চারদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাসায় ফিরেছেন দেশের জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মিল্টন খন্দকার। দীর্ঘদিন ধরে কাঁধ, কোমর ও মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যায় ভোগার পর তার স্টেমসেল অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) রাতে তিনি নিজেই সুস্থতার খবর জানান।
রাত ৯টার দিকে মিল্টন খন্দকার বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, চারদিন পর হাসপাতাল থেকে ঘরে ফিরলাম। অপারেশন সাকসেস। ডা. ইয়াকুব আলী সাহেবকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা। আমার জন্য দোয়া করবেন।”
দীর্ঘদিন ধরে কাঁধ, কোমর ও মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভুগছিলেন এই গুণী গীতিকার। চিকিৎসকদের পরামর্শে গত ২৯ জুন রাজধানীর আফতাবনগরের বিএলসিএস হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। সেখানে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. ইয়াকুব আলীর তত্ত্বাবধানে তার স্টেমসেল অপারেশন সম্পন্ন হয়। চারদিন চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পান তিনি।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিন মিল্টন খন্দকার জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁধ ও কোমরে ব্যথা অনুভব করছিলেন। পাশাপাশি মেরুদণ্ডের সমস্যাও তাকে ভোগাচ্ছিল। এসব কারণেই চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে সবার কাছে দোয়া চেয়েছিলেন।
বাংলা সংগীতাঙ্গনে মিল্টন খন্দকার সুপরিচিত একটি নাম। গীতিকার হিসেবে যেমন তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন, তেমনি সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবেও রয়েছে তার উল্লেখযোগ্য অবদান। তার লেখা ও সুর করা অসংখ্য গান এখনও শ্রোতাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।
তার সৃষ্ট উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘আকাশেতে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটারে’, ‘রংচটা জিন্সের প্যান্ট পরা’, ‘পাথরে ফুল ফোটাবো শুধু ভালোবাসা দিয়ে’, ‘তোমরা কাউকে বলো না’, ‘এত ছোট জনম নিয়া জগতে আসিয়া’, ‘আমি যে তোমার কে, কাছে এসে নাও জেনে নাও’ এবং ‘অঞ্জনা, হয়তো এ গান তুমি শুনছো না’। এসব গান বাংলা গানের ভাণ্ডারে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
গান রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন মিল্টন খন্দকার। তার প্রকৃত নাম রাশেদুল হক। ১৯৬৭ সালের ২৫ জুন কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলা সংগীতাঙ্গনে কাজ করে আসছেন।
