সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ই নভেম্বর ২০২২, ১:১৯ পিএম

দুর্বিন শাহ বাংলাদেশের একজন মরমী গীতিকবি, বাংলা লোক সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার, বাউল সাধক।
Table of Contents
তিনি ১৩২৭ বঙ্গাব্দের ১৫ কার্তিক (১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ এর ২ নভেম্বর) ছাতকের সুরমা নদীর উত্তর পারে নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন। এই তারামনি টিলা কালান্তরে দুরবীন টিলা নামে পরিচিত হয়। তার পিতা সফাত আলি শাহ ছিলেন একজন সুফি সাধক এবং মা হাসিনা বানু ছিলেন একজন পিরানী।ফলে সঙ্গীতচর্চার একটা পারিবারিক ঐতিহ্যেই তিনি বেড়ে উঠেছেন। মাত্র সাত বছর বয়সে বাবাকে হারান।১৯৪৬ সালে সুরফা বেগমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
তার অধিকাংশ গানে সুফি ও মরমিবাদ যথেষ্টভাবে ফুটে উঠলেও এসবের বাইরে ভিন্ন মেজাজের অসংখ্য গান লিখেছেন। শ্রেণী বিভাজন করলে এসব গানগুলোকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলী, হামদ-নাত, মারফতি, পির-মুর্শিদ স্মরণ আলা স্মরণ, নবি স্মরণ, ওলি স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব, দেশের গানসহ বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়। এছাড়া বিবিধ শিরোনামে তার রচিত আরো বিভিন্ন পদাবলীকে চিহ্নিত করা যেতে পারে। তিনি ১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন।অন্যতম সফর সঙ্গী ছিলেন বাউলসাধক শাহ আবদুল করিম, সেখানে তার গানের কথা ও সুরে বিমোহিত হয়ে সঙ্গীত প্রেমীরা তাকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
১৯৭৪ সালে কলকাতার প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটক তার যুক্তি তক্কো আর গপ্পো চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেছিলেন বাউলসাধক দুর্বিন শাহের লেখা ‘নমাজ আমার হইল না আদায়’ শীর্ষক গানটি। ঢাকার উৎস প্রকাশন থেকে লোকসাহিত্যের গবেষক সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত ‘দুর্বিন শাহ সমগ্র’ বইয়ে দুর্বিনের সমস্ত রচনাসম্ভার স্থান পেয়েছে।
তিনি ৫৭ বছর বয়সে ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ৩ ফাল্গুন, ১৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই ফেব্রুয়ারি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।
মন্তব্য