গায়িকা হিসেবে বিশ্বসংগীতের মঞ্চে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস, বিলবোর্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস, কান্ট্রি মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসহ (সিএমএ) বিশ্বের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় ও মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ইতিমধ্যেই নিজের ঝুলিতে পুরেছেন মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফট। তবে এবার শুধু কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই নয়, বরং একজন দক্ষ ও সফল গীতিকার হিসেবেও ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি লাভ করলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংগীত অঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ‘সংরাইটারস হল অব ফেম’-এ (Songwriters Hall of Fame) নাম অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এই তারকা।
নারীদের ক্যাটাগরিতে সর্বকনিষ্ঠ নারী গীতিকার হিসেবে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে এই অনন্য গৌরব অর্জন করলেন টেইলর সুইফট। গত ১১ জুন নিউইয়র্ক সিটির ঐতিহাসিক ম্যারিয়ট মার্কুইস হোটেলে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজিত সংরাইটারস হল অব ফেমের বার্ষিক উৎসবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
Table of Contents
সংরাইটারস হল অব ফেমের ইতিহাস ও যোগ্যতার নিয়মাবলী
বিশ্বজুড়ে কৃতি ও প্রতিভাবান গীতিকারদের অনন্য অবদান, সৃষ্টিশীলতা ও প্রতিভাকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে এবং সম্মান জানাতে ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক এই সংস্থা। বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে এই সংস্থায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি গীতিকার ও সুরকার। তবে এই সম্মানজনক ক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়মাবলী রয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, যে সকল গীতিকার পেশাদার সংগীত অঙ্গনে সফলতার সাথে কমপক্ষে ২০ বছর বা দুই দশক ধরে নিয়মিত গান লিখছেন, তাঁরাই মূলত এই সংস্থার গর্বিত সদস্য হওয়ার প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেন। মার্কিন পপ তারকা টেইলর সুইফটের প্রথম বাণিজ্যিকভাবে প্রকাশিত ও নিজের লেখা গান ‘টিম ম্যাকগ্রা’ (Tim McGraw) আন্তর্জাতিক বাজারে মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই হিসাব অনুযায়ী, পেশাদার গীতিকার হিসেবে চলতি বছরে সফলভাবে দুই দশক বা ২০ বছর পূর্তি হয়েছে তাঁর। ফলে এই দীর্ঘমেয়াদী যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেই তিনি এই সম্মানজনক ক্লাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
লালগালিচার আবহ ও সম্মাননা প্রদানের বিশেষ মুহূর্ত
সংরাইটারস হল অব ফেমের এই বার্ষিক উৎসবের লালগালিচায় বা রেড কার্পেটে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মার্জিত লুকে হাজির হন টেইলর সুইফট, যা উপস্থিত আলোকচিত্রী ও দর্শকদের বিশেষভাবে নজর কাড়ে। সম্মাননা প্রদানের মূল পর্বে হলিউডের বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ স্বয়ং মঞ্চে এসে টেইলর সুইফটকে এই ঐতিহাসিক সম্মাননা স্মারক গ্রহণের জন্য স্বাদর আমন্ত্রণ জানান।
পুরস্কার গ্রহণের পর মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রায় ২১ মিনিটের একটি দীর্ঘ, সুচিন্তিত ও আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন সুইফট। বক্তব্যে তিনি তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের সংগীতযাত্রার নানা চড়াই-উতরাই, গান লেখার পেছনের গল্প এবং এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবদান ও ত্যাগের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। গীতিকার হিসেবে সুইфটের এই অন্তর্ভুক্তি তাঁর দীর্ঘ দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও যুগান্তকারী আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
সর্বকনিষ্ঠ নারী গীতিকারের রেকর্ড ও কালজয়ী গানের তালিকা
সংগীতের ইতিহাসে এর আগে ১৯৮৩ সালে মাত্র ৩২ বছর বয়সে কৃষ্ণাঙ্গ সংগীত কিংবদন্তি স্টিভি ওয়ান্ডার সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ গীতিকার হিসেবে এই সম্মানজনক ক্লাবে স্থান পেয়েছিলেন। তবে সামগ্রিক ইতিহাসে নারীদের ক্যাটাগরি বিবেচনা করলে টেইলর সুইফটই এখন সংরাইটারস হল অব ফেমের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বা সর্বকনিষ্ঠ নারী গীতিকার হিসেবে রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লেখালেন।
এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননার জন্য টেইলর সুইফটের ক্যারিয়ারের বেশ কিছু কালজয়ী ও বিশ্বব্যাপী সাড়া জাগানো গানকে বিশেষভাবে বিবেচনা করেছে জুরি বোর্ড। যার মধ্যে অন্যতম হলো—‘অল টু ওয়েল’ (All Too Well – ১০ মিনিটের বিশেষ ভার্সন), ‘ব্ল্যাঙ্ক স্পেস’ (Blank Space), ‘অ্যান্টি-হিরো’ (Anti-Hero) এবং তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের অত্যন্ত জনপ্রিয় গান ‘লাভ স্টোরি’ (Love Story)।
একই আসরে অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব
চলতি বছরের এই গৌরবময় আসরে টেইলর সুইফট ছাড়াও বিশ্বসংগীতের আরও বেশ কয়েকজন প্রখ্যাত ও কালজয়ী সংগীত ব্যক্তিত্বকে সংরাইটারস হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন বিখ্যাত গায়িকা অ্যালানিস মরিসেট, কেনি লগিনস, ক্রিস্টোফার ট্রিকি স্টুয়ার্ট, ওয়াল্টার আফানাসিফ, টেরি ব্রিটেন এবং গ্রাহাম লাইল।
এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রক সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি ব্যান্ড ‘কিস’ (KISS)—এর দুই প্রধান ও প্রভাবশালী সদস্য পল স্ট্যানলি এবং জিন সিমন্সও গীতিকার হিসেবে এ বছর এই মর্যাদাপূর্ণ সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বৈশ্বিক সংগীত তারকাদের এই বিশেষ সমাগম সংরাইটারস হল অব ফেমের এবারের বার্ষিক উৎসবকে আরও বেশি মহিমান্বিত ও স্মরণীয় করে তুলেছে।
