সঙ্গীতের সময়কাল বিভাজন । সঙ্গীতের ইতিহাস

সঙ্গীতের সময়কাল বিভাজন: কোন মানুষের জীবনী যেমন তার শৈশব বাদ দিয়ে অসম্পূর্ণ, কোন বিষয়ের বর্ণনাও তেমনি যথাসম্ভব প্রথম থেকে আরম্ভ করাই যুক্তিযুক্ত। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার যদুনাথ সরকার বলেছেন :

“…It is the duty of the historian not to let that past be forgotten. He must trace these gifts back to their sources, give them their due place in time scheme, and show how they influenced or prepared the succeeding ages.” – Sir Jadu Nath Sarker: India through Ages. 1951.

 

সঙ্গীতের সময়কাল বিভাজন । সঙ্গীতের ইতিহাস

সংগীত সাধনায় আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রধান হলেও ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টির উপযোগিতাও কম নয়। কারণ ব্যবহারিক (practical) এবং ঔপপত্তিক (theoretical) অংশদ্বয়ের মধ্যে ছায়া ও কায়ার মতো নিবিড় সম্বন্ধ আছে।

ইতিহাসের ভিত্তিতে জানা যায় যে, ভারতবর্ষের পূর্বাচার্যেরাই সমগ্র বিশ্বকে জ্ঞানবিজ্ঞানের সমৃদ্ধি দান করে গৌরবোজ্জ্বল স্বাক্ষর রেখে গেছেন। দেশ বিদেশের মনীষীগণ সে কথা মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করেছেন। যার উল্লেখ করে স্বামী অভেদানন্দ বলেছেন:

“…If we read the writings and other historical accounts left by Pliny, Strabo, Magesthenes, Herodotus, Ptophyry and other ancient authors of different countries, we shall see how highly the civilization of India was regarded by them. In fact between the years 1500 and 500 B.C., the Hindus were so far advanced in religion, metaphysics, philosophy, science, art, music and medicine that no other nation could stand as their rival, or compete with them in any of these branches of knowledge.” – Swami Abhedanand: India and her people. 1905-6.

অর্থাৎ প্রাচীন ভারতের সঙ্গে বিশ্বের সম্পর্ক আধুনিককালের মতো অক্ষমতা বা দীনতাপূর্ণ ছিল না। প্রাচীন সেই সভ্যতা গড়ে উঠতে বহুকাল সময় লেগেছিল। কেননা কোন দেশের জ্ঞান বিকাশ যুগে যুগে বিভিন্ন প্রতিভার স্পর্শে হয়ে থাকে। পরিবর্তনশীল জগতে নিত্য নবীন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে অন্যান্য বিষয়ের মতো সংগীতকলাও বিকাশলাভ করেছে।

মাটির স্তর দেখে যেমন ভূতত্ত্ববিদগণ নানাবিধ পৌরাণিক তথ্যাদি অনুমান ও প্রমাণ করেছেন, সংগীত সম্বন্ধে তেমন কোন প্রক্রিয়া না থাকলেও হরপ্পা, মহেঞ্জোদড়ো প্রভৃতি নানা স্থানের খননকার্যে প্রাপ্ত বহু বিচিত্র বাদ্যযন্ত্র ও অন্যান্য দ্রব্যসম্ভার থেকে গবেষকগণ বহুবিধ তত্ত্ব ও তথ্যাদি অনুমান ও প্রমাণ করেছেন। তাদের সিদ্ধান্ত হোল, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই সংগীত প্রচলিত ।

সংগীত বিবর্তনের এই সুদীর্ঘকালকে কোন সঠিক পর্যায়ক্রমে ভাগ করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ, হয়তো বা অসম্ভব। কারণ এ সম্পর্কে এত মতপার্থক্য আছে যে, কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কঠিন। তবে সংগীতালোচনার সুবিধার্থে মোটামুটিভাবে এইরূপে বিভক্ত করা হোল—

(১) প্রাগৈতিহাসিক কাল : ৫০০০ (?) থেকে ৩০০০ (?) খৃষ্টপূর্বাব্দ।
(২) বৈদিক যুগ :
(ক) অতি প্রাচীন বৈদিক যুগ : ৩০০০ থেকে ৬০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ।
(খ) প্রাচীন বৈদিক যুগ : খৃষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দ থেকে খৃষ্টীয় ১১শ শতাব্দী।
(৩) মধ্য বা মুসলমান যুগ : ১১শ শতাব্দী থেকে ১৮শ শতাব্দী।
(৪) আধুনিক বা ইংরেজ যুগ : ১৮ শতাব্দী থেকে ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দ ।
(৫) স্বাধীন ভারত : ১৯৪৭ খৃষ্টাব্দ থেকে পরবর্তীকাল।

 

Leave a Comment