শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে [ Shunile Pran Chomke Uthe ] | লালন শাহ্‌

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে [ Shunile Pran Chomke Uthe ] | লালন শাহ্‌

“শুনিলে প্রাণ চমকে’ ওঠে” খুবই জনপ্রিয় একটি লালনগীতি ।  গানটি লিখেছেন লালন’ শাহ্‌ । লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এই মনোভাব থেকেই তিনি তার গান রচনা করেছেন । মূলত তার রচিত গানগুলো কেই লালনগীতি বলে ।

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে [ Shunile Pran Chomke Uthe ] | লালন শাহ্‌

গীতিকারঃ লালন শাহ্‌ 

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে লিরিক্স :

 

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে

দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যা ছুঁইলে প্রাণে মরি

এই জগতে তাইতে তরি

যা ছুঁইলে প্রাণে মরি

এই জগতে তাইতে তরি

বুঝেও তা বুঝতে নারি

বুঝেও তা বুঝতে নারি

কীর্তিকর্মার কী কারখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে

দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে

আত্মতত্ত্ব যে জেনেছে

দিব্যজ্ঞানী সেই হয়েছে

কু-বৃক্ষে সুফল পেয়েছে

কু-বৃক্ষে সুফল পেয়েছে

আমার মনের ঘোর গেল না

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যে ধনে উৎপত্তি প্রাণধন

সেই ধনেরই হলো না যতন

যে ধনে উৎপত্তি প্রাণধন

সেই ধনেরই হলো না যতন

অকালের ফল পাকায় লালন

অকালের ফল পাকায় লালন

এই দুঃখের দোসর মিললো না

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে

শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে

দেখতে যেমন ভুজঙ্গনা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

যেখানে সাঁইর বারামখানা

লালন ‘শাহঃ 

লালন  ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী একজন বাঙালি যিনি ফকির লালনলালন সাঁইলালন ‘শাহমহাত্মা লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত। লালনের জীবন সম্পর্কে বিশদ কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তার সবচেয়ে অবিকৃত তথ্যসূত্র তার নিজের রচিত ২৮৮টি গান। কিন্তু লালনের কোনো গানে তার জীবন সম্পর্কে কোনো তথ্য তিনি রেখে যাননি, তবে কয়েকটি গানে তিনি নিজেকে “লালন ফকির” হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। যিনি ধর্ম, বর্ণ, গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। লালনের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গবেষকদের মাঝে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে ।

 

YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 শুনিলে প্রাণ চমকে ওঠে [ Shunile Pran Chomke Uthe ] | লালন শাহ্‌
আমাদেরকে গুগল নিউজে ফলো করুন

 

লালনের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, লালন ধার্মিক ছিলেন, কিন্তু কোনো বিশেষ ধর্মের রীতিনীতি পালনে আগ্রহী ছিলেন না। সব ধর্মের বন্ধন ছিন্ন করে মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন জীবনে ।

লালনের গানে মানুষ ও তার সমাজই ছিল মুখ্য। লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝে বাস করে এক মনের মানুষ। আর সেই মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় আত্মসাধনার মাধ্যমে। দেহের ভেতরেই মনের মানুষ বা যাকে তিনি অচিন পাখি বলেছেন, তার বাস। সেই অচিন পাখির সন্ধান মেলে পার্থিব দেহ সাধনার ভেতর দিয়ে দেহোত্তর জগতে পৌঁছানোর মাধ্যমে। আর এটাই বাউলতত্ত্বে ‘নির্বাণ’ বা ‘মোক্ষ’ বা ‘মহামুক্তি’ লাভ।

১৮৯০ সালের ১৭ই অক্টোবর লালন মৃত্যুবরণ করেন।  

 

 

Leave a Comment