Table of Contents
গানের বিস্তারিত তথ্য
| তথ্যবিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| গানের নাম | অবুঝ কালে যার অন্তরে |
| গীতিকার ও সুরকার | মুজিব পরদেশী |
| মূল কণ্ঠশিল্পী | মুজিব পরদেশী |
| সংগীতধারা | লোকসংগীত / বিচ্ছেদ ও বিরহ অঙ্গ |
| সুরশৈলী | গ্রামীণ লোকজ সুর / ফোক মেলোডি |
| মূল উপজীব্য | কৈশোরের প্রেমের স্মৃতি, অন্তর্দহন, প্রেমের স্বতঃস্ফূর্ততা ও একতরফা যন্ত্রণা |
| প্রধান অনুষঙ্গ | অন্তরের অনল, চিরন্তন বিরহ ও স্মৃতির অবিচ্ছেদ্যতা |
অবুঝ কালে যার অন্তরে [ Obujh kale jar ontore ] | মুজিব পরদেশী
গীতিকারঃ মুজিব পরদেশী
প্রথম রেকর্ডের কন্থশিল্পীঃ মুজিব পরদেশী
অবুঝ কালে যার অন্তরে লিরিক্স :
অবুজকালে যার অন্তোরে এ এএ…
প্রেমের ই দাগ লাগে এএএএ ..
তারে কি আর যায় রে ভোলা
মরণেরই কালে ।
অবুজকালে যার অন্তরে এ এ এ…
প্রমেরই দাগ লাগে এ এ এএএএএ…
তারে কি আর যায় রে ভোলা মরণেরই কাল এ এএ..
তারে কি আর যায়রে ভোলা মরণেরই কাল এ এএ..।।
প্রেম কভু যায় না করা, প্রেমি হইয়া যায়..
একবার মনে মন মিশিলে
ছাইড়া থাকা দায়।।
প্রেম কভু যায় না করা প্রেমী হইয়া যায়..
একবার মনে মন মিশিলে
ছাইরা থাকা দায়।।
আমার রাইতে চোখে ঘুম আসেনা রেএ এ …
সে কি নিশি জাগে এ এ এ..
তারে কি আর যায় রে ভোলা
মরণেরই কাল এ এএ..।।
প্রেমের জ্বালা তো সেই অনন
জ্বোলে যার অন্তরে এ এএএ…
সেবিনেকী হায়রে জ্বালা বুঝবে কেমনে…।
প্রেমের জ্বালা তো সেই অনন
জ্বোলে যার অন্তরে এ এএএ…
সেবিনেকী হায়রে জ্বালা বুঝবে কেমনে…।
আমার বন্ধু আছে পরম সুখে রে এ এএএ..
বেথ্যায় আমার মনে এ এএএ..
তারে কি আর যায়রে ভোলা
মরণেরই কাল এ এএ..।।
তারে কি আর যায়রে ভোলা
মরণেরই কাল এ এএ..।।
অবুজ কালে যার অন্তরে প্রেমের ই দাগ লাগে এ এ
তারে কি আর যায়রে ভোলা
মরণেরই কাল এ এএ..।।
তারে কি আর যায়রে ভোলা
মরণেরই কাল এ এএ..।।
গানের মূল ভাব
চরণ ও স্তবক বিশ্লেষণ
১. আদি প্রেমের স্থায়ী ক্ষত
- “অবুঝ কালে যার অন্তরে প্রেমেরই দাগ লাগে / তারে কি আর যায় রে ভোলা মরণেরই কালে…”গানটির সূচনাই হয় এক অমোঘ দার্শনিক উচ্চারণ দিয়ে। বয়সের অপরিণত সময়ে হৃদয়ে প্রেমের যে বীজ অঙ্কুরিত হয়, তা সারা জীবন ধরে এক অমলিন ক্ষত বা ‘দাগ’ হয়ে থেকে যায়। মৃত্যু ছাড়া সেই স্মৃতির বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় থাকে না।
২. প্রেমের স্বতঃস্ফূর্ততা ও মনের মিলন
- “প্রেম কভু যায় না করা, প্রেমী হইয়া যায় / একবার মনে মন মিশিলে ছাইড়া থাকা দায়…”প্রেম কোনো হিসাব-নিকাশ করে বা জোর করে গড়ে তোলা যায় না; মানুষ অজান্তেই এর জালে জড়িয়ে পড়ে প্রেমিক হয়ে ওঠে। দুটি মনের মাঝে একবার যদি নিঃশর্ত সংযোগ ঘটে যায়, তবে সমাজ বা দূরত্বের কারণে আলাদা হয়ে থাকা দুঃসহ হয়ে দাঁড়ায়।
৩. অন্তরের অনল ও বেদনার অসমতা
- “প্রেমের জ্বালা তো সেই অনল জ্বলে যার অন্তরে / সে বিনে কি হায়রে জ্বালা বুঝবে কেমনে…”প্রেমের বিরহকে আগুনের লেলিহান শিখা বা ‘অনল’-এর সাথে তুলনা করা হয়েছে। যার বুকে এই আগুন জ্বলে, কেবল সেই এর তীব্রতা অনুভব করতে পারে; বাইরের মানুষের পক্ষে এই অদৃশ্য দহন উপলব্ধি করা অসম্ভব।
- “আমার বন্ধু আছে পরম সুখে রে… ব্যথায় আমার মনে…”এখানে বিচ্ছেদের চরম নির্মম বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। যে মানুষটির জন্য প্রেমিকের হৃদয় পুড়ে ছাই হচ্ছে, সে হয়তো অন্য জগতে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত ও সুখে দিন কাটাচ্ছে। এই বৈপরীত্য প্রেমিকের কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
সাহিত্যিক ও লোকজ বৈশিষ্ট্য
- সহজ মেঠো ভাষার তীব্রতা: কোনো কৃত্রিম সাধু বা পণ্ডিতি শব্দের আশ্রয় না নিয়ে গ্রামীণ মানুষের মুখের সরল কথ্যভাষায় মনের গভীরতম হাহাকার প্রকাশ করা হয়েছে।
- অনল ও দাগের রূপক: ‘দাগ’ এবং ‘অনল’—এই দুটি মৌলিক রূপকের মাধ্যমে ভালোবাসার স্মৃতি ও তার দহনের স্থায়িত্বকে অত্যন্ত মূর্ত করে তোলা হয়েছে।
- আবেগীয় মনস্তত্ত্ব: প্রিয় মানুষের অবহেলা জানা সত্ত্বেও তার প্রতি কোনো অভিশাপ নয়, বরং নিজের ভাগ্যকে মেনে নিয়ে নীরব দহনের যে আকুতি প্রকাশ পেয়েছে, তা বাংলা লোকগীতির চিরায়ত স্বভাব।
সংগীততাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও গায়কী
- মুজিব পরদেশীর স্বকীয় কণ্ঠরীতি: লোকসংগীতশিল্পী মুজিব পরদেশীর কণ্ঠে যে এক ধরনের কান্নাজড়িত আর্তি ও ব্যথিত টান থাকে, তা এই গানের বিরহের আবহকে সরাসরি শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দেয়।
- ভাটি ও বিচ্ছেদ সুরের চলন: গানটি ধীর ও মধ্যম লয়ের মাইনর স্কেলের লোকজ চালে সুরারোপিত। দোতারা, বাঁশি এবং তবলার মৃদু সঙ্গত গানের বিরহী মেজাজকে প্রগাঢ় করে তোলে।
শিল্পী পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
- মুজিব পরদেশী (মুজিবুর রহমান মোল্লা): করাচিতে জন্ম নেওয়া ও পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই গুণী শিল্পী ওস্তাদ গোলাম হায়দার আলী খান ও ওস্তাদ ফজলুল হকের মতো শাস্ত্রীয় সংগীতের গুরুদের সান্নিধ্যে আসেন। কিংবদন্তি লোকসংগীতশিল্পী আবদুল আলীমের সংস্পর্শে তিনি মেঠো গানের আত্মাকে ধারণ করেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শব্দসৈনিক হিসেবেও তিনি অবদান রেখেছিলেন।
- সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা: আশির দশকের অডিও ক্যাসেট বিপ্লবের সময় তাঁর গাওয়া বিচ্ছেদ গানগুলো ঘরে ঘরে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। “অবুঝ কালে যার অন্তরে” গানটি চার দশক পেরিয়ে আজও বাংলা লোকগীতির বিরহধারায় এক অনন্য ও জনপ্রিয় সৃষ্টি হিসেবে নতুন প্রজন্মের কাছে সমাদৃত।
উৎস ও তথ্যসূত্র
- বাংলাদেশ লোকসংগীত ও লোকসংস্কৃতি গবেষণা সেল।
- মুজিব পরদেশীর অফিসিয়াল অডিও আর্কাইভ (আশির দশকের মূল ক্যাসেট প্রকাশনা)।
- আধুনিক বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাস ও বিবর্তন।
সব ধরনের প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাংলা গানের কথা সংগ্রহ করে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য প্রকাশে কাজ করছে ‘লিরিক ডেস্ক’। আপনার কাঙ্ক্ষিত গানটি আমাদের ওয়েবসাইটে না পেলে জানান; আমরা তা সংগ্রহ করে দ্রুত আপলোড করে দেব।







![অবুঝ কালে যার অন্তরে [ Obujh kale jar ontore ] | মুজিব পরদেশী 1 মুজিব পরদেশী](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/2023/02/মুজিব-পরদেশী.png)





