সঙ্গীত গুরুকুল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৮ এএম

শিক্ষকতা, গবেষণা এবং শিল্প-সংস্কৃতির সমন্বয়ে এক অনন্য ব্যক্তিত্বের নাম স্থপতি বুশরা শাহরিয়ার। সম্প্রতি তিনি রাজধানীর অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর স্থাপত্য বিভাগে প্রভাষক হিসেবে পুনরায় যোগদান করেছেন। তাঁর এই পুনরাগমন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বুশরা কেবল একজন শিক্ষক নন, বরং নগর পরিকল্পনা গবেষক এবং দেশের সংগীতাঙ্গনের এক জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও সমানভাবে সমাদৃত।
বুশরা শাহরিয়ার ইতিপূর্বেও ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে অধ্যাপনা করেছেন। সেই সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং এবং পাঠ্যক্রম আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃত। ভারতের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি), রুর্কি থেকে তিনি ‘নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা’ (Urban and Rural Planning) বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তিনি সেখানে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি লাভ করেছিলেন।
২০১৯ সাল থেকে তিনি আইআইটি রুর্কিতে পিএইচডি গবেষক হিসেবে গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর গবেষণার বিশেষ ক্ষেত্র হলো ‘ঢাকার কমিউনিটি-ভিত্তিক বন্যা স্থিতিস্থাপকতা’ (Community-based Flood Resilience in Dhaka)। বর্তমানে তিনি তাঁর পিএইচডি থিসিস জমাদানের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।
বুশরা শাহরিয়ারের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও শিক্ষা জীবনের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও অর্জন |
| বর্তমান পদবি | প্রভাষক, স্থাপত্য বিভাগ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ |
| স্নাতকোত্তর | নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (আইআইটি রুর্কি, ভারত) |
| গবেষণার বিষয় | ঢাকার বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও নগর স্থিতিস্থাপকতা |
| পূর্ব অভিজ্ঞতা | সাবেক প্রভাষক (২০১৫-২০১৭), স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি |
| গবেষণা ফেলোশিপ | আইআইটি রুর্কি থেকে পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি লাভ |
| সাংস্কৃতিক পরিচয় | বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার |
শিক্ষকতার পাশাপাশি বুশরা শাহরিয়ার দেশের সংগীতাঙ্গনে একজন আধুনিক ও পরিশীলিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। তাঁর গাওয়া গানগুলোর মধ্যে দেশপ্রেম, তারুণ্যের উদ্দীপনা এবং জীবনের গল্প ফুটে ওঠে। বিশেষ করে ‘উৎসবের বাংলাদেশ’ এবং ‘খেলাধুলার বাংলাদেশ’ গানগুলো বিভিন্ন জাতীয় উৎসবে এবং ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর একটি তালিকা হলো:
উৎসবের বাংলাদেশ
খেলাধুলার বাংলাদেশ
একশো নালিশ
তোমায় যদি
গল্প হবেই আয়
স্থপতি বুশরা শাহরিয়ারের এই ফিরে আসা কেবল একটি পেশাগত যোগদান নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে জ্ঞানচর্চা এবং সৃজনশীলতা সমান্তরালভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাঁর শিক্ষকতায় ফেরা স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণাদায়ক হবে, তেমনি তাঁর চলমান গবেষণা ঢাকার মতো মেগাসিটির বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য