অমিত ত্রিবেদী একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতজ্ঞ। তিনি তার সঙ্গীত পরিচালনার জন্য চলচ্চিত্র জগতে ভালোই পরিচিত। ২০০৮ সালে অমিত আমির চলচ্চিত্রে সর্বপ্রথম সঙ্গীত পরিচালনা করেন, এর আগে তিনি মঞ্চ নাটকে সঙ্গীত পরিচালনা করতেন। পরের বছর ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া দেব.ডি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার জন্য অমিত প্রশংসিত হন। এই দেব.ডি চলচ্চিত্রের জন্য অমিত বেশ কয়েকটি পুরস্কার পান তন্মধ্যে ছিলো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে)।
Table of Contents
অমিত ত্রিবেদী । ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতজ্ঞ
পূর্ব জীবন
অমিতের জন্ম মুম্বাইের বান্দ্রাতে হয়েছিলো, অমিতের বাবামা ছিলেন গুজরাটি, অমিতের মাতৃভাষা গুজরাটি হলেও অমিত মারাঠি, হিন্দি এবং তামিল ভাষা শিখে নিয়েছিলেন নিজ চেষ্টায়। গ্রামীণ গুজরাটি সঙ্গীতেও অমিতের প্রশিক্ষণ আছে। অমিতদের পূর্বসূরী নিবাস হচ্ছে গুজরাটের আহমেদাবাদে।
কর্মজীবন
অমিত কলেজ জীবন থেকেই সঙ্গীতের ব্যাপারে আগ্রহী এবং তিনি মঞ্চ নাটকে সঙ্গীত পরিচালনা করেন সেই কলেজের শুরুর দিক থেকেই যদিও তখন তিনি মূলত গাইতেন। তিনি তার কলেজ- বন্ধুদের নিয়ে একটি এলবামও বের করেছিলেন যদিও সেই এলবামের ক্যাসেট মানুষ কেনেনি কারণ অমিতের গান কেবল তার এবং তার বন্ধুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো।
কলেজে অমিত মঞ্চ নাটকে অভিনয়ও করতেন, মারাঠি এবং হিন্দি ভাষার নাটকে তিনি অভিনয় করতেন। কলেজ শেষ করে অমিত বিভিন্ন টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের সঙ্গীত পরিচালনা (আবহ সঙ্গীত/প্রকৃত সঙ্গীত) এর কাজ পেয়ে যান তার বন্ধুদের সাহায্যেই। তিনি ম্যাকডোনালডসের (ভারত) বিজ্ঞাপনেও সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন। ২০০৪ সালে তিনি একটি মারাঠি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
অনুরাগ কাশ্যপ, যিনি তখন পরিচালক হিসেবে তখন মোটামুটি নতুনই বলা যায়, তার কাছে অমিতকে শিল্পা রাও (গায়িকা) নিয়ে যান, আর অনুরাগের অনুরোধে অমিত ‘আমির’ (২০০৮) চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার সুযোগ পান।
এরপর অমিত ‘দেব.ডি’ (২০০৯), চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন, যেটার পরিচালক ছিলেন কাশ্যপ। দেব.ডি চলচ্চিত্রটির ‘ইমোশনাল অত্যাচার’, ‘ও পরদেশী’ এবং ‘সালি খুশী’ গান তিনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়।
২০০৯ সালের ওয়েক আপ সিড চলচ্চিত্রটির আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছিলেন অমিত, চলচ্চিত্রটির সব গানের সুর শঙ্কর-এহসান-লয় করলেও ‘ইকতারা’ গানটির সুর অমিত করেছিলেন।

পুরস্কার
অমিত দেব.ডি চলচ্চিত্রটির জন্য শ্রেষ্ঠ আবহ সঙ্গীত বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান অমিত, এছাড়াও তাকে ফিল্মফেয়ার আর. ডি. বর্মণ পুরস্কার দেওয়া হয়।তারপর তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত)ও জিতে নেন।
