শ্রাবণী সেন একজন ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। ইনি বিখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী সুমিত্রা সেনের কন্যা এবং গায়িকা ইন্দ্রাণী সেনের অনুজা।
Table of Contents
শ্রাবণী সেন । বাঙালি রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী
প্রথম জীবন
শ্রাবণী সেন কলকাতার পাঠভবন বিদ্যালয়ে তার বিদ্যালয় শিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে তিনি কলকাতার গোখেল মেমোরিয়াল গার্লস কলেজ থেকে ভূগোলে সাম্মানিক স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর সম্পূর্ণভাবে সঙ্গীতজগতে প্রবেশ করার আগে তিনি মনোরমা পত্রিকার হয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
শিল্পী জীবন
প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সুমিত্রা সেনের কন্যা হয়েও শৈশবে তার সঙ্গীতের প্রতি বিশেষ ঝোঁক ছিল না। সেই সময় তিনি তবলাবাদনে কিছু দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। পরে তিনি গীতবিতান থেকে সঙ্গীতশিক্ষা করেন। এমএসসি পাশ করার পরে তিনি একটি পত্রিকায় চাকরি করত, পরবর্তিতে সেই পত্রিকাই উঠে গেলে তার মায়ের কথায় সে রবীন্দ্রনাথের গান গাওয়া শুরু করে। তার পর থেকে রবীন্দ্রনাথের গানই তার ঘর-বাড়ি-আশ্রয়।
গান শেখা বা পেশা হিসেবে বাছার কৃতিত্বের পুরোভাগে যদি তার মা থাকলেও, অন্য দিকে গান শোনানোর কৃতিত্ব পুরোটাই ছিল তার বাবার। নিজে গান না শিখলেও, সব ধরনের গান শোনার ব্যাপারে তার বাবা ছিলেন দারুণ উৎসাহী। বলা যায়, তাদের সকলের গানের উৎসই ছিলেন বাবা।
১৯৯৩ সালে রবীন্দ্রসঙ্গীতে তার প্রথম অ্যালবাম “আমার একটি কথা” প্রকাশিত হয়। এরপরে ১৯৯৬ সালে তার দ্বিতীয় অ্যালবাম “বন্ধু রহো সাথে” প্রকাশ লাভ করে।
২০০০ সালে তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত উৎসব ছবিতে “অমল ধবল পালে লেগেছে” গানটি গেয়ে প্রথম নেপথ্যকণ্ঠশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তিনি বিদেশেও একাধিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
নেপথ্যকণ্ঠশিল্পী হিসেবে “দেখা” (গৌতম ঘোষ পরিচালিত), “বাড়িওয়ালি” (ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত), “স্বপ্নের ফেরিওয়ালা” (সুব্রত সেন পরিচালিত), “সাঁঝবাতির রূপকথারা” (অঞ্জন দাস পরিচালিত), “বালিগঞ্জ কোর্ট” (পিনাকী চৌধুরী পরিচালিত), “হেমন্তের পাখি” (ঊর্মি চক্রবর্তী পরিচালিত) সহ বহু চলচ্চিত্রে তিনি গান করেন।
পুরস্কার
২০০০ সালে তিনি ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত উৎসব ছবিতে গান গেয়ে বেঙ্গল ফিল্ম জার্নালিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ মহিলা নেপথ্যকণ্ঠশিল্পী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেন।
