মরে যাবো রে লিরিক্স [ MORE JABO RE lyrics ] । চিরকুট । Chirkutt । শারমিন সুলতানা সুমি । Sharmin Sultana Sumi

বাংলা ব্যান্ড সংগীতে অনন্য মৌলিক ধারার প্রতিনিধিত্বকারী ব্যান্ড ‘চিরকুট’-এর ২০১৩ সালে প্রকাশিত দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘যাদুর শহর’-এর অন্যতম আলোচিত, উন্মাতাল ও আবেগঘন গান “মরে যাবো রে” (অফিসিয়াল শিরোনাম: ‘প্রথম প্রেমে মরে যাওয়ার গান’)। শারমিন সুলতানা সুমির ব্যতিক্রমী রূপকপ্রধান কথা, তীব্র আর্তিভরা গায়কী এবং ব্যান্ডের আবহমান লোকজ ও রক ফিউশনের সংগীতায়োজনে গানটি প্রথম প্রেমের সর্বগ্রাসী আচ্ছন্নতা ও অসহায় সমর্পণকে অসাধারণ নান্দনিকতায় রূপ দিয়েছে। গান বাংলা টিভির ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ (Wind of Change) মঞ্চে এর রি-অ্যারেঞ্জড পরিবেশনা গানটিকে বিশ্বজুড়ে বাংলাভাষী সংগীতপ্রেমীদের কাছে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।

গানের বিস্তারিত তথ্য

তথ্যবিবরণবিস্তারিত তথ্য
গানের নামমরে যাবো রে (প্রথম প্রেমে মরে যাওয়ার গান)
ব্যান্ডচিরকুট (Chirkutt)
অ্যালবামযাদুর শহর (২০১৩)
কথা ও মূল কণ্ঠশারমিন সুলতানা সুমি
সুর ও সংগীতায়োজনচিরকুট
সংগীতধারাঅল্টারনেটিভ রক / ফোক-ফিউশন মেলোডি ব্যালাড
মূল উপজীব্যপ্রথম প্রেমের সর্বগ্রাসী মোহ, তীব্র দহন, অসহায় আত্মবিসর্জন ও নৈঃশব্দ্য
উল্লেখযোগ্য রূপকএক চিমটি মেঘ, অ্যালুমিনিয়াম চাঁদ, শ্রাবণ-ভাদর ও সুন্দর জ্বালা

 

মরে যাব রে লিরিক্স

একটু তোমায় নিলাম আমি,
এক চিমটি মেঘে থামি,
জলের ছিটেয় নিলাম পাগলামি…
একটু তুমি বুকের ভেতর,
বেপরোয়া শ্রাবণ ভাদর,
ভাসাও ডোবাও তোমারি আমি…

মরে যাবো রে, মরে যাবো,
কি অসহায় আমি একবার ভাবো…

তোমাকে ছেড়ে যাব কোথায় ?
তোমাকে ছেড়ে কি বাঁচা যায় ?
মেঘেরই ওই নীলে তুমি জীবন দিলে
এ বড় সুন্দর জ্বালায় আমায়
মেঘেরই ওই নীলে তুমি জীবন দিলে
এ বড় নির্মম পোড়ায় আমায়…

একটু রাত ডুবে আসে,
একটু আলো নিভে আসে,
তুমি দূরে একা লাগে…
মধুর ওই চাঁদটাকে,
এ্যালুমিনিয়াম লাগে,
হাটি আমি চাঁদও হাটে…

মরে যাবো রে, মরে যাবো,
কি অসহায় আমি একবার ভাবো…

ভালো লাগে না, লাগে না রে,
বাঁচাবে আজ বলো কে আমারে,
বুঝিনা জানিনা ,মেনেও মানিনা…
সে ছাড়া নেই আমি ঘোর আঁধারে,
এপারে ওপারে খুঁজি যে তাহারে,
সে ছাড়া নেই আমি, চাই তাহারে…

একটু তোমায় নিলাম আমি,
এক চিমটি মেঘে থামি,
জলের ছিটেয় নিলাম পাগলামি…
একটু তুমি বুকের ভেতর,
বেপরোয়া শ্রাবণ ভাদর,
ভাসাও ডোবাও তোমারি আমি…

মরে যাবো রে, মরে যাবো,
কি অসহায় আমি একবার ভাবো…

 

More Jabo Re

Ektu tomay nilam ami
Ek chimti megh e thami
Joler chitei nilem paglami
Ektu tumi buker vitor
Beporoa shrabon vador
Vashao dobao tomary ami

More jabo re more jabo
Ki oshohay ami ekbar vabe

Tomay chere jabo kothay
Tomay cher ki bacha jay
Megher oi neel tumi jibon dile
E boro shundor jalay amay

Megher oi neel tumi jibon dile
E boro nirmom poray amay
Ektu raat dube ashe
Ektu alo nive ashe
Tumi dure eka lage

Modhur oi chadtake
Aluminium lage
Haati ami chado haate
More jabo re more jabo

Ki oshohay ami ekbar vabo
Valo lage na lage na re
Bachabe aaj bolo ke amare
Jani na bujhi na meneo mani na

She chara nei ami ghor adhare
Epare opare khuji je tahare
She chara nei ami chai tahare
More jabo re more jabo
Ki oshohay ami ekbar vabo

গানের মূল ভাব

“মরে যাবো রে” গানটির মূল নির্যাস হলো প্রেমে পড়ার পর ব্যক্তিমানুষের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানো এবং এক তীব্র আনন্দময় আত্মদহনের মুখোমুখি হওয়া। প্রথম ভালোবাসার আগমন ঘটে প্রকৃতির এক অপ্রতিরোধ্য ঝড়ের মতো, যা মনের চেনা শৃঙ্খলা ও যুক্তিবোধকে নিমেষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এখানে প্রেম কোনো মসৃণ বা শান্ত অনুভূতি নয়; বরং তা এক বেপরোয়া বর্ষার উন্মাদনা, যা একই সাথে আনন্দ দেয় এবং ভেতর থেকে পুড়িয়ে নিঃশেষ করে।
গানটিতে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর তুলে ধরা হয়েছে। প্রেমাস্পদ যখন দূরে থাকে, তখন চেনা পৃথিবী বিবর্ণ ও অর্থহীন ঠেকে—এমনকি আকাশের রূপালী চাঁদটিকেও প্রাণহীন ‘অ্যালুমিনিয়াম’-এর মতো ধাতব ও নিষ্প্রভ মনে হয়। প্রিয়জনকে ছাড়া বেঁচে থাকার অপারগতা এবং ভালোবাসার এই অনন্ত ঘূর্ণাবর্তের মাঝে নিজের চরম অসহায়ত্ব প্রকাশই গানটির কেন্দ্রীয় সুর।

চরণ ও ভাব বিশ্লেষণ

১. মেঘ-জলের পাগলামি ও উন্মাতাল প্লাবন

  • “একটু তোমায় নিলাম আমি, এক চিমটি মেঘে থামি… বেপরোয়া শ্রাবণ ভাদর, ভাসাও ডোবাও তোমারি আমি…”
    প্রেমের সূচনা ঘটে ক্ষুদ্র অথচ তীব্র স্পর্শে (‘এক চিমটি মেঘ’, ‘জলের ছিটে’)। কিন্তু পরক্ষণেই সেই অনুভূতি রূপ নেয় বর্ষা ও ভাদ্রের উত্তাল বন্যায়, যা প্রেমিকাকে নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও প্রেমের জোয়ারে ভাসিয়ে ও ডুবিয়ে নেয়।

২. তীব্র আর্তি ও চরম অসহায়ত্ব

  • “মরে যাব রে, মরে যাব, কি অসহায় আমি একবার ভাব / তোমাকে ছেড়ে যাব কোথায়? তোমাকে ছেড়ে কি বাঁচা যায়?…”
    ভালোবাসার গভীরতা এখানে এক অস্তিত্ব সংকট তৈরি করে। প্রিয় মানুষকে ছাড়া জীবনের আর কোনো বিকল্প পথ বা আশ্রয় থাকে না। এই পূর্ণ সমর্পণে এক ধরণের করুণ আর্তি ও নির্ভরতা প্রকাশ পায়।

৩. সুন্দর জ্বালা ও নির্মম পোড়ন

  • “মেঘেরই ওই নীলে তুমি জীবন দিলে, এ বড় সুন্দর জ্বালায় আমায় / এ বড় নির্মম পোড়ায় আমায়…”
    প্রেমের দ্বান্দ্বিক সৌন্দর্যের চরম প্রকাশ। যে অনুভূতি মানুষকে বাঁচার প্রেরণা যোগায়, সেই অনুভূতিই বিরহের রাতে নির্মম আগুনে পোড়ায়। এই পরস্পরবিরোধী মনস্তত্ত্বকে ‘সুন্দর জ্বালা’ নামক অনুপম রূপকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

৪. নাগরিক নিঃসঙ্গতা ও অ্যালুমিনিয়াম চাঁদ

  • “একটু রাত ডুবে আসে, একটু আলো নিভে আসে, তুমি দূরে একা লাগে / মধুর ওই চাঁদটাকে অ্যালুমিনিয়াম লাগে, হাঁটি আমি চাঁদও হাটে…”
    আধুনিক বাংলা গানে অন্যতম মৌলিক ও শক্তিশালী চিত্রকল্প। প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে প্রকৃতির সনাতন রূপ ও রোমান্টিকতা ভেঙে পড়ে। মিষ্টি চাঁদ তখন আর রূপালী আলো ছড়ায় না, তা হয়ে ওঠে কৃত্রিম ও ধূসর ধাতব অ্যালুমিনিয়ামের মতো ঠান্ডা।

সাহিত্যিক ও রূপকধর্মী বৈশিষ্ট্য

  • আধুনিক নাগরিক পরাবাস্তবতা: ‘অ্যালুমিনিয়াম চাঁদ’ বা ‘এক চিমটি মেঘ’-এর মতো অদ্ভুত কিন্তু গভীর ব্যঞ্জনাময় চিত্রকল্প বাংলা গীতিসাহিত্যে বিরল। এটি রোমান্টিকতার সাথে আধুনিক একাকীত্বের নিঃসঙ্গতাকে চমৎকারভাবে মিলিয়ে দেয়।
  • অনুপম আবেগীয় দ্বন্দ্ব (Oxymoron): ‘সুন্দর জ্বালা’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে তীব্র বেদনার ভেতরেও ভালোবাসার যে অপার্থিব আনন্দ লুকিয়ে থাকে, তা এক সাহিত্যিক উচ্চতায় পৌঁছায়।
  • ধ্বনি ও ছন্দের মুক্তি: প্রচলিত পয়ার বা কঠোর মাত্রাবৃত্তের শিকল ভেঙে মুক্ত ছন্দের কথ্য ভঙ্গিতে অনুভূতির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

সংগীততাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও গায়কীর স্বকীয়তা

  • শারমিন সুলতানা সুমির ভোকাল ডায়নামিক্স: সুমির স্বরপ্রক্ষেপণ শান্ত ফিসফিসানি থেকে এক লহমায় তীব্র চিৎকার ও আর্তনাদে রূপ নিতে পারে। তাঁর এই গায়কী গানের অসহায়ত্ব ও তীব্রতাকে সরাসরি শ্রোতার অন্তরে গেঁথে দেয়।
  • চিরকুটের অর্কেস্ট্রেশন: ড্রামস, ব্যাস ও ইলেকট্রিক গিটারের তীব্র রিফের সাথে বাংলা লোকজ উপাদানের সংমিশ্রণ গানটিতে এক ধরণের রুদ্ধশ্বাস আবহ তৈরি করে।
  • উইন্ড অব চেঞ্জ সংস্করণ: কৌশিক হোসেন তাপসের পরিচালনায় আন্তর্জাতিক সংগীতশিল্পীদের লাইভ বাদ্যযন্ত্রের সমাহারে গানটির নতুন সংস্করণ এর আন্তর্জাতিক আবেদন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

ব্যান্ড পরিচিতি ও সাংস্কৃতিক প্রভাব

  • চিরকুট (প্রতিষ্ঠিত: ২০০২): বাংলা ব্যান্ড সংগীতে নিজস্ব কথা, লোকজ শিকড় ও অল্টারনেটিভ রক ধারার সমন্বয়ে চিরকুট এক অনন্য ধারার জন্ম দিয়েছে। ২০১০ সালে তাদের প্রথম অ্যালবাম চিরকুটনামা প্রকাশের পর ২০১৩ সালের যাদুর শহর অ্যালবামটি তাদের বাংলা ব্যান্ডের শীর্ষ কাতারে পৌঁছে দেয়।
  • প্রথম প্রেমের সমকালীন সংগীতরূপ: ভালোবাসার তীব্রতা প্রকাশের ক্ষেত্রে গানটি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক প্রতীকী সংগীতে পরিণত হয়েছে। মঞ্চ পরিবেশনায় এই গান চিরকুটের সবচেয়ে শক্তিশালী ও দর্শক-মাতানো ট্র্যাকগুলোর অন্যতম।

উৎস ও তথ্যসূত্র

  1. যাদুর শহর (২০১৩), চিরকুট অ্যালবাম ডিসকোগ্রাফি ও অডিও আর্কাইভ।
  2. চিরকুট ব্যান্ড অফিসিয়াল মিউজিক ক্যাটালগ ও প্রকাশনা রেকর্ডস
  3. উইন্ড অব চেঞ্জ (Wind of Change), গান বাংলা টিভি প্রোডাকশন আর্কাইভ।

 

 

 

 

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।