“আমি তোর পিরিতের মরা” গানটি লিখেছেন বাঙালি বাউল সাধক উকিল মুন্সী, গেয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী ।
আমি তোর পিরিতের মরা [Ami tor piriter mora]
গীতিকারঃ উকিল মুন্সী
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ বারী সিদ্দিকী
আমি তোর পিরিতের মরা [Ami tor piriter mora]
আমি তোর পিরিতের মরা
আমি তোর পীরিতের মরা বন্ধু
চাইয়া দেখনা এক নজর বন্ধুরে
অপরাধী হলেও আমি তোর
তোররে বন্ধু
অপরাধী হলেও আমি তোর
আমায় যদি দাও তাড়াইয়া
এমন জায়গা নাইরে গিয়া
এ অভাগার জুড়াইতাম অন্তর
তুমি যদি ভিন্নবাসো
আমি তোরে কইনা পর
কত দুঃখ আমার বুকে
দেখতে আসে পাড়ার লোকে
তোর কি নাই কলঙ্কেরই ডর
আমি যদি যাই মরিয়া
কে করবে তোরে আদর ।।
বারী সিদ্দিকীঃ
বারী সিদ্দিকী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তিনি তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’ প্রভৃতি গানের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোণার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন।
তিনি গোপাল দত্ত এবং ওস্তাদ আমিনুর রহমান থেকে লোক এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পাঠ নিয়েছেন। মূলত বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রেরণায় নব্বইয়ের দশকে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন এবং অল্পদিনেই বিরহ-বিচ্ছেদের মর্মভেদী গানের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।
২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
উকিল মুন্সীঃ
আমি তোর পিরিতের মরা গানের গীতিকার উকিল মুন্সী একজন বাঙালি বাউল সাধক। তার গুরু ছিলেন আরেক বাউল সাধক রশিদ উদ্দিন। তার অসংখ্য গানের মধ্যের আষাঢ় মাইস্যা ভাসা পানি রে, সোনা বন্ধুয়া রে এতো দুঃখ দিলে তুই আমারে উল্লেখযোগ্য। উকিল মুন্সীর অনেক জনপ্রিয় গান আজও উচ্চারিত হয় সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ।
নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুড়ির নূরপুর বোয়ালীগ্রামে ১৮৮৫ সালের ১১ জুন একটি ধনাঢ্য মুসলিম পরিবারে উকিল মুন্সী জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম আব্দুল হক আকন্দ। তার পিতার নাম গোলাম রসুল আকন্দ ও মাতা উকিলেন্নেসা। শৈশবে তিনি ঘেটুগানে যোগ দেন। পরে গজল ও পরিণত বয়স থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত বাউল সাধনায় লিপ্ত থাকেন। তার গজল গানের সূত্রপাত হয় তরুণ বয়সে। তার চাচা কাজী আলিম উদ্দিনের বাড়ি মোহনগঞ্জ থানার জালালপুর গ্রামে বেড়াতে যান।
![আমি তোর পিরিতের মরা [Ami tor piriter mora] 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 আমি তোর পিরিতের মরা [Ami tor piriter mora]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
সেখানে ধনু নদী পারের এক গ্রামের লবু হোসেনের মেয়ে হামিদা খাতুনের (লাবুশের মা) প্রেমে পড়ে যান তিনি। এই প্রেম নিয়ে তিনি লিখেন “উকিলের মনচোর” নামক একটি গান। তার চাচা এই প্রেমের কথা জানার পর হামিদার বাবা সাধারণ কৃষক হওয়ায় তাকে পরিবার থেকে বাঁধা দেন। তিনি বাড়ি ছেড়ে শ্যামপুর, গাগলাজোর, জৈনপুরে ঘুরে বেড়ান। ১৯১৫ সালে জালালপুর গ্রাম থেকে কয়েক মাইল দূরে মোহনগঞ্জের বরান্তর গ্রামের এক মসজিদে ইমামতি ও আরবি পড়ানোর কাজে নিযুক্ত হন। এই সময়ে ইমামতির পাশাপাশি গজল লিখতেন এবং রাত জেগে তা গাইতেন।
সব ধরনের প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাংলা গানের কথা সংগ্রহ করে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য প্রকাশে কাজ করছে ‘লিরিক ডেস্ক’। আপনার কাঙ্ক্ষিত গানটি আমাদের ওয়েবসাইটে না পেলে জানান; আমরা তা সংগ্রহ করে দ্রুত আপলোড করে দেব।







![আমার সাদা দিলে কাঁদা লাগাই গেলি রে বন্ধুয়া [Sada dile kada lagai geli] মুজিব পরদেশী 3 মুজিব পরদেশী](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/2023/02/মুজিব-পরদেশী-1024x576.png)





