সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই জুন ২০২২, ২:২০ পিএম
বাড়ির পাশে আরশি নগর লিরিক্স | barir pashe arshi nagar lyrics | lalon shah | sahana bajpai
লালন (১৭ অক্টোবর ১৭৭৪ – ১৭ অক্টোবর ১৮৯০) ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি; যিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত। তিনি একাধারে একজন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন।
আমি একদিনও না দেখিলাম
তারে।
বাড়ির কাছে আরশী নগর
সেথা পড়শী বসত করে,
একঘর পড়শী বসত করে
আমি একদিনও না দেখিলাম
তারে।।
গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
নাই কিনারা নাই তরণী, পারে,
গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
নাই কিনারা নাই তরণী, পারে,
বাঞ্ছা করি দেখব তারে,
বাঞ্ছা করি দেখব তারে
কেমনে সেথা যাই রে, আমি
কেমনে সেথা যাই রে, আমি
একদিনও না দেখিলাম তারে।
বাড়ির কাছে আরশী নগর
সেথা পড়শী বসত করে,
একঘর পড়শী বসত করে
আমি একদিনও না দেখিলাম
তারে।।
কি বলবো পড়শীর কথা
হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা, নাই রে,
কি বলবো পড়শীর কথা
হস্ত পদ স্কন্ধ মাথা, নাই রে,
ক্ষণেক থাকে শূণ্যের উপর,
ক্ষণেক থাকে শূণ্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে,
ওসে ক্ষণেক ভাসে নীরে,
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।
পড়শী যদি আমায় ছুঁতো,
যম যাতনা সকল যেতো, দূরে,
পড়শী যদি আমায় ছুঁতো,
যম যাতনা সকল যেতো, দূরে,
সে আর লালন একখানে রয়,
সে আর লালন একখানে রয়
লক্ষ যোজন ফাঁক রে, তবু
লক্ষ যোজন ফাঁক রে,
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।
বাড়ির কাছে আরশী নগর
সেথা পড়শী বসত করে,
একঘর পড়শী বসত করে
আমি একদিনও না.. দেখিলাম তারে।।
লালন শাহ্ সম্পর্কে কিছু কথাঃ লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গান রচনা করেছেন।
তার গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ও অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। তার গানগুলো মূলত বাউল গান হলেও বাউল সম্প্রদায় ছাড়াও যুগে যুগে বহু সঙ্গীতশিল্পীর কণ্ঠে লালনের এই গানসমূহ উচ্চারিত হয়েছে। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে, ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল।
লালনের জীবন সম্পর্কে বিশদ কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে অবিকৃত তথ্যসূত্র তার নিজের রচিত ২৮৮টি গান। কিন্তু লালনের কোনো গানে তার জীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি রেখে যাননি, তবে কয়েকটি গানে তিনি নিজেকে “লালন ফকির” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তার মৃত্যুর পনেরো দিন পর কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত হিতকরী পত্রিকার সম্পাদকীয় নিবন্ধে বলা হয়, “ইহার জীবনী লিখিবার কোন উপকরণ পাওয়া কঠিন। নিজে কিছু বলিতেন না। শিষ্যরা তাঁহার নিষেধক্রমে বা অজ্ঞতাবশত কিছুই বলিতে পারে না।”
লালনের জন্ম কোথায় তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। লালন নিজে কখনো তা প্রকাশ করেননি। কিছু সূত্রে পাওয়া যায় লালন ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার (বর্তমান বাংলাদেশের) ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কোনো কোনো লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাপড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ভাড়ারা গ্রামে জন্মেছিলেন। এই মতের সাথেও অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়। একসূত্র থেকে জানা যায়, তার পিতার নাম কাজী দরীবুল্লাহ্ দেওয়ান। পিতামহের নাম কাজী গোলাম কাদির ও মাতার নাম আমিনা খাতুন।
কাজী তাদের বংশগত উপাধি। গবেষকদের ধারণা, লালন শাহের আরো দুই ভাই ছিলেন। আলম শাহ্ ও কলম শাহ্। আলম শাহ্ কলকাতা শ্রমিকের কাজ করেন। আরেক তথ্য থেকে জানা যায়, তারা চার ভাই: আলম শাহ্, কলম শাহ্, চলম শাহ্ ও লালন শাহ্। চলম শাহ নামে ভাই ছিল না বলে মনে করা হলেও মলম শাহ্ নামে আরেক ভাই ছিলেন। ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে আলম ও মলম মৃত্যুমুখে পতিত হন। লালন ফকির জীবকা জন্য হরিশপুরের দক্ষিণ পাড়ার ইনু কাজীর বাড়ি আশ্রয় নেন।
মন্তব্য