“এ জীবনে যারে চেয়েছি” গানটী গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর এবং সাবিনা ইয়াসমিন । এবং গানটি রচনা করেছেন মনিরুজ্জামান মনির । মনিরুজ্জামান মনির একজন বাংলাদেশী গীতিকার।
এ জীবনে যারে চেয়েছি [ E jibone jare cheyechi ]
গীতিকারঃ মনিরুজ্জামান মনির
সুরকারঃ খুরশিদ আলম খান
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ এন্ড্রু কিশোর এবং সাবিনা ইয়াসমিন
Table of Contents
এ জীবনে যারে চেয়েছি [ E jibone jare cheyechi ]
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি,
তুমি আমার সেই তুমি আমার
তোমারে খুঁজে পেয়েছি।
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি,
তুমি আমার সেই তুমি আমার
তোমারে খুঁজে পেয়েছি।
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি।
তুমি ছিলেনা ছিলনা আশা
তোমায় পেয়ে আশা বেঁধেছে বাসা ।
তুমি ছিলেনা ছিলনা আশা
তোমায় পেয়ে আশা বেঁধেছে বাসা ,
ফুটালে আমার মুখে সুখের ভাষা।
ও….ও….ও….ও….
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি,
তুমি আমার সেই তুমি আমার
তোমারে খুঁজে পেয়েছি।
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি।
তুমি নয়নে নয়নে শুধু
প্রাণের প্রিয় তুমি রাঙ্গা বধু ।
তুমি নয়নে নয়নে শুধু
আমি যে তোমার ওগো রাঙ্গা বধু ,
করেছো আমায় ওগো এ কোন যাদু।
ও….ও….ও….ও….
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি।
তুমি আমার সেই তুমি আমার
তোমারে খুঁজে পেয়েছি।
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি।
তুমি আমার সেই তুমি আমার
তোমারে খুঁজে পেয়েছি।
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি।
এ জীবনে যারে চেয়েছি
আজ আমি তারে পেয়েছি।
মনিরুজ্জামান মনির:
মনিরুজ্জামান মনির একজন বাংলাদেশী গীতিকার। ১৯৭০ সালে তিনি বেতারের তালিকাভুক্ত গীতিকার হন। পরে তিনি চলচ্চিত্রের জন্যেও গীত রচনা করেন। বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের গীত রচনায় অবদানের জন্য তিনি তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।মনিরুজ্জামান মনির ১৯৫২ সালের ২৮ জানুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার তেঘরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মনিরুজ্জামান তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই তিনি দৈনিক পয়গাম, দৈনিক পাকিস্তান, সবুজপাতায় নিয়মিত ছড়া লিখতেন। তার মামা উজির মিয়া ছিলেন সিলেট বেতারের কণ্ঠশিল্পী। তার সহযোগিতায় কিশোর বয়সেই তিনি বেতারের জন্য গান লেখার সুযোগ লাভ করেন।
আলম খানঃ
খুরশিদ আলম খান বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং সঙ্গীত পরিচালক । আলম খান ১৯৪৪ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের সিরাজগঞ্জের বানিয়াগাতি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আফতাব উদ্দিন খান ছিলেন সেক্রেটারিয়েট হোম ডিপার্টমেন্ট এর এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার ও মা জোবেদা খানম ছিলেন গৃহিণী।
স্কুলে থাকাকালীন তার গানের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি হয়। বাবা আফতাব উদ্দিন প্রথমে অনাগ্রহ দেখালেও মায়ের উৎসাহে গানের চর্চা চালিয়ে যান। পরবর্তীতে তার বাবাই তাকে ওস্তাদ ননী চ্যাটার্জীর কাছে গানের তালিমের জন্য নিয়ে যান। পাঁচ ভাই তিন বোনের মধ্যে আলম খান মেজো।
![এ জীবনে যারে চেয়েছি [ E jibone jare cheyechi ] 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 এ জীবনে যারে চেয়েছি [ E jibone jare cheyechi ]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
আলম খান ১৯৬৩ সালে রবিন ঘোষের সহকারী হিসেবে তালাশ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। ১৯৭০ সালে প্রথম চলচ্চিত্রকার আব্দুল জব্বার খান পরিচালিত কাচ কাটা হীরে চলচ্চিত্রের মাধ্যমে এককভাবে সঙ্গীত পরিচালনা শুরু করেন। তার সুরকৃত প্রথম জনপ্রিয় গান স্লোগান ছায়াছবির “তবলার তেড়ে কেটে তাক”। এরপর ১৯৭৭ সালে আবদুল্লাহ আল মামুন তার পরিচালিত সারেং বৌ চলচ্চিত্রের গান নিয়ে কথা বলার সময় তার ১৯৬৯ সালের সুর করা একটি মুখরা শুনালে ছবির পরিচালক তা নিতে আগ্রহী হন। ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সেই ছবির আবদুল জব্বারের কণ্ঠে “ওরে নীল দরিয়া” গানটি তার এক অনন্য সৃষ্টি।
এন্ড্রু কিশোরঃ
এন্ড্রু কিশোর একজন বাংলাদেশী গায়ক । এন্ড্রু কিশোর ১৯৫৫ সালের ৪ঠা নভেম্বর রাজশাহী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ এবং মাতা মিনু বাড়ৈ রাজশাহীর একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন ।মায়ের কাছে পড়াশোনায় হাতেখড়ি হয়েছিল। তার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনকাল কেটেছে রাজশাহী।এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত মেইল ট্রেন চলচ্চিত্রের “অচিনপুরের রাজকুমারী নেই” গানের মধ্য দিয়ে।
১৯৮৭ সালে তিনি সারেন্ডার চলচ্চিত্রে আলম কানের সুরে তিনটি গানে কণ্ঠ দেন, সেগুলো হল “সবাইতো ভালোবাসা চায়”, “গুন ভাগ করে করে”, ও “ঘড়ি চলে ঠিক ঠিক”। তন্মধ্যে প্রথমোক্ত গানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং এই গানের জন্য তিনি তার দ্বিতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
কিশোর ২০২০ সালের ৬ জুলাই ৬৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
সাবিনা ইয়াসমিনঃ
এ জীবনে যারে চেয়েছি গানের গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিন একজন বাংলাদেশিনেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী। সাবিনা শৈশব থেকে গানের তালিম নেওয়া শুরু করেছিলেন। তিনি সাত বছর বয়সে প্রথম মঞ্চানুষ্ঠানে অংশ নেন এবং খেলাঘর নামে একটি বেতার অনুষ্ঠানে ছোটদের গান করতেন। ১৯৬২ সালে নতুন সুর চলচ্চিত্রে রবীন ঘোষের সুরে ছোটদের গানে অংশ নেন। চলচ্চিত্রে পূর্ণ নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তার আত্মপ্রকাশ ১৯৬৭ সালে আগুন নিয়ে খেলা চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে।
সাবিনা ইয়াসমিন ১৯৫৪ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা লুতফর রহমান ব্রিটিশ রাজের অধীনে সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা বেগম মৌলুদা খাতুন। পৈতৃক বাড়ি সাতক্ষীরায়। তার গাওয়া দেশাত্মবোধক গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল “জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো”, “সব ক’টা জানালা খুলে দাও না”, “ও আমার বাংলা মা”, “মাঝি নাও ছাড়িয়া দে”, “সুন্দর সুবর্ণ” ও “একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার”।