“মাগো ধন্য হল জীবন” গানটি একটি খুবই জনপ্রিয় একটি দেশাত্ববোধক গান । এই গানটি শোনেনি এমন মানুষ খুব কম আছে । গানটি লিখেছেন গীতিকার এস. এম. হেদায়েত গানটি গেয়েছেন সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা এবং সুর করেছেন লাকি আকন্দ ।
মাগো ধন্য হল জীবন [ Mago Dhonno Holo Jibon ]
গীতিকারঃ এস. এম. হেদায়েত
সুরকারঃ লাকি আকন্দ
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ রুনা লায়লা
মাগো ধন্য হল জীবন [ Mago Dhonno Holo Jibon ]
মাগো ধন্য হল জীবন আমার
তোমায় ভালোবেসে
আমি প্রাণ পেয়েছি মান পেয়েছি
তোমার কোলে এসে
তোমায় ভালোবেসে।
মাগো ধন্য হল জীবন আমার
তোমায় ভালোবেসে।
তোমার আশিস পেলে জানি
সবকিছু যে মেলে
তোমার হাসি তোমার খুশি
ধানের মাঝে মেশে
তোমায় ভালোবেসে।
মাগো ধন্য হল জীবন আমার
তোমায় ভালোবেসে।
তুমি আমার ধাত্রী মাগো
তুমি আমার দেশ,
খেত-খামারে মাগো তুমি
সোনার বরণ বেশ
সোনা তোমার মাটি সে যে
সোনার চেয়েও খাঁটি
সকল আঁধার যায় গো দূরে
কালো রাতের শেষে
তোমায় ভালোবেসে।
মাগো ধন্য হল জীবন আমার
তোমায় ভালোবেসে।
আমি প্রাণ পেয়েছি মান পেয়েছি
তোমার কোলে এসে
তোমায় ভালোবেসে।
মাগো ধন্য হল জীবন আমার
তোমায় ভালোবেসে।
লাকী আকন্দঃ
লাকী আখান্দ বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও গায়ক।লাকী আখান্দ ১৯৫৬ সালের ৭ জুন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ঢাকার পাতলা খান লেনে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র ৫ বছর বয়সেই তিনি তার বাবার কাছ থেকে সংগীত বিষয়ে হাতেখড়ি নেন। তিনি ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন এবং রেডিওতে শিশু শিল্পী হিসেবে সংগীত বিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। ১৯৭৫ সালে লাকী আখান্দ তার ছোট ভাই হ্যাপী আখন্দের একটি অ্যালবামের সঙ্গীতায়োজন করেন। অ্যালবামটিতে “আবার এলো যে সন্ধ্যা” ও “কে বাঁশি বাজায়রে” গানে কণ্ঠ দেন হ্যাপী আখন্দ, “স্বাধীনতা তোমাকে নিয়ে” ও “পাহাড়ি ঝর্ণা” গানে কণ্ঠ দেন হ্যাপী ও লাকী দুজনে, এবং লাকী নিজে “নীল নীল শাড়ি পরে” ও “হঠাৎ করে বাংলাদেশ” গানে কণ্ঠ দেন। আখান্দ ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ঘুড্ডি চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালনা করেন।
২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি মারা যান ।
রুনা লায়লাঃ
রুনা লায়লা একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশী কণ্ঠশিল্পী। বাংলাদেশের বাইরে গজল শিল্পী হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে তার সুনাম আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকেই তিনি চলচ্চিত্রের গায়িকা হিসাবে কাজ শুরু করেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতীয় এবং পাকিস্তানি চলচ্চিত্রের অনেক গানে তিনি কণ্ঠ দিয়েছেন। রুনা লায়লা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা ছিলেন সংগীত শিল্পী।
১৯৬৬ সালে লায়লা উর্দু ভাষার হাম দোনো চলচ্চিত্রে “উনকি নাজরোঁ সে মোহাব্বত কা জো পয়গম মিলা” গান দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আলোচনায় আসেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তান টেলিভিশনে পরিবেশনা করতে থাকেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সালে তিনি জিয়া মহিউদ্দিন শো-তে গান পরিবেশন করতেন এবং ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেওয়া শুরু করেন ।
দিল্লিতে তার পরিচালক জয়দেবের সাথে পরিচয় হয়, যিনি তাকে বলিউড চলচ্চিত্রে এবং দূরদর্শনের উদ্বোধনী আয়োজনে গান পরিবেশনের সুযোগ করে দেন। এক সে বাড়কার এক চলচ্চিত্রের শীর্ষ গানের মাধ্যমে তিনি সংগীত পরিচালক কল্যাণজি-আনন্দজির সাথে প্রথম কাজ করেন। এই গানের রেকর্ডিংয়ের সময় প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লতা মুঙ্গেশকর তাকে আশীর্বাদ করেন। তিনি “ও মেরা বাবু চেল চাবিলা” ও “দামা দম মাস্ত কালান্দার” গান দিয়ে ভারত জুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
সব ধরনের প্রচলিত ও অপ্রচলিত বাংলা গানের কথা সংগ্রহ করে সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য প্রকাশে কাজ করছে ‘লিরিক ডেস্ক’। আপনার কাঙ্ক্ষিত গানটি আমাদের ওয়েবসাইটে না পেলে জানান; আমরা তা সংগ্রহ করে দ্রুত আপলোড করে দেব।