গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি [ Goheen Gange Dhorlam Pari ]

“গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি” গানটি লিখেছেন বাংলাদেশী আবুবকর সিদ্দিক । গানটি গেয়েছেন আব্দুল আলীম । 

গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি [ Goheen Gange Dhorlam Pari ]

গীতিকারঃ কবি আবুবকর সিদ্দিক 

প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ আব্দুল আলীম 

গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি [ Goheen Gange Dhorlam Pari ]

গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি

ঠিক ঠিকানা পাইলাম না।

ওথাল পাথাল ঢেউ রে গাঙ্গের

বাও বাতাস তো বুঝলাম না ।।

গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি

ঠিক ঠিকানা পাইলাম না।

ওথাল পাথাল ঢেউ রে গাঙ্গের

বাও বাতাস তো বুঝলাম না ।।

জহরি জহন চেনে

কাঠুরিয়ায় কাঠ

রাখালিয়া কৃষক চেনে

ফসলের এই মাঠ  ।।

স্বর্ণকারে স্বর্ণ চেনে

কামারুয়া কাসা

সতিন আনি জানে শুধু

পতির ভালবাসা

আমি কোন কিছু চিনলামনারে

বাও বাতাস তো বুঝলাম না ।।

 

আশিকে মাসুক চেনে

ভ্রমর চেনে ফুল।

মনিকারে মানিক চিনতে নাহি করে ভুল ।।

এই দুনিয়ায় বসত করি

দুনিয়া কেও চেনে না

প্রেমিক ছাড়া প্রেমের বেদন

আর কেও জানে না ।

আমি হইলাম আল্লার নাজির

কুল কিনারা পাইলাম না।।

 

গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি

ঠিক ঠিকানা পাইলাম না।

ওথাল পাথাল ঢেউ রে গাঙ্গের

বাও বাতাস তো বুঝলাম না ।।

ওথাল পাথাল ঢেউ রে গাঙ্গের

বাও বাতাস তো বুঝলাম না।।

আব্দুল আলীমঃ

গহীন গাঙ্গে ধরলাম পাড়ি গায়ক আব্দুল আলীম ছিলেন বাংলাদেশের লোক সঙ্গীতের একজন শিল্পী। যিনি লোক সঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে জীবন জগৎ এবং ভাববাদী চিন্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল। আবদুল আলীমের জন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই। তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোনো শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তার হয়নি। তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন; আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন ।

বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে গান গাইবার জন্য আগ্রহ জন্মে। ছোটবেলায় তার সঙ্গীত গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। ঐ অল্প বয়স হতেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তার গানের প্রথম রেকর্ড হয়।

দেশ বিভাগের পরে আব্দুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন এবং রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি পরে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। এছাড়াও তৎকালীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ সহ বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে আব্দুল আলীম গান করেছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রটি হলো ‘লালন ফকির’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তার ।

Leave a Comment