রবীন্দ্রজয়ন্তীতে মাকসুরা অন্তরার প্রথম একক অ্যালবাম প্রকাশ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মাকসুরা অন্তরার প্রথম একক সংগীত অ্যালবাম ‘দিলে আমারে জাগায়ে’ আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে। গতকাল সকাল ৯টায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে এই অ্যালবামটি শ্রোতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। রবীন্দ্রসংগীতের মূল ভাবধারা এবং সুরের বিশুদ্ধতা বজায় রেখে তৈরি এই অ্যালবামটি ইতোমধ্যেই সংগীতানুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

অ্যালবামের নেপথ্য কারিগর ও কারিগরি দিক

মাকসুরা অন্তরার এই একক অ্যালবামে মোট আটটি গান স্থান পেয়েছে। প্রতিটি গানের কথা ও সুর বিশ্বকবির নিজস্ব সৃষ্টি থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে গানের বৈচিত্র্য ও ভাবগাম্ভীর্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অ্যালবামটির সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন অম্লান হালদার। গানের শৈল্পিক মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারত ও বাংলাদেশের একঝাঁক অভিজ্ঞ বাদ্যযন্ত্রশিল্পী এতে অংশগ্রহণ করেছেন। সংগীতায়োজনে তবলা, সেতার, সরোদ, বাঁশি ও বেহালার মতো ধ্রুপদী বাদ্যযন্ত্রের সুনিপুণ ব্যবহার করা হয়েছে।

অ্যালবামটির নির্মাণশৈলী অত্যন্ত উচ্চমানের করার লক্ষ্যে দুই দেশের নামকরা স্টুডিওতে রেকর্ডিং সম্পন্ন হয়েছে। কলকাতার রেনেসাঁ স্টুডিও এবং ঢাকার পটমঞ্জরী স্টুডিওতে গানগুলোর শব্দগ্রহণের কাজ করা হয়। পুরো অ্যালবামের শব্দ মিশ্রণ এবং চূড়ান্ত সংস্কারের (মিক্সিং ও মাস্টারিং) গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী চন্দন ঘোষ।

শিল্পী পরিচিতি ও সংগীত জীবন

মাকসুরা অন্তরা শৈশব থেকেই সংগীতের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। মাত্র সাত বছর বয়সে তার সংগীতে হাতেখড়ি হয়। মানিকগঞ্জের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘সূচনা সংগীত বিদ্যানিকেতন’-এ তিনি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চাঙ্গ সংগীত, রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীতের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সংগীতে তার মেধার বিকাশ ঘটে মূলত ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনের মাধ্যমে। সেখানে তিনি অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে রবীন্দ্রসংগীতের পাঠ সম্পন্ন করেন এবং নিজেকে একজন দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তোলেন।

বর্তমানে তিনি পেশাগত জীবনে মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি তার প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছায়ানট সংগীতবিদ্যায়তনে রবীন্দ্রসংগীত বিভাগের শিক্ষক হিসেবেও কর্মরত। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের একজন নিয়মিত তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে সংগীতচর্চা অব্যাহত রেখেছেন।

অ্যালবামের সারসংক্ষেপ ও তথ্যচিত্র

অ্যালবামটির গঠন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তালিকা নিচের সারণিতে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
অ্যালবামের নামদিলে আমারে জাগায়ে
শিল্পীর নামমাকসুরা অন্তরা
গানের সংখ্যাআটটি
গানের ধরণরবীন্দ্রসংগীত
সংগীত আয়োজনঅম্লান হালদার
প্রকাশনা সংস্থাবেঙ্গল ফাউন্ডেশন
রেকর্ডিং স্টুডিওরেনেসাঁ স্টুডিও (কলকাতা) ও পটমঞ্জরী স্টুডিও (ঢাকা)
ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রতবলা, সেতার, সরোদ, বাঁশি ও বেহালা
শব্দ প্রকৌশলীচন্দন ঘোষ

রবীন্দ্রসংগীতের প্রাসঙ্গিকতা ও শিল্পীভাবনা

রবীন্দ্রজয়ন্তীর এই শুভ ক্ষণে মাকসুরা অন্তরার প্রথম একক অ্যালবামের প্রকাশ সংগীতাঙ্গনের জন্য একটি বিশেষ প্রাপ্তি। রবীন্দ্রসংগীতের যে চিরন্তন আবেদন রয়েছে, তা এই অ্যালবামের মাধ্যমে আধুনিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সংগীতাঙ্গনের বোদ্ধারা মনে করছেন, কণ্ঠের মাধুর্য এবং যন্ত্রানুষঙ্গের পরিমিত ব্যবহার অ্যালবামটিকে একটি অনন্য মাত্রা প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘দিলে আমারে জাগায়ে’ অ্যালবামটি রবীন্দ্রসংগীতের মূল আবেদন অক্ষুণ্ণ রেখে সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। রবীন্দ্রানুরাগী শ্রোতাদের জন্য এটি ১৬৫তম রবীন্দ্রজয়ন্তীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।