আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বাউলশিল্পী তানিশা ও নীলার গান পরিবেশনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা আপত্তি জানান। তাঁদের অভিযোগ, এ ধরনের আয়োজন এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
এ বিষয়ে আতাউর আলী ও কামরুল হাসান স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে পুলিশ আয়োজকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে শওকত আলী অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
বাউলগানের ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত দিরাইয়ের এই ঘটনা স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। হাতিয়া গ্রামের কাছেই উজানধল, যা কিংবদন্তি বাউলশিল্পী শাহ আবদুল করিমের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। তাঁর গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলার লোকসংগীত ও বাউলধারাকে সমৃদ্ধ করে আসছে।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে সিলেটের স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের কথা ছিল। তবে ‘দিরাইয়ে ইসলামবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধ কমিটি’র বিরোধিতার মুখে ম্যাচটি বাতিল করা হয়।
পরপর দুটি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা। উদীচী সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের মতে, স্থানীয় আপত্তির কারণে এ ধরনের আয়োজন বাতিল হওয়া দুঃখজনক। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেয়েদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, এটি ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান। পরে আয়োজক পুলিশকে জানান, তিনি আর অনুষ্ঠানটি করবেন না।
স্থানীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত দিরাইয়ে এ ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—মতভিন্নতা ও আপত্তির মধ্যেও কীভাবে সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং মেয়েদের খেলাধুলার সুযোগ বজায় রাখা যায়।















