বরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লাইলার শারীরিক অবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মৃত্যুর গুজবের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁর মেয়ে তানি লায়লা। অনলাইনে রুনা লায়লা ‘মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন’—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি তাঁর ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর বিভিন্ন কনটেন্ট। এসব প্রচারণাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছেন তানি।
বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তানি লায়লা। সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের বিষয়ে পরিষ্কার করে বলেন, রুনা লায়লা জীবিত এবং সুস্থ আছেন। তাঁর গুরুতর অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর খবরের কোনো সত্যতা নেই।
ভুয়া খবর ও এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তানি বলেন, শুধু সামান্য অর্থ উপার্জনের জন্য কিছু মানুষ রুনা লাইলাকে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ, বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ছবি তৈরি করছেন। এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি ইউটিউবেও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তানি তাঁর পোস্টে লেখেন, মাকে নিয়ে এ ধরনের পোস্ট, এআই-নির্ভর ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া সংবাদ দেখতে দেখতে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। পরিস্থিতি থামাতে তিনি নিজেই এমন কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্ট একে একে রিপোর্ট করার উদ্যোগ নেবেন বলেও জানান।
মাকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রসঙ্গে রুনা লাইলার দীর্ঘ সংগীতজীবনের কথাও তুলে ধরেছেন তানি। প্রায় ছয় দশক ধরে তাঁর মা সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের জন্য গান করে আসছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত দীর্ঘ সময় সংগীতকে দেওয়ার পরও তাঁকে নিয়ে এমন অসম্মানজনক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিষয়টি তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও অপমানজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে যেন আর কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সে বিষয়টিও স্পষ্ট করেছেন তানি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত। তিনি মারা যাননি, এমনকি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন—এমন দাবিও সত্য নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওর একটি অংশ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রুনা লাইলার ভক্ত ও অনুসারীদেরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তানি। যেসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে মিথ্যা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য, মৃত্যুর গুজব কিংবা এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, সেসব অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করতে বলেছেন তিনি।
রুনা লাইলাকে ঘিরে এই গুজব এমন সময়ে ছড়িয়েছে, যখন তিনি এখনো সংগীত পরিবেশনায় সক্রিয়। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় দুটি কনসার্টে গান পরিবেশন করেছেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে একটি একক সংগীতানুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে রুনা লায়লা বাংলা গানের পাশাপাশি হিন্দি, উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়েছেন। তাঁর কণ্ঠ ও সংগীত পরিবেশনা শুধু বাংলাদেশের শ্রোতাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতাঙ্গনেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ও সম্মানিত একটি নাম। ছয় দশকের এই পথচলায় তিনি একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পরিচিত ব্যক্তি সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর খবর ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত মানুষের নজরে আসে। বিশেষ করে অসুস্থতা বা মৃত্যুর মতো সংবেদনশীল বিষয় হলে যাচাই-বাছাই ছাড়াই অনেকেই সেই খবর শেয়ার করে ফেলেন। এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন বাস্তবের মতো দেখতে ছবি ও ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় বিভ্রান্তির ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
রুনা লাইলাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটিও সেই ঝুঁকির দিকটি সামনে এনেছে। কোনো শিল্পী বা পরিচিত ব্যক্তির স্বাস্থ্য কিংবা মৃত্যুসংক্রান্ত খবর দেখার পর সরাসরি বিশ্বাস বা প্রচার না করে নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য যাচাই করা জরুরি। কারণ একটি মিথ্যা পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে এবং এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাঁর পরিবারের ওপর তৈরি হতে পারে অপ্রত্যাশিত মানসিক চাপ।
রুনা লাইলার ক্ষেত্রে তাঁর মেয়ে তানি লায়লার বক্তব্যই গুজবের সরাসরি প্রতিবাদ হিসেবে সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, রুনা লায়লা জীবিত ও সুস্থ আছেন। মায়ের মৃত্যুর খবর কিংবা গুরুতর অসুস্থতার প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তানি ভক্তদের এমন কনটেন্ট ছড়ানো অ্যাকাউন্ট রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন।













