তরুণ সংগীতশিল্পী আহমেদ জাকির সংগীতযাত্রায় ‘মায়াবী’ গানটি বিশেষ একটি অধ্যায় হয়ে আছে। প্রথম গান প্রকাশের পরই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল গানটি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার নতুন অ্যালবাম নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।
২০২১ সালের নভেম্বরে আহমেদ জাকির হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্যান্ডদল ‘ব্লু টাচ বাংলাদেশ’। প্রতিষ্ঠার কয়েক মাস পর ২০২২ সালের এপ্রিলে ব্যান্ডটির প্রথম গান ‘মায়াবী’ প্রকাশিত হয়। প্রথম প্রকাশিত গান দিয়েই শ্রোতাদের নজর কাড়ে দলটি। গানটির সুর, কথা ও পরিবেশনা তরুণ শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করে।
তবে ‘মায়াবী’ প্রকাশের আগে গানটি এতটা জনপ্রিয় হবে, এমন প্রত্যাশা ছিল না আহমেদ জাকির। তাঁর ভাষায়, শিল্পীরা সাধারণত নিজেদের কাজ নিয়ে প্রত্যাশা রাখেন। কিন্তু প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছিল এই গানকে ঘিরে।
‘মায়াবী’ নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে আহমেদ জাকি বলেন, মানুষ গানটিকে যেভাবে গ্রহণ করেছে, তা তাঁর ধারণারও বাইরে ছিল। শ্রোতাদের ভালোবাসাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি।
গানটি জনপ্রিয় হলেও ব্যক্তিগতভাবে আহমেদ জাকিকে অনেক শ্রোতা হয়তো এখনো সেভাবে চেনেন না। বিষয়টি তাঁকে হতাশ করে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ নিয়ে তাঁর কোনো খারাপ লাগা নেই। কারণ, তিনি নিজেকে কখনো খুব বেশি সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেননি। বরং তাঁর কোনো সৃষ্টি মানুষের ভালো লাগছে—এই বিষয়টিই তাঁকে আলাদা আনন্দ দেয়।
‘মায়াবী’ গানটির পেছনের গল্পও বেশ ভিন্ন। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট মানুষ বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে গান লেখা হয়। কিন্তু আহমেদ জাকির ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল কল্পনানির্ভর। তিনি জানিয়েছেন, কাল্পনিক একটি চরিত্রকে ভেবেই গানটি লিখেছিলেন।
মানুষের কল্পনাশক্তিকে তিনি এক ধরনের বিশেষ ক্ষমতা হিসেবে দেখেন। নিজের কল্পনায় কেউ নিজেকে জেমস বন্ড ভাবতে পারেন, আবার অন্য কোনো চরিত্রের অনুভূতির সঙ্গেও নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পারেন। ‘মায়াবী’ লেখার সময়ও এমন কল্পনার জগত থেকেই তিনি গানের ভাবনা তৈরি করেছিলেন। ফলে গানটির ‘মায়াবী’ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নন; বরং তাঁর কল্পনায় তৈরি একটি চরিত্র।
এদিকে ‘ব্লু টাচ বাংলাদেশের’ দ্বিতীয় অ্যালবাম নিয়েও ব্যস্ত সময় কাটছে আহমেদ জাকির। ইতোমধ্যে অ্যালবামটির কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আরও প্রায় এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় অ্যালবামের নাম রাখা হয়েছে ‘অমীমাংসিত’।
অ্যালবামটিতে মোট ছয়টি গান থাকবে। নতুন গানগুলো নিয়ে শ্রোতাদের আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন ব্যান্ডের সদস্যরা। প্রথম অ্যালবাম বা গানের সাফল্যের পর নতুন কাজের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চাপ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আহমেদ জাকির কথায়, তাঁর মূল লক্ষ্য জনপ্রিয়তার হিসাবের চেয়ে নিজের ভাবনা ও সংগীত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
সংগীতজীবনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তাঁর অবস্থান পরিষ্কার। তিনি গান করে যেতে চান, গেয়ে যেতে চান এবং নিজের ভাবনাগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান। অর্থাৎ সংগীতকেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখতে চান এই শিল্পী।
সংগীতের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও এ বছর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন আহমেদ জাকি। বিয়ের পরের সময়কে তিনি বর্ণনা করেছেন নতুন অনুভূতির অভিজ্ঞতা হিসেবে। তাঁর মতে, জীবনে সঠিক একজন মানুষকে পাওয়া বিশেষ এক প্রাপ্তি। সেই নতুন সম্পর্ক ও জীবনের পরিবর্তনকে তিনি উপভোগ করছেন। তাঁর ভাষায়, বেশ স্নিগ্ধতার মধ্য দিয়েই কাটছে নতুন অধ্যায়টি এবং সব মিলিয়ে তিনি ভালো আছেন।
একটি গান দিয়ে যে পরিচিতি তৈরি হয়েছিল, সেটিকে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এখন এগিয়ে যাচ্ছেন আহমেদ জাকি। ‘মায়াবী’র সাফল্যের পর ‘অমীমাংসিত’ দিয়ে তিনি শ্রোতাদের সামনে নতুন কী নিয়ে হাজির হন, সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়। ছয়টি গান নিয়ে তৈরি হতে যাওয়া অ্যালবামটি তাঁর সংগীতভাবনা ও সৃষ্টিশীলতার নতুন দিক তুলে ধরবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।















