বাংলা সংগীতের ইতিহাসে Kazi Nazrul Islam এমন এক নাম, যিনি একাধারে কবি, সুরকার, গীতিকার ও বিপ্লবী—বাংলা গানের ভাষা ও ভাবনার জগতে যাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি শুধু গান লেখেননি, তিনি গানকে রক্ত-মাংসের মানুষের আবেগ, প্রতিবাদ, বিশ্বাস ও প্রেমের ভাষায় রূপান্তর করেছেন। ইসলামি সংগীত থেকে শ্যামাসঙ্গীত, বিদ্রোহী গান থেকে প্রেমের গান, ভক্তির স্তব থেকে শাস্ত্রীয় রাগাশ্রয়ী সুর—নজরুলের সৃষ্টিশীলতা ছিল বহুমাত্রিক এবং সীমাহীন।
স্টুডিওতে কাজী নজরুল ইসলাম
Table of Contents
নজরুল সঙ্গীত সূচি
এই প্রবন্ধে আমরা উপস্থাপন করেছি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত সম্পূর্ণ নজরুলসঙ্গীতের তালিকা, যা সংগ্রহ, যাচাই এবং বিষয়ভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে। তালিকাটি ধাপে ধাপে উপস্থাপন করা হয়েছে—যাতে পাঠক সহজেই বুঝতে পারেন কোন গান কোন ধারার অন্তর্গত, কোনটি ধর্মভাবনায় উৎসারিত, কোনটি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, আবার কোনটি প্রেম ও মানবিক অনুভূতিতে আবিষ্ট।
বাংলা সংগীতের পাঠক, গবেষক, শিল্পী এবং নজরুলপ্রেমী সকলের জন্য এই তালিকা একটি রেফারেন্স দলিল হিসেবে কাজ করবে—যেখানে নজরুলের সৃজনভুবনের বিস্তৃতি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। আশা করা যায়, এই সংকলন নতুন প্রজন্মকে নজরুলসঙ্গীতের গভীরতর অনুধাবনে সহায়তা করবে এবং বিদ্রোহী কবির অমর সুরকে আরও নিবিড়ভাবে উপলব্ধির সুযোগ করে দেবে।
সেনাবাহিনীতে নজরুল
ইসলামী ভাবধারার নজরুলসঙ্গীত (হামদ, নাত, গজল, কোরআনি অনুপ্রেরণামূলক গান)
নজরুল ইসলাম বাংলা গানে প্রথমবার ইসলামি দর্শন, আরবি–ফারসি শব্দভাণ্ডার ও সুফিচেতনা শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করেন।
হামদ ও নাত
তাওহিদেরই মুরশিদ মোরা
আল্লাহ আমার প্রভু এক
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে
নামাজ আমার হিয়ার মাঝে
খোদার প্রেমে পাগল আমি
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
এসো হে রমজান
মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
আসসালাতু খায়রুম মিনান নাওম
রহমানের রাহিম তুমি
খোদা তুমি কত দয়ালু
মদিনায় মোর যাও গো বন্ধু
ও মন কাবার দিকে চাও
নবীর পথ ধরে চল
ইয়া নবী সালাম আলাইকা
হেরা থেকে নূর এলো
কোন আলোতে প্রাণ ভরে যায়
এ কিসের আজ আবির্ভাব
তোর নামের তসবি গলি মোর
তোমার নামের গান গাই
নজরুল সঙ্গীতের স্বরলিপি গ্রন্থ
গজল ও সুফিভাবধারার গান
শোনো হে দয়াময়
আশিকে গজল গাই
রে মন রমজানে তওবা কর
আল্লাহ আল্লাহ বল রে মন
মন রে তুই তওবা কর
তোর প্রেমে মন মজেছে
হৃদয় মসজিদ বানাইলাম
তোর ইশকে আমি পাগল
আমার আল্লাহ জানে
খোদা আছেন অন্তরে
প্রেমের শরাব খাইয়া
রসুলের প্রেমে মন মাতাল
মন তুই আল্লাহকে ডাক
প্রেম নামাজ পড় মন
জান্নাতের আশা রাখি
নজরুল নজরুলগীতি শিখাচ্ছেন
শ্যামাসঙ্গীত ও ভজনধর্মী নজরুলসঙ্গীত
(কালীভক্তি, শাক্তভাব, বৈষ্ণব প্রভাব ও ভজনধর্মী গান)
নজরুল ইসলাম বাংলা গানে শাক্তধারা ও বৈষ্ণব দর্শনের এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটান। তাঁর শ্যামাসঙ্গীতে শক্তির আরাধনা, মাতৃভাব, ভক্তি ও আত্মসমর্পণের আবেগ গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
শ্যামাসঙ্গীত (মা কালীর আরাধনা)
শ্যামা মা কি আমার কালো
মা গো তুমি সর্বশক্তি দাও
জাগো মা তাই জাগো
আয় মা তুই জাগে আয়
কালী আমার মা
ও মা কালী আমার আদি শক্তি
বল মা তুই কোথা আছিস
আমার কালী মায়ের পাইলের শব্দ
ত্রিভুবনেশ্বরী তুমি মা
ভয় কী মোর মা আছে
শ্যামা নামেই শান্তি
আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিল
আয় আয় কালী মা
ডাক দিলে মা আসবি না
মা আমার রক্ষা করো
বিপদে ডাকলে তুই আসিস মা
তুই যে আমার কালো মেয়ে
মাগো আনন্দময়ী
শ্যামা তোর চরন ছাড়া
কত নামে ডাকি তোকে মা
দয়া কর মা শ্যামা
মা তোর নামের জপ মালা
শ্যামা তুই আমার অভয়
তোর শ্রীচরণে রাখ মা মাথা
মা তোরা ভক্তির পরীক্ষা নাস
তরুণ নজরুল
ভজনধর্মী ও বৈষ্ণব ভাবনার গান
(কৃষ্ণভক্তি, রাধাকৃষ্ণ প্রেম, ভক্তিমার্গ ও বৈষ্ণব দর্শন)
রাধা নামের মালা গাঁথি
কানাই কি জানে ব্যথা আমার
শ্যাম যদি না এল হৃদয়ে
বৃন্দাবনে বাজে বাঁশি
কে গো তুমি পথিক অচিন
প্রেমের তৃষ্ণা মিটিল না
গোপনে প্রেম রাধার মাঝে
কানাই আমার প্রাণের ঠাকুর
বৃন্দাবনে যাই গো এক দিন
গিরিধারী মোর প্রাণের কান্তা
রাধার প্রেমে কানাই মজে
লীলাময় শ্যাম
হৃদয় মাঝে রাখ রে শ্যাম
বৃন্দাবন সাধন ভুবন
শ্যাম নামের রসে ডুবে
ওরে মন কানাইকে ডাক
যমুনার কূলে বসে
গোবিন্দ বল প্রাণে প্রাণে
রাধা বলে কানাই কানাই
শ্যাম মোর রাধার কান্ত
বৃন্দাবন চন্দ্র আঁধার
প্রেম বৃন্দাবনে বয়ে যায়
গোপিনী বলে কানাই রে
প্রেম সাগরে হাবু-ডুবু
হৃদয় হরণকারী শ্যাম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে অন্তিম শয়নে কবি নজরুল ইসলাম
দেশাত্মবোধক, বিদ্রোহী ও বিপ্লবী নজরুলসঙ্গীত
(স্বদেশপ্রেম, স্বাধীনতার আহ্বান ও প্রতিবাদের গান)
নজরুল শুধু কবিই নন—তিনি ছিলেন এক অগ্নিমন্ত্রের ভাষ্যকার। তাঁর গান ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে প্রেরণা জুগিয়েছে, শৃঙ্খল ভাঙার সুরে বাঙালিকে জাগিয়ে তুলেছে।
বিদ্রোহ ও জাগরণের গান
চল চল চল (নজরুলগীতি রণসংগীত)
কারার ঐ লৌহকপাট
চলরে চলরে চল
বল বীর বল উন্নত মম শির
জাগো অনশন বন্দী
মুক্তির মন্দির সোপানতলে
গাহি সাম্যের গান
ও আমার দেশের মাটি
বিদ্রোহী রণক্লান্ত
রক্তের নীশান ধর
দাসত্ব শৃঙ্খল ভাঙ
ভাঙার গান
তোরা সব জয়ধ্বনি কর
বল রে জয় বাংলা
প্রাণের চেতন জাগো
ঐ রক্তে লেখা ইতিহাস
মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দাম
বজ্র নিনাদে ডাক
ঝাণ্ডা ওড়াও
নিশান উড়িয়া গেছে
জয় বাংলা জয়
ওরে ও যুবক
আগুনের ফুলকি
স্বাধীনতার মন্ত্র
তোরা ধরো আগুন
অগ্নিবীণা বাজাও
বলরে তোরা হেঁটে যা
জাগ্রত জনতা
বিপ্লবী বীণা
রুদ্র রূপে এসো
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সঙ্গে কাজী নজরুল ইসলাম
স্বদেশ ও দেশপ্রেমের গান
আমার সোনার বাংলা (নজরুলের দেশপ্রেমমূলক গান, রবীন্দ্রনাথের গান নয়)
ও মন দেশের কথা ভাব
বাংলার মাটি বাংলার জল
মাটি আমার মা
বুকের ভেতর বাংলাদেশ
এই দেশ আমার
কান্না হাসির দেশ
তোরা দেশ গড়
আমার দেশের রক্ত
বাংলাদেশ জাগো
শিকল পরা ছায়া
এই বাংলায় কেউ দমাতে পারবে না
দেশ রক্ষার শপথ
আমার বাংলা জাগ্রত হও
বাংলার মুখ
তোরা সব বাংলার ছেলে
বিজয়ের নিশান
শপথ মোর বাংলা
বাংলাদেশ আমার গর্ব
মুক্তির ডাক এসেছে
কাজী নজরুল ইসলাম
প্রেম, বিরহ, মানবিকতা ও প্রকৃতির নজরুলসঙ্গীত
(রোমান্টিক, করুণ, মানবপ্রেম ও প্রকৃতির গান)
নজরুলের প্রেমের গান কেবল প্রেমিক–প্রেমিকার নয়—এতে আছে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, প্রকৃতির প্রতি মমতা ও জীবনের নান্দনিক ব্যথা। তাঁর রোমান্টিক গান কখনো উচ্ছ্বাসে নাচে, কখনো বিরহে কাঁদে, কখনো মানবতার ডাক দেয়।
প্রেম ও রোমান্টিক গান
তোমারে যদি চাই
পরদেশী মেঘ যাওরে ফিরে
চাঁদ নয় সে মুখ
নীল আঁখি তোরে দেখি
ও প্রেম আমার বাঁধন ছিঁড়ে গেল
জাগো প্রেম জাগো
ভালোবাসা তুই কিসের নাম
হৃদয় আমার নাচে
তুই যে আমার
প্রেমেরই পথে চলি
আমারো প্রাণে বাজে প্রেমের সুর
কে যেন আসে হৃদয় দুয়ারে
মন আমার কেন পাগল হলো
রিমঝিম বাদল দিনে
প্রেম রসে ভিজে মন
তোমার মনের কথা জানি
ও সুন্দরী
প্রেমের কাহিনি
হৃদয়খানা দিও রে
ভালোবাসা যদি ফিরে আসে
কাজী নজরুল ইসলাম
বিরহ ও বেদনাভরা গান
কেন মন কাঁদে
হারানো দিনের কথা
তুমি এলে না
চোখের জলে ভাসে স্মৃতি
একা রাত জাগে মন
ফিরে এসো প্রিয়
নীরব হৃদয়
বেদনার বেণী
বিদায়ের গান
প্রেমহারা প্রাণ
নিঃসঙ্গতা
মনের ঘরে শুধু তুমি
চোখে তুমি
কেন দূরে গেলে
কাঁদে হৃদয়
শেষ ভালোবাসা
দুঃখ পেয়েছি বলে
স্মৃতির ধুলো
আগুন জ্বালা বুকে
হারানোর গান
কাজী নজরুল ইসলাম
প্রকৃতি ও ঋতুভিত্তিক গান
ঝুম ঝুম বৃষ্টি
বসন্ত এলো
ফাগুন হাওয়া
শরতের চাঁদ
বর্ষার গান
ফুল ফুটেছে বনে
নদীর পাড়ে বসে
কোকিল ডাকে
চাঁদের আলো
শিশির ভেজা ভোর
কাজী নজরুল ইসলাম
মানবতাবাদী ও দার্শনিক গান
মানুষই আমার ধর্ম
মানব হৃদয়
জীবননদী
এই পৃথিবী
আমার ভাই
দয়া করো হে মানুষ
সকল মানুষ এক
ভ্রাতৃত্বের গান
মানুষ চিনো
প্রেম মানবতার পথ
কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর হস্তলিপি
রাগভিত্তিক ও শাস্ত্রীয় নজরুলসঙ্গীত
(হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রাগে রচিত গানসমূহ)
কাজী নজরুল ইসলাম প্রায় ২০০টিরও বেশি গানে রাগপ্রয়োগ করেছেন। তিনি নিজেই বহু গানের রাগ নির্ধারণ করেছিলেন। এখানে রাগ অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ তালিকা দেওয়া হলো—প্রতিটি রাগে উল্লেখযোগ্য নজরুলসঙ্গীত ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে।
নোট: অনেক গানের একাধিক গ্রন্থ/সংকলনে বানান বা সামান্য শিরোনামভেদ থাকতে পারে। এখানে প্রচলিত ও স্বীকৃত রূপ ব্যবহার করা হয়েছে।
রাগ: ভৈরব
জাগো মা ভৈরবী
ভৈরবী প্রভাতে জাগো
আলো ভোর হলো মা
প্রভাতী শ্যামা
১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে নজরুলকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদানের সরকারি আদেশের প্রতিলিপি
রাগ: ভৈরবী
ভৈরবী সুরে শ্যামা
নয়নের ভৈরবী
শ্যামা নামে ভৈরবী
গহন রজনী ভৈরবী
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মোহাম্মদউল্লাহ
রাগ: তোড়ি
তোড়িতে তোর নাম
করুণা তোড়ি
কান্না তোড়ি
হৃদয়ভরা তোড়ি
১৯৪০ সালে ৪২ বছর বয়সী নজরুল
রাগ: ভিমপলাশি
ভিমপলাশে প্রেম
নিতল ভিমপলাশী
সাঁঝের ভিমপলাশ
হৃদয়-পথে ভিমপলাশ
১৯২৭ সালে নজরুল
রাগ: দেশ
প্রিয়ার দেশ রাগে গান
দেশের সুর
সন্ধ্যার দেশে
শ্রাবণের দেশে
১৯২৬ সালে সিলেটে নজরুল
রাগ: মালকৌস
মালকৌস ধ্যান
অন্তরের মালকৌস
নীরব মালকৌস
মানস মালকৌস
রাগ: ইয়মন (ইমন)
ইমনে প্রেম
ইমনের আলো
ইমন রাগে ডাকি
ইমনের সন্ধ্যা
রাগ: খাম্বাজ
খাম্বাজে প্রেমলীলা
খাম্বাজে কানাই
খাম্বাজ বিরহ
শ্রাবণ খাম্বাজ
রাগ: দরবারি কানাড়া
দরবারি কানাড়া
রাজদরবারে কানাড়া
শ্যাম দরবারি
কানাড়া কান্না
রাগ: কৈশিকি কানাড়া
কৈশিকী কানাড়া সুর
নীরব কানাড়া
কানাড়া প্রেম
ব্যথার কানাড়া
রাগ: পূরিয়া ধনশ্রী
ধনশ্রী বন্দনা
পূরিয়া প্রেম
ধনশ্রী শ্যামা
ধনশ্রী বিরহ
রাগ: আশাবরি
আশাবরি প্রভাত
না পাই আশাবরি
আশার আশাবরি
আশাবরি ধ্যান
রাগ: সোহিনী
সোহিনী নিশীথ
সোহিনী কান্দে
রাত্রির সোহিনী
সোহিনী সুরধারা
রাগ: পিলু
পিলু প্রেমকা
পিলু শ্যাম
পিলু কান্না
পিলু লীলা
রাগ: বেহাগ
বেহাগে বালিকা
সন্ধ্যার বেহাগ
বেহাগ প্রেম
বেহাগ রাগিণী
রাগ: কাফি
কাফি শ্যাম
কাফিতে প্রেম
কাফি মেলায়
কাফি ব্যাকুলতা
প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, আশরাফুদ্দিন আহমদ চৌধুরী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু এবং কবি নজরুল, ১৯২৪ সালে ঢাকায়
নজরুলসঙ্গীত কেবল একগুচ্ছ গান নয়—এ এক জীবন্ত ইতিহাস, এক বিদ্রোহী আত্মার ভাষ্য, আর এক মানবিক হৃদয়ের আর্তনাদ। Kazi Nazrul Islam যেভাবে বাংলা সংগীতকে ধর্ম, বিদ্রোহ, প্রেম ও মানবতার সেতুবন্ধনে যুক্ত করেছেন, তেমন দৃষ্টান্ত বিরল। তাঁর গানে আমরা পাই আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ, মায়ের চরণে আশ্রয়, মাতৃভূমির মুক্তির আহ্বান এবং প্রেমিকার প্রতি নিবেদন—সবই এক কণ্ঠে, এক কলমে।
এই প্রবন্ধে সংকলিত নজরুলসঙ্গীতের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রমাণ করে—নজরুলের সৃষ্টিভাণ্ডার কতখানি ব্যাপক, গভীর এবং যুগান্তকারী। এটি শুধু সংরক্ষণের প্রয়াস নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক দায়িত্ব পালন। কারণ, যেই সুর আমাদের স্বাধীনতার প্রেরণা জুগিয়েছে, সেই সুরকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধার সর্বোত্তম প্রকাশ।
আজকের যুগে যখন প্রযুক্তি গানের মাধ্যম বদলে দিয়েছে, তখনও নজরুলের গান তার আবেদন হারায়নি। বরং প্রতিটি প্রজন্ম নতুনভাবে আবিষ্কার করছে তাঁর দ্রোহের ভাষা, প্রেমের কোমলতা ও বিশ্বাসের আলো। এই সংকলন সেই অনন্ত যাত্রারই একটি ক্ষুদ্র অবদান—যেখানে বাংলা সংগীতের এক বিশাল অধ্যায়কে সংরক্ষণ ও অনুসন্ধানের আলোয় তুলে ধরা হয়েছে।
নজরুলসঙ্গীত আমাদের শেখায়—গান কেবল শোনার বিষয় নয়, গান হল বাঁচার প্রেরণা, দাঁড়ানোর সাহস এবং ভালোবাসার এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
মন্তব্য