সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২:৩৯ পিএম
“তোমার লাগিয়া রে সদাই প্রাণ আমার কান্দে” গানটি কানাই লাল সেন রচিত এবং সুরারোপিত একটি জনপ্রিয় লোকসঙ্গীত। গানটি “সোনার ময়না পাখি” চলচিত্রে ব্যবহার করা হয়।
তোমার লাগিয়া রে সদাই প্রাণ আমার কান্দে [ Tomaro lagiya re sodai pran amar kande ]
গীতিকারঃ কানাই লাল সেন
সুরকারঃ কানাই লাল সেন
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ আব্দুল আলীম
তোমার লাগিয়া রে
সদাই প্রাণ আমার কান্দে বন্ধুরে
প্রাণ বন্ধু কালিয়া রে।।
নিদয় নিঠুর রে বন্ধু
তুই তো কূল নাশা।
(আমায়) ফাঁকি দিয়ে ফেলে গেলি রে বন্ধু।
না পুরাইলি আশা বন্ধু রে
প্রাণ বন্ধু কালিয়া রে।।
আগে যদি জানতাম রে বন্ধু
করবাই রে নৈরাশা।
(ও তুই) না জেনে পীরিতের রীতি রে বন্ধু।
ঘটাইলি দুর্দশা বন্ধু রে
প্রাণ বন্ধু কালিয়া রে।।
হৃদয় চিরিয়া রে দিতাম হৃদয়তে বাসা।
(আমি) তোমায় দেখে সাধ মিটাইতাম রে বন্ধু।
খেলতাম প্রেমের পাশা রে বন্ধু
প্রাণ বন্ধু কালিয়া রে।।
তোমার লাগিয়া রে সদাই প্রাণ আমার কান্দে গানের গায়ক আব্দুল আলীম ছিলেন বাংলাদেশের লোক সঙ্গীতের একজন শিল্পী। যিনি লোক সঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে জীবন জগৎ এবং ভাববাদী চিন্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল। আবদুল আলীমের জন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই। তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোনো শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তার হয়নি। তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন; আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন ।
বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে গান গাইবার জন্য আগ্রহ জন্মে। ছোটবেলায় তার সঙ্গীত গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। ঐ অল্প বয়স হতেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তার গানের প্রথম রেকর্ড হয়।
![তোমার লাগিয়া রে সদাই প্রাণ আমার কান্দে [ Tomaro lagiya re sodai pran amar kande ] 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 তোমার লাগিয়া রে সদাই প্রাণ আমার কান্দে [ Tomaro lagiya re sodai pran amar kande ]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
দেশ বিভাগের পরে আব্দুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন এবং রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি পরে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। এছাড়াও তৎকালীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ সহ বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে আব্দুল আলীম গান করেছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রটি হলো ‘লালন ফকির’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তার ।
মন্তব্য