বৃষ্টি কখনো প্রকৃতির কান্না, কখনো স্মৃতির দরজায় মৃদু করাঘাত। বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটায় কখনো ফিরে আসে প্রিয় কোনো কণ্ঠ, কখনো মনে পড়ে হারিয়ে যাওয়া সময় কিংবা হৃদয়ের গভীরে জমে থাকা অনুভূতি। সুর আর বৃষ্টির এমন নিবিড় মিতালিতে বাংলা গানের এক অনন্য শিল্পী, ধ্রুপদী সংগীতের নিবেদিতপ্রাণ সাধক ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কথা মনে পড়ে যায়। তাঁর বহুল পরিচিত গান ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’ যেন স্মৃতি, বিরহ ও ভালোবাসার এক চিরন্তন আবহ তৈরি করে।
২৫ অক্টোবর এই শিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে তাঁর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।
Table of Contents
সুরের সাধনায় নিবেদিত এক শিল্পী
সংগীতের জগতে উচ্চাঙ্গ সংগীত এমন এক শিল্পধারা, যেখানে কণ্ঠের মাধুর্যের পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘদিনের অনুশীলন, রাগের ব্যাকরণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, তাল-লয়ের সূক্ষ্ম বোধ এবং সুরের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা। এখানে তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তার চেয়ে শিল্পের উৎকর্ষ ও সাধনার গুরুত্ব অনেক বেশি। বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে এই কঠিন ধারাকে নিজের শিল্পীজীবনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী।
তাঁর সংগীতচর্চায় উচ্চাঙ্গ সংগীতের গভীরতা, রাগসংগীতের ব্যঞ্জনা এবং বাংলা গানের আবেগ এক স্বতন্ত্র মাত্রা পেয়েছে। তিনি শুধু একজন কণ্ঠশিল্পী নন, দীর্ঘদিনের সাধনা ও সংগীতের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলা একজন সংগীতব্যক্তিত্ব। খেয়াল, ঠুমরি ও গজলের মতো বিভিন্ন ধারায় তাঁর বিচরণ তাঁর সংগীতজীবনের বৈচিত্র্য তুলে ধরে।
জনপ্রিয়তার প্রচলিত মাপকাঠিতে একজন শিল্পীর অর্জন বিচার করা সহজ হলেও ধ্রুপদী সংগীতের ক্ষেত্রে মূল্যায়নের পরিসর আরও বিস্তৃত। রাগের মেজাজ অনুধাবন, স্বরের নিয়ন্ত্রণ, সুরের সূক্ষ্মতা এবং পরিবেশনার গভীরতা—সবকিছুর সমন্বয়েই এই শিল্পধারার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তিনি এই সাধনানির্ভর ধারার সঙ্গে দীর্ঘদিন নিজের সম্পর্ক ধরে রেখেছেন।
পাতিয়ালা ঘরানায় সংগীতের তালিম
ভারতীয় উপমহাদেশের শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্যে পাতিয়ালা ঘরানা একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ধারা। এই ঘরানার দুই প্রখ্যাত শিল্পী ওস্তাদ আমানত আলী খান ও ওস্তাদ ফতেহ আলী খানের কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীতের তালিম নিয়েছেন নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। গুরুপরম্পরায় অর্জিত শিক্ষা তাঁর সংগীতজীবনকে সমৃদ্ধ করেছে এবং শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন আঙ্গিক সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
উচ্চাঙ্গ সংগীতে দক্ষতা অর্জনের জন্য নিয়মিত রেওয়াজ, ধৈর্য ও একাগ্রতা অপরিহার্য। একটি রাগের পরিবেশনায় শিল্পীকে যেমন তার স্বরবিন্যাস ও ব্যাকরণ অনুসরণ করতে হয়, তেমনি নিজের সৃজনশীলতা ও অনুভূতির প্রকাশ ঘটানোর সুযোগও থাকে। এই ভারসাম্যই শাস্ত্রীয় সংগীতকে একই সঙ্গে নিয়মতান্ত্রিক ও সৃষ্টিশীল করে তোলে।
খেয়ালের বিস্তার, ঠুমরির আবেগ কিংবা গজলের মাধুর্য—প্রতিটি ধারার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব ধারায় চর্চা করতে গিয়ে একজন শিল্পীকে সংগীতের নানা রূপ ও প্রকাশভঙ্গির সঙ্গে পরিচিত হতে হয়। নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর সংগীতচর্চায় এই বৈচিত্র্যের উপস্থিতি তাঁর শিল্পীসত্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
নরসিংদী থেকে ঢাকা: জন্ম ও শিক্ষাজীবন
১৯৫২ সালের ২৫ অক্টোবর নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার খৈনকুট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। শৈশবের কিছু সময় গ্রামে কাটলেও তাঁর বেড়ে ওঠার প্রধান পরিসর ছিল ঢাকা। সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগের পাশাপাশি তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও সম্পন্ন করেন।
১৯৬৭ সালে ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউট থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৬৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন তিনি। পরে ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ক্রমেই গভীর হয়। পরবর্তী সময়ে সংগীতচর্চা তাঁর জীবনের প্রধান অনুষঙ্গে পরিণত হয়। জীবনের একপর্যায়ে লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন শিক্ষকতাও করেন তিনি। তবে পেশাগত জীবনের এই অভিজ্ঞতার মধ্যেও সংগীতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট ছিল।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে সংগীতযাত্রা
বাংলাদেশে টেলিভিশনের পর্দায় সংগীত পরিবেশনের আগেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে যাত্রা শুরু হয়েছিল নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর। ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে সংগীত পরিবেশন করতে যান তিনি। বিদেশের মঞ্চে তাঁর এই যাত্রা ছিল শিল্পীজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি বাংলা গান ও বাংলাদেশের সংগীতঐতিহ্য আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের সামনে তুলে ধরেন। একজন শিল্পীর পরিবেশনা যখন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে অন্য দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ থাকে না; নিজস্ব সংস্কৃতি ও সংগীতের পরিচয় তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করে।
১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘আমার যত গান’ অনুষ্ঠানে প্রথম সংগীত পরিবেশন করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছিলেন শিক্ষাবিদ, কবি ও গীতিকার ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল। টেলিভিশনে এই পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দেশের দর্শকদের কাছে তাঁর সংগীত উপস্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সূচিত হয়।
জনপ্রিয়তার ভিড়ে স্বতন্ত্র সংগীতভাবনা
বাংলা গানের আশি ও নব্বইয়ের দশক ছিল অডিও শিল্পের বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। ক্যাসেটের মাধ্যমে গান ছড়িয়ে পড়ত মানুষের ঘরে ঘরে। নতুন শিল্পী, নতুন সুর ও ভিন্নধর্মী সংগীতায়োজন শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছিল। সেই সময়ের সংগীতাঙ্গনে তারকাখ্যাতি অর্জনের নানা পথ তৈরি হলেও নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর শিল্পীসত্তার প্রধান পরিচয় ছিল শুদ্ধ সংগীতের চর্চা ও উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা।
তাঁর শিল্পীজীবনকে শুধু জনপ্রিয় গানের সংখ্যা দিয়ে বিচার করলে সংগীতাঙ্গনে তাঁর অবস্থানের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন সম্ভব নয়। বরং তাঁর গুরুত্ব নিহিত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে সাধনানির্ভর একটি সংগীতধারার সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্যে। এমন ধারায় শিল্পীর সাফল্য নির্ভর করে নিয়মিত অনুশীলন, সংগীতের ব্যাকরণ সম্পর্কে জ্ঞান এবং পরিবেশনার গভীরতার ওপর।
খ্যাতি একজন শিল্পীকে মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে পারে, কিন্তু দীর্ঘ সাধনা তাঁকে শিল্পের আরও গভীরে নিয়ে যায়। নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর সংগীতজীবন এই পার্থক্যটি বোঝার সুযোগ করে দেয়। তাঁর প্রতি শ্রোতাদের অনুরাগের পেছনে রয়েছে কণ্ঠের মাধুর্যের পাশাপাশি সংগীতের প্রতি দীর্ঘদিনের নিবেদন।
‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’
নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর বহুল পরিচিত গান ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’ বাংলা গানের আবেগময় প্রকাশভঙ্গির একটি স্মরণীয় উদাহরণ। গানের কথায় ও সুরে বৃষ্টি, স্মৃতি, বিরহ ও ভালোবাসার অনুভূতি মিলেমিশে একাকার হয়েছে। বৃষ্টিকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিষণ্নতা এবং প্রিয় মানুষের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা গানটিকে শ্রোতাদের কাছে আবেগঘন করে তুলেছে।
মানুষের জীবনে কিছু গান থাকে, যেগুলো শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে যায়। কোনো বিশেষ ঋতু, বৃষ্টিভেজা বিকেল কিংবা নিঃসঙ্গ মুহূর্তে সেই গান আবার মনে পড়ে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা বদলায়, কিন্তু কিছু গানের আবেদন থেকে যায় দীর্ঘকাল।
এই গানের ক্ষেত্রেও বৃষ্টির চিত্রকল্প শ্রোতার ব্যক্তিগত অনুভূতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। বৃষ্টির শব্দ যেমন কখনো বিষণ্নতা জাগায়, তেমনি পুরোনো স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে। গানের শিরোনামেই সেই অনুভূতির প্রকাশ রয়েছে—প্রকৃতির একটি পরিচিত দৃশ্য কীভাবে মানুষের মনের গভীরে জমে থাকা স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলতে পারে।
জন্মদিনে এই গানটির কথা মনে পড়া তাই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কোনো শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া একটি গান যখন মানুষের ব্যক্তিগত অনুভূতির অংশ হয়ে ওঠে, তখন সেই শিল্পীর সঙ্গে শ্রোতার সম্পর্কও কেবল পরিচিতির সীমায় আটকে থাকে না। গান হয়ে ওঠে স্মৃতি ও আবেগের বাহন।
প্রচারের আলো থেকে দূরে, সংগীতের কাছাকাছি
নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীকে ঘিরে আলোচনায় তাঁর নিভৃতচারী স্বভাবের কথাও উঠে আসে। প্রচারমাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিতির পরিবর্তে সংগীতচর্চা ও নিজের পরিসরে থাকাই তাঁর কাছে অধিক স্বস্তিদায়ক বলে বর্ণিত হয়েছে। শিল্পীজীবনের এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে সমসাময়িক জনপ্রিয়তার প্রচলিত ধারণা থেকে আলাদা করে দেখার সুযোগ দেয়।
বর্তমান সময়ে একজন শিল্পীর পরিচিতি অনেকাংশে নির্ভর করে গণমাধ্যমে উপস্থিতি, প্রচারণা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার ওপর। তবে শিল্পের মূল্য সব সময় প্রচারের পরিমাণ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। কোনো শিল্পী কতটা গভীরভাবে নিজের শিল্পকে ধারণ করেন এবং তাঁর কাজ শ্রোতার মনে কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চাঙ্গ সংগীতের মতো সাধনানির্ভর ধারাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে গণমাধ্যম, সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ভূমিকা রয়েছে। অভিজ্ঞ শিল্পীদের পরিবেশনা, জীবন ও সংগীতভাবনা নিয়মিতভাবে তুলে ধরা গেলে এই ধারার প্রতি আগ্রহ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের সংগীত পরিবেশনা সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সহজলভ্য করে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবারেও সংগীতের আবহ
নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর পারিবারিক জীবনেও সংগীতের উপস্থিতি রয়েছে। তাঁর স্ত্রী সাবরা নিয়াজ একটি সংগীতপরিবারের সন্তান। তাঁর শ্বশুর সৈয়দ জাকির হোসেন উচ্চাঙ্গ সংগীতের সঙ্গে যুক্ত একজন সুরস্রষ্টা ও শিক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
এই পারিবারিক পরিবেশে সংগীতের প্রতি অনুরাগ ও ঐতিহ্য ধারণের একটি স্বাভাবিক পরিসর তৈরি হয়েছে। তাঁদের দুই সন্তান—ফাইয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী ও মেহনাজ চৌধুরী বারখা—গান করেন। তবে তাঁরা পেশাদার সংগীতশিল্পী নন।
একটি পরিবারে সংগীতের চর্চা শুধু কণ্ঠ বা গানের উত্তরাধিকার নয়; এর সঙ্গে যুক্ত থাকে রুচি, অনুভূতি, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যবোধ। সংগীতের প্রতি আগ্রহ পারিবারিক পরিমণ্ডলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়লে তা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারণ করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের সংগীতঐতিহ্যে তাঁর গুরুত্ব
একটি দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে ওঠে নানা সংগীতধারা, লোকঐতিহ্য, শাস্ত্রীয় চর্চা এবং প্রজন্মান্তরে প্রবাহিত শিল্পসাধনার সমন্বয়ে। জনপ্রিয় গান সেই পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ধ্রুপদী সংগীতের মতো দীর্ঘ অনুশীলননির্ভর ধারাগুলোরও রয়েছে নিজস্ব মর্যাদা ও প্রয়োজনীয়তা।
উচ্চাঙ্গ সংগীতের চর্চা সময়সাপেক্ষ। এই ধারায় দক্ষতা অর্জনের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ শিক্ষকের দিকনির্দেশনা এবং দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। তাই এর বিকাশে সংগীতশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, নিয়মিত পরিবেশনার আয়োজন করা এবং অভিজ্ঞ শিল্পীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর মতো শিল্পীদের জীবন ও সংগীতচর্চা এই ঐতিহ্যের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। তাঁদের পরিবেশনা সংরক্ষণ, সংগীতজীবনের তথ্য নথিবদ্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়া ভবিষ্যতের সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
শিল্পীর অবদান ধরে রাখার অর্থ শুধু তাঁর জনপ্রিয় গানগুলো স্মরণ করা নয়। তাঁর সংগীতভাবনা, শিক্ষাগ্রহণের পথ, সাধনা এবং বিভিন্ন সংগীতধারায় কাজের অভিজ্ঞতাও সংরক্ষণের অংশ। এভাবে একজন শিল্পীর কাজ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য শেখার উপকরণ হয়ে উঠতে পারে।
জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও শুভকামনা
সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন বদলায়, নতুন প্রজন্মের রুচি ও শ্রবণাভ্যাসেও পরিবর্তন আসে। কিন্তু যে গান মানুষের স্মৃতির সঙ্গে মিশে যায়, যে কণ্ঠ জীবনের কোনো বিশেষ মুহূর্তকে মনে করিয়ে দেয়, তার আবেদন সহজে হারিয়ে যায় না। ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর পরিচিত গান ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’ সেই আবেগময় সম্পর্কের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
জন্মদিনে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অর্থ একজন শিল্পীর দীর্ঘ সংগীতসাধনা, শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রতি নিষ্ঠা এবং বাংলা গানের ভুবনে তাঁর পরিচিতিকে স্মরণ করা। তাঁর জীবন ও কাজ সংগীতপ্রেমীদের কাছে যেমন অনুপ্রেরণার বিষয়, তেমনি বাংলাদেশের সংগীতঐতিহ্য নিয়ে আলোচনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
শুভ জন্মদিন, ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী। আপনার সুরের সাধনা দীর্ঘজীবী হোক। আপনার কণ্ঠের মাধুর্য ও সংগীতের প্রতি নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ সংগীতের চর্চায় আগ্রহী করে তুলুক। আপনি সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন এবং দীর্ঘজীবী হোন—এই কামনাই রইল।
বৃষ্টির শব্দে, স্মৃতির আবেশে কিংবা প্রিয় কোনো গানের সুরে আপনার কথা ফিরে ফিরে আসুক। বাংলাদেশের সংগীতভুবনে আপনার সাধনা ও অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হোক।
সুর বেঁচে থাকুক, সংগীতের সাধনা বেঁচে থাকুক। জন্মদিনে ওস্তাদ নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা, অফুরন্ত ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভকামনা।
লেখক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন














