বিশ্বজুড়ে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর প্রাক্কালে বাংলাদেশে সংগীত অঙ্গনে নতুন এক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীত প্রযোজক ফুয়াদ আলমুক্তাদিরের নতুন গান “কান্দারি চলো”। ফুটবলকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই গানটি শুধু একটি বিনোদনমূলক সৃষ্টি নয়; বরং এটি খেলাটির প্রতি মানুষের আবেগ, সামাজিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক শক্তিশালী প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গানটির মূল ভাবনায় ফুটবলকে জীবনের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে কীভাবে ফুটবল বাংলাদেশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে গেছে—পাড়া-মহল্লার খেলা, ছাদে বন্ধুদের আড্ডা, চায়ের দোকানে উত্তপ্ত আলোচনা এবং বিভিন্ন দেশের পতাকা দিয়ে সাজানো উৎসবমুখর পরিবেশ সবই ফুটবলের সামাজিক বিস্তারের অংশ হয়ে উঠেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি গানটিকে কেবল সংগীতের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে একটি সামাজিক দলিলের রূপ দিয়েছে।
গানটিতে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণ একে দিয়েছে বৈশ্বিক মাত্রা। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন মিলা, প্যান্টো কানাই, ব্যামি, সানজানা, ব্ল্যাক জ্যাং এবং নাইজেরিয়ার শিল্পী ওলি বয়। বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের একত্র অংশগ্রহণ গানটিকে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। সংগীত বিন্যাসে লোকজ সুর, নগর জীবনের শব্দ, সমবেত উদ্দীপনা এবং আধুনিক সুরের সংমিশ্রণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শ্রোতাদের মধ্যে আলাদা ধরনের উদ্দীপনা তৈরি করছে।
গানের কথা রচনা করেছেন টাইগার চৌধুরী, মাহবুব মুর্শেদ (শিহাব), ওলি বয় এবং ব্ল্যাক জ্যাং। তাদের লেখায় ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বন্ধুত্ব, জয়-পরাজয়ের আবেগ এবং আনন্দের বহুমাত্রিক অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। গানটির ভিডিওচিত্র নির্মাণ করেছেন মিরাজ হোসেন এবং প্রযোজনা করেছে রানআউট ফিল্মস। ভিডিওতে ফুটবলের উচ্ছ্বাস, তরুণদের উদ্দীপনা এবং সামাজিক ঐক্যের দৃশ্যগত উপস্থাপন বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
ফুয়াদ আলমুক্তাদির জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল ফুটবলের মাধ্যমে একটি বৃহত্তর মানবিক গল্প বলা, যেখানে স্বপ্ন, সংগ্রাম, আবেগ এবং আনন্দ একসূত্রে গাঁথা। তার মতে, ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, বরং এটি মানুষের আবেগকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম, যা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও প্রজন্মকে একই ছায়ায় নিয়ে আসে।
বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে আছে। “কান্দারি চলো” সেই ঐতিহ্যকে আধুনিক সংগীতের ভাষায় নতুনভাবে উপস্থাপন করেছে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গানের প্রধান তথ্যসমূহ নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| গানের শিরোনাম | কান্দারি চলো |
| শিল্পী | মিলা, প্যান্টো কানাই, ব্যামি, সানজানা, ব্ল্যাক জ্যাং, ওলি বয় |
| সুর ও সংগীতায়োজন | ফুয়াদ আলমুক্তাদির |
| গীতিকার | টাইগার চৌধুরী, মাহবুব মুর্শেদ (শিহাব), ওলি বয়, ব্ল্যাক জ্যাং |
| ভিডিওচিত্র নির্মাতা | মিরাজ হোসেন |
| প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান | রানআউট ফিল্মস |
| সংগীত ধারা | লোকসুর, আধুনিক সুর, সমবেত ধ্বনি ও র্যাপের মিশ্রণ |
বিশ্ব ফুটবলের উত্তেজনাপূর্ণ সময়ের সঙ্গে মিল রেখে প্রকাশিত এই গান ইতোমধ্যে শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এটি কেবল একটি সংগীতকর্ম নয়, বরং ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা, সামাজিক সংহতি এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক সুরেলা অভিব্যক্তি হিসেবে স্থান করে নিচ্ছে, যা বিভিন্ন বয়স ও প্রজন্মের মানুষকে একই আবেগে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।















