সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২:১৬ পিএম
আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো গানটি একটি নজরুল গীতি । নজরুলগীতি বা নজরুল সঙ্গীত বাংলাভাষার অন্যতম প্রধান কবি ও সংগীতজ্ঞ কাজী নজরুল ইসলাম লিখিত গান। কাজী নজরুল ইসলাম তার সীমিত কর্মজীবনে তিনি ৫৬০০-এরও বেশি গান রচনা করেছেন।
আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো [ Amar Kon Kule Aj Vijlo Tori ]
গানের জনরাঃ নজরুল সঙ্গীত
কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী
এ কোন সোনার গাঁয়
কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী
এ কোন সোনার গাঁয়
আমার ভাটির তরী আবার কেন
আমার ভাটির তরী আবার কেন
উজান যেতে চায়
আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী
এ কোন সোনার গাঁয়
দুখেরে কান্ডারী করি
আমি ভাসিয়ে ছিলাম ভাঙ্গা তরী
তুমি ডাক দিলে কি স্বপন পরী
নয়ন ইশারায়
কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী
এ কোন সোনার গাঁয়
নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
ডেকেছিলে ঝড়ের রাতি
কে এলে মোর সুরের সাথি
গানের কিনারায়
সোনার দেশের সোনার মেয়ে
ওগো হবে কি মোর তরীর নেয়ে
ভাঙ্গা তরী চল বেয়ে
রাঙা অলকায়
কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী
এ কোন সোনার গাঁয়
আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো গানের গীতিকার কাজী নজরুল ইসলাম বিংশ শতাব্দীর প্রধান বাঙালি কবি ও সঙ্গীতকার। তার মাত্র ২৩ বৎসরের সাহিত্যিক জীবনে সৃষ্টির যে প্রাচুর্য তা তুলনারহিত। সাহিত্যের নানা শাখায় বিচরণ করলেও তার প্রধান পরিচয় ছিল তিনি কবি । ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত।পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। তার বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম। নজরুলের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড় কাজী সাহেবজান ও কনিষ্ঠ উম্মে কুলসুম।কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”।১৯০৮ সালে তার পিতার মৃত্যু হয়, তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর। পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে জীবিকা অর্জনের জন্য কাজে নামতে হয় তাকে। এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন। মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেন না।বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমাণ নাট্যদল) দলে যোগ দেন। তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট উস্তাদ ছিলেন এবং আরবি, ফার্সি ও উর্দূ ভাষায় তার দখল ছিল। এছাড়া বজলে করিম মিশ্র ভাষায় গান রচনা করতেন।
তিনি আগস্ট ২৯- ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন ।
মন্তব্য