সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই অক্টোবর ২০২২, ৩:২৮ পিএম

আনোয়ার পারভেজ একজন বাংলাদেশী শীর্ষস্থানীয় সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, সঙ্গীতজ্ঞ ও শব্দসৈনিক। ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ জুন তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিবিসির জরিপে যে ২০টি বাংলা গান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বলে স্বীকৃতি পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তার সুরকৃত তিনটি গান রয়েছে।এই তিনটি গান হলো “জয় বাংলা বাংলার জয়”, “একবার যেতে দে না” এবং “একতারা তুই দেশের কথা”৷
তার সুরারোপিত ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গানটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত বিভিন্ন দেশাত্মবোধক গানের মধ্যে অনেক জনপ্রিয় ছিল৷ সঙ্গীতে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০০৭ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
Table of Contents
আনোয়ার পারভেজ জেসমিন পারভেজের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ দেশের একজন খ্যাতিমান গায়িকা এবং তার ভাই জাফর ইকবাল ছিলেন একজন চলচ্চিত্র অভিনেতা৷
ষাটের দশকের গোড়ায় তিনি পেশাদার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন চট্টগ্রাম বেতারে সুরকার পদে যোগ দিয়ে৷ পরে ঢাকায় এসে বিভিন্ন মাধ্যমে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে “জয় বাংলা বাংলার জয়” গানের সুর করেন।
এছাড়া তার সুরকৃত শাহনাজ রহমতুল্লাহর কণ্ঠে “একতারা তুই দেশের কথা” ও “একবার যেতে দে না আমার” গান দুটি জনপ্রিয়তা লাভ করে। স্বাধীনতার পরই বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যবসাসফল ছবি রংবাজ-এর সুরকারও ছিলেন তিনি৷ সে সময় “সে যে কেন এলো না কিছু ভালো লাগে না” বা “এই পথে পথে, আমি একা চলি”- এ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে৷ এছাড়া দি রেইন (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে সুর করেও তিনি সমালোচকদের দৃষ্টি কেড়েছিলেন৷ সঙ্গীত জীবনের ৪০ বছরে দুই হাজারেরও বেশি গানে সুর দিয়েছেন৷
বিজলী (১৯৬৯), বিন্দু থেকে বৃত্ত (১৯৭০), জয় বাংলা (১৯৭১), ছন্দ হারিয়ে গেল (১৯৭২), রংবাজ (১৯৭৩), বন্দিনী (১৯৭৬), দি রেইন (১৯৭৬), মাটির মায়া (১৯৭৬), অভিযান (১৯৮৪), রাজিয়া সুলতানা (১৯৮৪), ঢাকা ৮৬ (১৯৮৬), জবরদস্ত (১৯৮৮), জীনের বাদশা (১৯৮৯), ছুটির ফাঁদে (১৯৯০), মৌমাছি (১৯৯৬), সাবাশ বাঙ্গালী (১৯৯৮), বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ (২০০৩), মধু মালতী, সোনার হরিণ, তালাক, সকাল সন্ধ্যা ।
দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রস্টেট ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ২০০৫ সালে তা তার হার্ট অবধি ছড়িয়ে পড়েছিল৷ ভীষণ অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় হার্ট ফাউন্ডেশনে নেয়ার পর পরই কোমায় চলে যান তিনি এবং ২০০৬ সালে ১৭ জুন মধ্যরাতে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন৷ তাকে ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়৷
মন্তব্য