আঙুলগুলো কিনতে পারো
আপোসেও নেই আপত্তি, নেই আমারও
আমাকে না আমার আপোস কিনছো তুমি
বল কে জিতল তবে, জন্মভূমি, জন্মভূমি
টাকাতেই চলছে সবার পাকস্থলী
কেনা আর বেচা নিয়েই গেরস্থালি
নীপাঘারে রবীন্দ্রনাথ তেড়ে কেঁটে
বাজারের খাবার হয়ে ঢুকছে পেটে
প্রতিবাদী কণ্ঠগুলো টাকার ব্যাপার
প্রতিবাদ করতে গেলেও খাবার দাবার
সে তুমি শ্রমিক কিংবা তা ধিন ধিনা
পেটে চায় খাবার, নয়তো দিন চলে না
যদি ভাবো খাচ্ছো আমার ভুল ভেবেছ
খাওয়া যায় কণ্ঠ আমার দফা দফা
বদহজম হলেই কিন্তু দফা রফা
দুহাতের আঙুলগুলো খেতেও পারও
আপোসেও নেই আপত্তি, নেই আমারও
আমাকে না আমার আপোস খাচ্ছো তুমি
বল কে জিতল তবে, জন্মভূমি, জন্মভূমি
কেউ বেচে তার মেহনত, হাতের পেশী
কেউ বেচে চুলের বাহার এলোকেশী
কেউ বেচে প্রবন্ধ কোনো পত্রিকাতে
আমি বেচি আমার কণ্ঠ তোমার হাতে
বেচি আমি আমার পদ্য, সুরের ভাষা
বিরক্তি, ঘেন্না এবং ভালোবাসা
আশাটাও পণ্য এখন, বাজার দরে
বিকোতে পারলে টাকা আসবে ঘরে আসবে ঘরে
বেচি দিন পালটে দেওয়ার গানের জবান
কোনোদিন হয়তো অন্য আর কোনো গান
‘টাকাডুম টাকডুমাডুম’ নিয়ম ছেড়ে
মানুষের জন্য সুদিন আনবে কেঁড়ে আনবে কেঁড়ে।
বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাস, সঙ্গীততত্ত্ব ও আর্কাইভাল গবেষণাকে সুনির্দিষ্ট একাডেমিক কাঠামোয় তুলে ধরতে কাজ করছে ‘একাডেমিক ডেস্ক’। গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে প্রকাশ করা হয় বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা নিবন্ধ, সুর ও বাণীর বিশদ বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিক দলিল। সঙ্গীতচর্চাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।















