সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জানুয়ারি ২০২৩, ১:৯ পিএম

হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বিশাল সাগরে এমন কিছু রাগ রয়েছে, যা গভীর শাস্ত্রীয় নিয়মে বাঁধা থাকলেও তার ভেতরে লুকিয়ে থাকে মাটির সুবাস আর লোকজীবনের চেনা সুর। এমনই এক অনন্য ও মধুর রাগের নাম ‘রাগ মাণ্ড’ (বা রাগ মান্দ)। রাজস্থানের মরুভূমির তপ্ত হাওয়া আর লোকগাথার লোকসুরের (Folk melody) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই রাগটি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আঙিনায় এক বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।
Table of Contents
উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের অনেক রাগই বেশ জটিল ও গম্ভীর প্রকৃতির হলেও ‘রাগ মাণ্ড’ তার ব্যতিক্রম। এটি মূলত রাজস্থানের বিখ্যাত ‘মাণ্ড’ লোকগীতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের রূপ লাভ করেছে। এই রাগের ভেতরে যে চপলতা, মাধুর্য আর লোকসুরের দোলা রয়েছে, তা যেকোনো সাধারণ শ্রোতার মনকেও এক লহমায় ছুঁয়ে যায়। হালকা ধ্রুপদী সঙ্গীত, ঠুমরি, গজল কিংবা ভজনের জন্য রাগ মাণ্ড অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি পছন্দ।
অনেকে রাগ মাণ্ডের সুরের সাথে রাগ ‘আশা’-র মিল খুঁজে পান। প্রকৃতপক্ষে, এই দুই রাগের স্বর গঠন বা ব্যবহৃত স্বরগুলো একই হলেও এদের গায়কী এবং চলনের (সুর বিস্তারের ধরণ) মধ্যে বেশ স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আর এই চলনের ভিন্নতাই রাগ মাণ্ডকে এক স্বতন্ত্র সৌন্দর্য দান করেছে।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নিয়মানুযায়ী রাগ মাণ্ডের মূল কাঠামো ও পরিচিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
রাগটির সুরের গতিপ্রকৃতি ও চলন বোঝার জন্য এর প্রধান স্বরলিপি নিচে দেওয়া হলো:
আরোহণ: স র ম প ধ র্স
অবরোহণ: র্স ন ধ p ম গ র স
পকড় (রাগের মূল রূপ): মগর, ম, পধ, মগর, সন্ধ্, স

এই রাগের তাত্বিক ও ক্রিয়াত্মক পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণের জন্য প্রখ্যাত সঙ্গীত গবেষক শক্তিপদ ভট্টাচার্য রচিত এবং ১৫ এপ্রিল ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত ‘উচ্চাঙ্গ ক্রিয়াত্মক সঙ্গীত’ গ্রন্থটির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
রাগ মাণ্ড আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের মূল উৎস কিন্তু আসলে এদেশের মাটির গানই। রাজস্থানি লোকসুর থেকে এসে বিলাবল ঠাটের এই রাগটি যেভাবে ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিকে নিজের জায়গা করে নিয়েছে, তা সত্যিই বিস্ময়কর। যেকোনো শান্ত রাতে রাগ মাণ্ডের সেতারের আলাপ বা ঠুমরি শুনলে মনটা এক নিমেষেই হারিয়ে যায় দূর কোনো দিগন্তে।
রাগ-সঙ্গীত নিয়ে তৈরি এই সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্রটি আপনার কেমন লাগল, তা আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। ভালো লাগলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না!
মন্তব্য