“মানুষ ধরো মানুষ ভজো” গানটি গেয়েছেন বাংলাদেশের খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী । গানটি বাংলা চলচিত্র শ্রাবণ মেঘের দিন ছবির মধ্যে গাওয়া হয়েছে ।
মানুষ ধরো মানুষ ভজো [ Manush Dhoro Manush Bhojo ]
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ বারী সিদ্দিকী
মানুষ ধরো মানুষ ভজো [ Manush Dhoro Manush Bhojo ]
মানুষ ধর মানুষ ভজ
শোন বলিরে পাগল মন
মানুষের ভিতরে মানুষ
করিতেছে বিরাজন
মানুষ কি আর এমনি বটে
যার চরণে জগৎ লুটে
এই না পঞ্চভুতের ঘাটে
খেলিতেছে নিরঞ্জন
চৌদ্দতালার উপরে দালান
তার ভিতরে ফুলের বাগান
লাইলী আর মজনু দেওয়ান
সুখেই করেছে আসন
মানুষ ধর মানুষ ভজ
শোন বলিরে পাগল মন
দুই ধারে দুই কঠোরা
হায়াৎ মউত মাঝখানে ভরা
সময় থাকতে খুঁজরে তোরা
নিকটেতে কালসময়
সোনার পুরী আন্ধার করে
যেদিন পাখি যাবে উড়ে
শূন্যখাঁচা থাকবে পড়ে
কে করবে আর তার যতন
মানুষ ধর মানুষ ভজ
শোন বলিরে পাগল মন
তালাশে খালাশ মেলে
তালাশ করো রংমহলে
উঠিয়া হাবলঙের পুলে
চেয়ে থাকো সর্বক্ষন
দেখিবে হাবলঙের পুলে
দুই দিকেতে অগ্নি জ্বলে
ভেবে রশীদউদ্দিন বলে
চমকিছে স্বর্ণের মতন
বারী সিদ্দিকীঃ
মানুষ ধরো মানুষ ভজো গায়ক বারী সিদ্দিকী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বংশী বাদক। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসংগীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তিনি তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’ প্রভৃতি গানের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোণার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন।
তিনি গোপাল দত্ত এবং ওস্তাদ আমিনুর রহমান থেকে লোক এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পাঠ নিয়েছেন। মূলত বংশী বাদক বারী সিদ্দিকী কথাসাহিত্যিক ও চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের প্রেরণায় নব্বইয়ের দশকে সঙ্গীত জগতে প্রবেশ করেন এবং অল্পদিনেই বিরহ-বিচ্ছেদের মর্মভেদী গানের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।
২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।