কায়া-হেলাল থেকে ন্যান্‌সি: হাবিবের সংগীতজগতের যাত্রা

বাংলা সংগীতের আধুনিক ফিউশন ধারার পথপ্রদর্শক হাবিব ওয়াহিদ তাঁর সংগীতজীবন শুরু করেন নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে লন্ডনে। সেখানে প্রবাসী জীবনের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন সুরশৈলী আবিষ্কার করেন, যা দেশে ফেরার পর বাংলা সংগীতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। সম্প্রতি আমাদের প্রতিনিধি কে বলেন
-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাবিব তাঁর লন্ডন অভিজ্ঞতা, দেশীয় লোকজ সঙ্গীতের সঙ্গে কাজ এবং তার পরিচিত শিল্পীদের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতি শেয়ার করেছেন।

লন্ডন প্রবাস এবং কায়া-হেলালের সঙ্গে সংযোগ

১৯৯৯ সালে হাবিব লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানকার সপ্তাহান্তের একটি রেস্তোরাঁয় তিনি লাইভ পারফরম্যান্স করতেন, যেখানে মূলত ইংরেজি কভার গান পরিবেশন হতো। হাবিব জানান, “সেই রেস্তোরাঁর মালিক কায়ার বন্ধু এবং হেলালের ভগ্নিপতি ছিলেন। সেখান থেকেই কায়া-হেলালের সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।” প্রবাসজীবনে হাবিব বাংলার লোকজ সঙ্গীতকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন এবং দেশে ফেরার পর প্রথম অ্যালবাম ‘কৃষ্ণ’-এ এটি প্রতিফলিত হয়।

অ্যালবামপ্রকাশের বছরবৈশিষ্ট্যজনপ্রিয় গান
কৃষ্ণ২০০৩লোকগান ও পশ্চিমী সুরের ফিউশনআমি কূলহারা কলঙ্কিনী, কালা
মায়া২০০৪কায়া-হেলালের সঙ্গে যুগলবন্দীবন্দে মায়া লাগাইছে, কুহু সুরে মনের আগুন
পাঞ্জাবিওয়ালা২০০৮শিরিনের কণ্ঠ সংযোজনপাঞ্জাবিওয়ালা, মনের বাগানে, ওরে আমার ময়না পাখি

শিরিন: বাউল কুইনের সঙ্গে সঙ্গীত

হাবিব শিরিনের সঙ্গে পরিচয় পান লন্ডনের এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে। শিরিন তখন স্থানীয় কমিউনিটিতে ‘বাউল কুইন’ নামে পরিচিত ছিলেন। হাবিব বলেন, “তার কণ্ঠে একটা বিশেষ ইউনিক স্বর ছিল। তখনই মনে হয়েছিল, একসাথে কিছু করা উচিত।” ২০০৮ সালে প্রকাশিত অ্যালবাম ‘পাঞ্জাবিওয়ালা’ তাদের যুগলবন্দী সাফল্যের এক নিদর্শন।

ন্যান্‌সির আবিষ্কার এবং নতুন ধারার সূচনা

হাবিবের মাধ্যমে বাংলা সংগীত জগতে উঠে আসে ন্যান্‌সি। তাদের প্রথম কাজ ছিল একটি বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল, পরবর্তীতে ‘তোমাকে ছেড়ে আমি কী নিয়ে থাকব’ গানের অংশে ন্যান্‌সির কণ্ঠ ব্যবহার হয়। এরপর তারা বহু চলচ্চিত্রের আধুনিক গান তৈরি করেন। হাবিব বলেন, “ন্যান্‌সির সঙ্গে কাজ করা আমার কমফোর্ট জোন। তার ভয়েসটা শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য।”

অচেনা প্রতিভাদের প্রণোদনা

হাবিব নতুন বা কম পরিচিত প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আরফিন রুমি, ইমরান মাহমুদুল ও প্রীতম হাসানরা হাবিবের সহায়তা নিয়ে নিজেদের ক্যারিয়ারে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পেয়েছে। হাবিব বলেন, “আমি কাউকে তৈরি করি না, শুধু তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চেষ্টা করি।”

বর্তমানে হাবিব ইউটিউব চ্যানেলের জন্য নতুন কাজের সঙ্গে ব্যস্ত আছেন এবং ঈদে প্রচারের অপেক্ষায় থাকা ‘ইত্যাদি’-এর জন্যও গান রেকর্ড করছেন। তাঁর সঙ্গীতজগতে প্রবাস থেকে শুরু করা এই যাত্রা এখনো নবীন শিল্পীদের অনুপ্রেরণার উৎস।

এইভাবে হাবিব ওয়াহিদ কায়া-হেলাল, শিরিন ও ন্যান্‌সির সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে বাংলা সংগীতে আধুনিক ফিউশন ও লোকসঙ্গীতের মিলনের নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করেছেন।

Tags :

জনপ্রিয় খবর

জনপ্রিয় বিভাগ

সম্পাদক ও প্রকাশক : সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর।

আমাদের সম্পর্কে

সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN হলো সংগীতপ্রেমীদের জন্য একটি অনলাইন জ্ঞান ও তথ্যভান্ডার। এখানে থাকছে গানের কথা ও বাণী, শিল্পী ও সংগীত ব্যক্তিত্বের তথ্য, গানের ধরন, সংগীত শিক্ষা, ইতিহাস, রিভিউ এবং সংগীতজগতের সাম্প্রতিক নানা বিষয়। সংগীতকে জানা, শেখা ও ভালোবাসার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ইমেইল করুন:

Press Release: pr@bn.musicgoln.com

Complaint: complaint@bn.musicgoln.com

Contact: +8801775895618

© ২০২৬ সঙ্গীত গুরুকুল, GOLN। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।