রাগ নির্ঝরিণী একটি নজরুলসৃষ্ট রাগ। ১৬ই জানুয়ারি ১৯৪০ সংখ্যার বেতার জগৎ-এ কবির এই রাগ সম্পর্কে লিখেছিলেন:
“এই রাগিণী উত্তরাঙ্গ প্রধান, অবরোহণের তীব্র নিখাদ গুপ্ত থাকে অর্থাৎ বর্জিত নয়, বিবাদী। অবরোহণে ধৈবতে আন্দোলনকালে কিছুটা ভৈরো ঠাটের জিলেফের আভাস আসে। ইহার গতি ‘শোখ’ অর্থাৎ চঞ্চল। ঝর্ণাধারার মত অবরোহণকালে ইহার চঞ্চলগতি ফুটিয়া উঠে। জলধারার মেঘরূপে পর্বতারোহণের মত ইহার গতি গম্ভীর ও শ্লথ এবং অবরোহণে গতি চঞ্চলা বলিয়া ইহার নাম নির্ঝরিণী।”
রাগ নির্ঝরিণী
এই রাগের আরোহণে ঋ, দ ও ন এবং অবরোহণে ন ব্যবহৃত হয়। তবে রঞ্জকতার প্রয়োজনে মাঝে মাঝে অবরোহণে ‘ন’ আগন্তক স্বর রূপে ব্যবহৃত হয়। সম প্রকৃতির রাগ জিল্ফ। বিশেষ করে অবরোহণে ‘ জিল্ফ্’- এর রূপ পাওয়া যায়।
আরোহণ:স প, গ ম প, র্স।
অবরোহণ: র্স,ণদ প, ম গ ম, ঋ স।
ঠাট: ভৈরব
জাতি: ঔড়ব-ষাড়ব
বাদীস্বর: পঞ্চম।
সমবাদী স্বর: ষড়্জ
অঙ্গ: পূর্বাঙ্গ প্রধান।
সময়: প্রাতঃকাল।
প্রকৃতি: গম্ভীর
পকড় : স প, গ ম প, ম গ ম, ঋ স, প্ স।
এই রাগে নিবদ্ধ কাজী নজরুল ইসলামের একটি গান পাওয়া যায়। গানটি হলো−
রুম্ ঝুম্ রুমু ঝুম্ কে বাজায় জল ঝুমঝুমি। [তথ্য]
সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর একজন বাংলাদেশি শিক্ষক, উদ্যোক্তা, সঙ্গীতানুরাগী ও সঙ্গীতের পৃষ্ঠপোষক। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত, বিশেষত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত নিয়ে তিনি নিয়মিত লেখালেখি ও গবেষণামূলক চর্চা করেন। সঙ্গীতের ঐতিহ্য, নান্দনিকতা ও জ্ঞানকে বৃহত্তর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছেন। সঙ্গীতের প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণে তাঁর আগ্রহ এবং সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে একজন নিবেদিতপ্রাণ সঙ্গীতপ্রেমী হিসেবে পরিচিত করেছে।














