সংগীতের একটি বিশেষ ধারা। খেয়াল, তারানা, সরগম ও বোলবাণী মিশ্রিত করে যে গান গাওয়া হয় তাকে বলে চতুরঙ্গ। এই গানের চারটি অঙ্গ বা ভাগের প্রথম অংশ স্থায়ী, যেখানে থাকে গানের কথা বা বাণী বা পদ। দ্বিতীয় অংশে থাকে তারানার বোল, তৃতীয় অংশে সরগম এবং চতুর্থ বা শেষ অংশে থাকে পাখোয়াজ বা তবলার বোল।
চারটি পৃথক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ বিষয়কে ঘিরে গাওয়া হয় বলে সংগীতের বিশেষ এই শৈলীটি চতুরঙ্গ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। রাগের শুদ্ধতাকে রক্ষা করে খেয়াল গানের ঢংয়ে চতুরঙ্গ গাওয়া হয়। খেয়াল গানের আভোগ অংশে যেমন গায়কের নাম থাকে তেমনি উক্ত গানের প্রথম অংশ বা স্থায়ীতে ‘চতুরঙ্গ’ কথাটি উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
এই শৈলীর গান বর্তমানে তেমন প্রচলিত নয় বলে খুব একটা শোনাও যায় না। চতুরঙ্গের প্রচলন ছিল এমন সময়ের একটি জনপ্রিয় গান উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করা হলো –
Table of Contents
চতুরঙ্গ গাওবো সখীরি আজ
সখীয়ন ভুলি সব কাজ ॥
নাদির দির দানী তোম তন দিরদির না
দীমতন নাদিম তোমতন নননা।।
সরগম ধামগ মধসা র্রর্গর্রর্স
নধমগ মধমগ রগমগ রগরস ।
ধাধা ধা কিটতক কিড়ধা ধা ক্রাং ধা
ধা কড়াং ধা ধা কড়াং ধা দানী ॥
[রাগ : গুর্জরি টোরি, ঠাট: টোরি, বাদীস্বর : ধ, সমবাদীস্বর গ/র, জাতি : ষাড়ব-ষাড়ব, অঙ্গ : উত্তরঙ্গ প্রধান, গায়ন সময় দিবা দ্বিতীয় প্রহর, তাল: ত্রিতাল (১৬ মাত্রা), আরোহী : স ঋজ্ঞ ক্ষ দ ন র্স, অবরোহী : স ন দ ক্ষ জ্ঞ ঋজ্ঞ ঋস ।]