ডাবলিনের একটি স্থানীয় পানশালায় আকস্মিক উপস্থিত হয়ে গান গেয়ে সাধারণ শ্রোতা ও ভক্তদের তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশ্বখ্যাত কানাডিয়ান পপ ও জ্যাজ গায়ক মাইকেল বুবলে। আয়ারল্যান্ডে বড় দুটি কনসার্ট মাতানোর আগে একেবারে ঘরোয়া পরিবেশে এই চমক দেন তিনি। ডাবলিনের বিখ্যাত ‘ডয়েলস’ পানশালার দোতলায় ঐতিহ্যবাহী ‘রুবি সেশনস’-এর অংশ হিসেবে এই বিশেষ ও অন্তরঙ্গ আয়োজনটি করা হয়।
গত ২৬ বছর ধরে প্রতি মঙ্গলবার রাতে ডাবলিনের এই ভেন্যুতে চমৎকার সব লাইভ মিউজিক সেশনের আয়োজন হয়ে আসছে। এই মঞ্চটি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর আগে এড শিরান, লুইস ক্যাপালডি ও কোডালাইনের মতো কিংবদন্তি এবং বিশ্বখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীরা এখানে পারফর্ম করেছেন। সেই তালিকায় এবার নতুন করে যুক্ত হলো মাইকেল বুবলের নাম। তবে এবারের আয়োজনটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল।
নিজের জনপ্রিয় গান ‘হ্যাভেন’ট মেট ইউ ইয়েট’ খ্যাত এই তারকা যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন পানশালায় উপস্থিত মাত্র শখানেক দর্শক স্তব্ধ হয়ে যান। বুবলে তার জনপ্রিয় কিছু মৌলিক গান গাওয়ার পাশাপাশি ভ্যান মরিসনের বিখ্যাত জ্যাজ ট্র্যাক ‘মুনড্যান্স’ গেয়ে শোনান। তার দুর্দান্ত পরিবেশনা পুরো পানশালার পরিবেশ বদলে দেয়।
আসন্ন শনি ও রবিবার আয়ারল্যান্ডে দুটি বড় কনসার্ট করার কথা রয়েছে এই পপ তারকার। প্রথম কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হবে উত্তর ডাবলিনের ঐতিহাসিক ‘মালাহাইড ক্যাসেল’-এ, যার গেট দর্শকদের জন্য বিকেল ৪টা থেকেই খুলে দেওয়া হবে। এর পরের রাতেই তিনি আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক শহরে তার দ্বিতীয় বড় শো-তে অংশ নেবেন। এই বিশাল কনসার্টগুলোর ঠিক আগেই ডাবলিনের সাধারণ মানুষের খুব কাছে গিয়ে এমন পারফরম্যান্স উপহার দিলেন তিনি।
মঞ্চে উঠে যখন বুবলে দর্শকদের উদ্দেশ্যে “হ্যালো” বলেন, তখন শ্রোতাদের মধ্য থেকে একজন বিস্ময় চেপে না রাখতে পেরে চেঁচিয়ে ওঠেন, “হলি শিট! আপনি সত্যি মাইকেল বুবলে?” জবাবে রসিকতা করে বুবলে বলেন, “আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারছি না যে আমি এখানে আছি। আমি তো আশা করছিলাম লুইস ক্যাপালডি এখানে থাকবে!”
এই বিশেষ মুহূর্তের একটি ছোট ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে বুবলে লিখেছেন, “অনেক সময় আমি নিজেও অবাক হয়ে যাই যে আমি শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে হাজির হচ্ছি। তবে এবার রুবি সেশনস-এ আসতে পেরে আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত।” তার এই পোস্টের নিচে ভক্তরা মন্তব্যের ঝড় তুলেছেন। সু, শার্লি, ডেইর্ড্রের মতো একঝাঁক স্থানীয় শ্রোতা এটিকে তাদের জীবনের অন্যতম সেরা রাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভেন্যু এবং শিল্পী—উভয়কেই ‘আইকনিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তারা।
