অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনস। আয়োজকদের তথ্যমতে, সন্ধ্যায় সংগীত পরিবেশন করবে দেশের জনপ্রিয় কাওয়ালি ব্যান্ড ‘সুফিতান’ এবং দেশের প্রথম কাওয়ালি ব্যান্ড হিসেবে পরিচিত ‘নাফস’। পাশাপাশি সুফি নৃত্য পরিবেশন করবে ‘এইচইউ সুফি ট্রুপ’। সংগীত ও নৃত্যের সমন্বয়ে দর্শকদের সামনে সুফি সংস্কৃতির একটি বিশেষ আবহ তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে নুসরাত ফতেহ আলী খানের সংগীতজীবন ও অবদান স্মরণে থাকবে বিশেষ ফটো গ্যালারি এবং ট্রিবিউট এক্সিবিশন। এর মাধ্যমে দর্শকেরা কিংবদন্তি এই শিল্পীর জীবন, সংগীতচর্চা ও বিশ্বসংগীতে তাঁর অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবেন। পুরো আয়োজনস্থল সাজানো হবে সুফি ভাবনায়, যাতে দর্শকেরা কেবল গান শোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে এই সংগীতধারার সাংস্কৃতিক আবহও উপভোগ করতে পারেন।
ক্যাপিটাল কার্ভ কমিউনিকেশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ‘ইশক-এ-নুসরাত’ শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়। এটি নুসরাত ফতেহ আলী খানের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের পাশাপাশি তাঁর সংগীতের চিরন্তন আবেদন উদ্যাপনের একটি উদ্যোগ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও কাওয়ালি ও সুফি সংগীতের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টায় দর্শনার্থীদের জন্য অডিটরিয়ামের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হবে। মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায় এবং চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। পরিবার নিয়ে অনুষ্ঠান উপভোগের উপযোগী পরিবেশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
সীমিত আসনের এই আয়োজনের টিকিটের দাম শুরু হয়েছে ৯৯৯ টাকা থেকে। ফলে আগ্রহী দর্শকদের জন্য টিকিটের প্রাপ্যতা সম্পর্কে আগেই খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। সংগীতপ্রেমীদের কাছে এই আয়োজন কাওয়ালির ঐতিহ্যবাহী সুর ও সুফি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি একটি স্মরণীয় সন্ধ্যা কাটানোর সুযোগ তৈরি করবে।
১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে জন্মগ্রহণ করেন নুসরাত ফতেহ আলী খান। অসাধারণ কণ্ঠস্বর, দীর্ঘ সময় ধরে সুরের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং আবেগপূর্ণ পরিবেশনার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি লাভ করেন। দক্ষিণ এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালিকে আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পরিচিত করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাওয়ালি মূলত সুফি ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত এক ধরনের ভক্তিমূলক সংগীত, যেখানে আধ্যাত্মিক প্রেম, আত্মনিবেদন ও স্রষ্টার প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। নুসরাত ফতেহ আলী খান এই ঐতিহ্যকে বৃহত্তর শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। ঐতিহ্যবাহী পরিবেশনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেও তিনি কাওয়ালির পরিচিতি বাড়িয়েছেন।
১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করলেও তাঁর সংগীতের আবেদন আজও অটুট। বিভিন্ন প্রজন্মের শ্রোতার কাছে তাঁর গান এখনো সমানভাবে সমাদৃত। ঢাকার ‘ইশক-এ-নুসরাত’ আয়োজন সেই সংগীতঐতিহ্যকে নতুন করে সামনে আনার পাশাপাশি কাওয়ালিপ্রেমীদের একত্র হওয়ার সুযোগ করে দেবে।















