সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই অক্টোবর ২০২২, ৭:৪৮ পিএম
পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী উপমহাদেশের একজন নামকরা সঙ্গীত শিল্পী। ক্লাসিক্যাল সঙ্গিত এ অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন ২০১৬ সালে।
Table of Contents
ফরিদপুর জেলার চৌদ্দরশি গ্রামে ১৯২৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী। ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বাইশরশির জমিদার রায় বাহাদুর মহেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী, তার চার ছেলে অবিনাশ রায় চৌধুরী, ভূপতি রায় চৌধুরী, সুকুমার রায় চৌধুরী, গৌর গোপাল রায় চৌধুরী।
তাদের মধ্যে ভূপতি রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায় চৌধূরী ছিলেন চিরকুমার। গৌর গোপাল রায় ছিলেন নিঃসন্তান। বড় ছেলে অবিনাশ রায় চৌধুরীর একমাত্র পুত্র অমরেশ রায় চৌধুরী। ১৯৭১ সালের পুর্বেই তিন ভাই মারা যান। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর আত্মহত্যা করেন সুকুমার রায় চৌধুরী।
স্বাধীনতার যুদ্ধ চলাকালে অবিনাশ রায়ের একমাত্র পুত্র অমরেশ রায় মা রাজলক্ষ্মী রায় চৌধূরীকে নিয়ে রাজশাহীতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে রাজশাহীতেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সহধর্মিণী সোনালী রায় চৌধুরী ও দুই ছেলে অভিজিৎ ও অমিত, দুই পুত্রবধু এবং নাতি নাতনিদের নিয়ে তার সংসার জীবন।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় তার মা রাজলক্ষী রায় চৌধুরীর একান্ত আগ্রহে প্রথম হাতে খড়ি হয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত কলাকার ও বিশিষ্ট সুরকার ফরিদপুরের সুধীর লাল চক্রবর্তী-এর কাছে। প্রখ্যাত উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত কলাকার ও বিশিষ্ট সুরকার সুধীর লাল চক্রবর্তীর আকস্মিক মৃত্যুর পরে সিরাজগঞ্জের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতশিল্পী হরিহর শুক্লা (ভারত বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী হৈমন্তী শুক্লার পিতা) এর কাছে কয়েক বছর তালিম নেন পরে সুদীর্ঘ কয়েক বছর উপমহাদেশীয় মার্গ সঙ্গীতের স্বনামধন্য সঙ্গীত সাধক সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী-এর কাছে ধ্রুপদ, খেয়াল ও ঠুংরীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
এছাড়া বিশিষ্ট শিল্পী ও সুরকার নিখিলচন্দ্র সেন-এর কাছে আধুনিক গান, অতুলপ্রসাদ, রাগপ্রধান, নজরুল সঙ্গীত ও শ্যামা সঙ্গীত শিক্ষা গ্রহণ করেন। এছাড়া সঙ্গীত কলাকার মানস চক্রবর্তী-এর নিকটেও বেশ কয়েক বছর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে তালিম নেন । ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিক পাশ করার পর লেখাপড়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সাথে সাথে একান্ত নিষ্ঠার সঙ্গে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিক্ষা ও চর্চা অব্যাহত থাকে।
অমরেশ রায় চৌধুরী বর্তমানে রাজশাহীর ‘শিল্পাশ্রম ললিতকলা একাডেমি’-তে সঙ্গীতের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি নিজেই ‘সঙ্গীতাশ্রম’ নামে একটি সঙ্গীতের প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।
কাজী নজরুল ইসলামের গানগুলির আদি রেকর্ড থেকে আদি সুর উদ্ধার করে তারপর সেগুলোর স্বরলিপি করেছেন তিনি।
মন্তব্য