বর্ষার আবহে কোক স্টুডিওর নতুন গান মেঘ

বর্ষার আষাঢ় মাসের আবহকে কেন্দ্র করে নতুন একটি গান প্রকাশ করতে যাচ্ছে কোক স্টুডিও বাংলা। চতুর্থ মৌসুমের অংশ হিসেবে আজ রোববার সন্ধ্যায় মুক্তি পাচ্ছে ‘মেঘ’ শিরোনামের এই গানটি। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাশা ইসলাম, মোহাম্মদ শোয়েব ও মৌসুমি।

গানটি নির্মাণ করা হয়েছে বর্ষার প্রকৃতি, আকাশের ঘন মেঘ আর বৃষ্টিভেজা আবহের অনুভূতিকে কেন্দ্র করে। বর্ষা যেমন বাংলার প্রকৃতিতে এক বিশেষ আবহ তৈরি করে, ঠিক তেমনি এই গানে সেই আবহকে সুর ও কথার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। এতে শাস্ত্রীয় সংগীতের ঐতিহ্য ও আধুনিক সংগীতের ধারা মিলিয়ে এক ধরনের ভিন্নমাত্রার সঙ্গীত অভিজ্ঞতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘মেঘ’ গানটি মূলত শাস্ত্রীয় রাগ মিয়াঁ কি মালহার থেকে অনুপ্রাণিত। ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত ঐতিহ্যে এই রাগের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে বর্ষাকালের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্কের কারণে। বৃষ্টি, প্রতীক্ষা, আবেগ এবং প্রকৃতির পরিবর্তনের অনুভূতি এই রাগের মাধ্যমে বহু বছর ধরে প্রকাশ পেয়ে আসছে। সেই ঐতিহ্যকে ভিত্তি করেই গানটির সুর নির্মাণ করা হয়েছে, তবে উপস্থাপনায় আনা হয়েছে সমকালীন সংগীতের ছোঁয়া।

গানের কথায় রয়েছে প্রকৃতি ও মানুষের অনুভূতির এক সূক্ষ্ম মেলবন্ধন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণিত ভাবনার ছাপ থাকলেও সেটিকে আধুনিক কথ্য ভাষার সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম সহজেই এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। বর্ষার জন্য মানুষের অপেক্ষা, নতুন শুরুর আশা এবং জীবনের ভেতরে এক ধরনের পুনর্জাগরণের অনুভূতি গানটির মূল আবহ হিসেবে ধরা দিয়েছে।

কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ মৌসুম শুরু হয় গত ২৩ জুন ‘রুম ঝুম’ গান প্রকাশের মাধ্যমে। ওই গানটি প্রকাশিত হয়েছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর দিনে, যা পুরো মৌসুমের সূচনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘মেঘ’ এ মৌসুমের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ গান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।

২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা কোক স্টুডিও বাংলা শুরু থেকেই দেশের সংগীত অঙ্গনে একটি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে লোকসংগীত, শাস্ত্রীয় সংগীত এবং আধুনিক সংগীতের সংমিশ্রণে নতুন ধরনের সুরের অভিজ্ঞতা তৈরি করা হয়। বিভিন্ন ঘরানার শিল্পীদের একত্রিত করে এটি শ্রোতাদের কাছে নতুনভাবে সংগীত উপস্থাপন করে আসছে।

বর্ষার এই সময়টিতে ‘মেঘ’ প্রকাশকে ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, আষাঢ়ের প্রকৃত আবহ আর গানের সুর একে অপরের সঙ্গে মিলে শ্রোতাদের মনে গভীর অনুভূতি সৃষ্টি করবে। বর্ষার মেঘ, বৃষ্টি আর আবেগের যে চিরায়ত সম্পর্ক, এই গান সেই সম্পর্ককেই নতুনভাবে অনুভব করাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।