পপ সঙ্গীতের সম্রাজ্ঞী বিয়ন্সে বরাবরই চমক দিতে ভালোবাসেন। ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করার পর ভক্তরা নতুন কিছুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কোনো ধরনের আগাম ঘোষণা ছাড়াই মুক্তি পেল তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’। হুট করে গানটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
এই নতুন গানটি কেবল একটি একক গান হিসেবেই আসেনি, বরং এর পেছনে রয়েছে একটি বড় ঘরানার উদ্যাপন। এই ট্র্যাকটি প্রকাশের মাধ্যমে বিয়ন্সের ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল ও মাইলফলক ছোঁয়া অ্যালবাম ‘বি-ডে’র ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের অফিশিয়াল কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে বাজারে এসেছিল বিয়ন্সের দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘বি-ডে’। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়ে বিশ্বব্যাপী দারুণ সাড়া ফেলেছিল। আগামী সেপ্টেম্বরে এই জনপ্রিয় অ্যালবামের দুই দশক পূর্ণ হতে যাচ্ছে। এই বিশেষ মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর বিয়ন্সের ৪৫তম জন্মদিনে প্রকাশ পেতে যাচ্ছে ‘বি-ডে’র একটি বিশেষ সংস্করণ, যেখানে সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘মর্নিং ডিউ’ গানটিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
গতকাল গানটি আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রোতাদের মাঝে এলেও এর পেছনের গল্পটি বেশ পুরোনো। মূলত ২০১৩ সালে তাঁর নিজের নামের ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামে রাখার জন্য এই গানটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল। তবে কোনো এক অজানা কারণে সে সময় গানটি আলোর মুখ দেখেনি। অনেক বছর পর, ২০২৩ সালে হঠাৎ করেই এই গানের একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। লিক হওয়ার পর জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটকে গানটি নিয়ে রীতিমতো হইচই পড়ে যায়। সাধারণ শ্রোতা থেকে শুরু করে বিয়ন্সের ভক্তরা গানটির পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। অবশেষে ভক্তদের সেই দীর্ঘদিনের দাবি ও আগ্রহের প্রতি সম্মান জানিয়ে বিয়ন্সের নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট গানটি অফিশিয়ালি মুক্তি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
একটি সফল গানের পেছনে সবসময় একঝাঁক প্রতিভাবান মানুষের মেধা থাকে। ‘মর্নিং ডিউ’ গানটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। গানটির সুর, নির্মাণ ও পেছনের মূল তথ্যগুলো নিচে একটি তালিকায় সাজানো হলো:
‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’ গানের একনজরে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| ক্র. নং | বিষয়ের বিবরণ | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| ১ | গানের শিরোনাম | মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক) / Morning Dew (Donk) |
| ২ | প্রধান mini-শিল্পী | বিয়ন্সে (Beyoncé) |
| ৩ | সহ-প্রযোজক ও সুরকার | ফারেল উইলিয়ামস (Pharrell Williams) |
| ৪ | যৌথ গীতিকারবৃন্দ | বিয়ন্সে, ফারেল, অ্যাঞ্জেলা শেরি, ড্যারিয়াস ডিকসন ও দ্য ড্রিম |
| ৫ | গানটি প্রথম তৈরির সাল | ২০১৩ সাল (বিয়ন্সে অ্যালবামের জন্য) |
| ৬ | অনলাইনে ডেমো লিক হওয়ার সাল | ২০২৩ সাল (টিকটকে ভাইরাল হয়) |
| ৭ | অফিশিয়াল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান | পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট (Parkwood Entertainment) |
| ৮ | মিউজিক ভিডিওর পরিচালক | ক্লিফ ওয়াটস (সাদাকালো ফরম্যাট) |
| ৯ | ভিডিওতে ব্যবহৃত আর্কাইভ ফুটেজ | ২০০৭ সালের ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ সুইমস্যুট শুটিংয়ের দৃশ্য |
| ১০ | পরবর্তী প্রকাশনা ও রিইস্যু | ৪ সেপ্টেম্বর (বিয়ন্সের ৪৫তম জন্মদিনে ‘বি-ডে’ স্পেশাল এডিশন) |
গানটি অডিও আকারে মুক্তির পাশাপাশি ভক্তদের ভিজ্যুয়াল ট্রিট দিতেও ভোলেননি এই পপ তারকা। নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে তিনি গানটির একটি চমৎকার সাদাকালো মিউজিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ভিডিওটি পরিচালনা করেছেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহকর্মী ও প্রখ্যাত ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস।
এই মিউজিক ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর পুরোনো ও দুষ্প্রাপ্য কিছু দৃশ্য। এতে বিয়ন্সের ২০০৭ সালের বিখ্যাত ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ সুইমস্যুট ISSUE-র শুটিংয়ের সময়কার কিছু অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ ব্যবহার করা হয়েছে। নস্টালজিক এই পুরোনো ফুটেজগুলো গানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে, যা বিয়ন্সের ভক্তদের মুহূর্তেই দুই দশক আগের চেনা সোনালী স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বিয়ন্সের এই আকস্মিক প্রত্যাবর্তন বিশ্ব সঙ্গীত দুনিয়ায় এক নতুন জোয়ার এনেছে।
