আমির খসরু ঘরানা [ Amir Khusro Gharana ]: ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সংগীতজ্ঞ আবুল হাসান জামিনুদ্দিন খসরু প্রবর্তন করেন ‘আমির খসরু ঘরানা’। দিল্লির অধিপতি গিয়াসউদ্দিন বলবনের আনুকূল্য লাভ করে রাজসভায় তিনি আমির খসরু বা সম্ভ্রান্ত রাজবংশীয় বলে পরিচিত হন। সেখানে তিনি একাধারে রাজনীতিক, দার্শনিক, সাহিত্যিক, কবি ও উচ্চস্তরের সংগীতশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
এ সময় তিনি সুফি নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সুফি মতবাদ সম্পর্কে প্রচুর জ্ঞান অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাদশাহ আলাউদ্দিন খিলজির সভাগায়ক, ধর্মগুরু ও প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেন। খেয়াল গান, তারানা, গজল, কাওয়ালি, খামসা, বাদ্যযন্ত্র — সেতার, ঢোল, তবলা-বাঁয়া এবং রাগ ইমন, পূরবী, জিলফ, সোহানা, পুরিয়া, সাজগির, বরারি, সনম, নিগার ইত্যাদি উদ্ভাবন ও প্রবর্তন সংগীতক্ষেত্রে তাঁর অমূল্য অবদান।
[ আমির খসরু ঘরানা [ Amir Khusro Gharana ] ]
তৎকালীন সময়ে সংগীতে এক নিজস্ব ঢঙের প্রবর্তন করে তিনি ‘আমির খসরু ঘরানা’ প্রতিষ্ঠিত করেন। এই ঘরানার গায়নশৈলীতে গভীর ভক্তিরসসহকারে সৃষ্টিকর্তার বন্দনা ও রাজাধিরাজের প্রশংসা গুরুত্বসহকারে প্রস্ফুটিত হয়। সংগীতজ্ঞ আমির খসরু সাহেবের তিন পুত্রের মধ্যে কলাকার ফিরোজ খাঁ সেতারবাদক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেন। পিতার উদ্ভাবিত ঘরানার ধারক ও বাহক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় হয়ে আছেন তিনি চির উজ্জ্বল।

তবে তাঁর সুযোগ্য পুত্র ওস্তাদ মজিদ খাঁ সাহেবই আমির খসরু ঘরানার সফল উত্তরসাধক হিসেবে আজো সর্বাধিক সম্মানের অধিকারী। বংশপরম্পরায় শিষ্য ও প্রশিষ্যগণ এই ঘরানার প্রচার ও প্রসারে ব্রতী হন। হজরত আমির খসরু সাহেবের নাতি সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ মজিদ খাঁ প্রবর্তিত গতের বাজ ‘মজিদখানি’ নামে বহুল প্রচারিত। বর্তমানে এই ঘরানার উত্তরসূরিরা তবলাশিল্পী হিসেবেই সংগীতভুবনে খ্যাতিমান।
মসিতখানি ও রেজাখানি গাত [ Masitkhani and Rezakhani Gat ]:
