“সর্বনাশা পদ্মা নদী” গানটি বাংলার খুবই জনপ্তির একটি গান । গানটি বাংলাদেশ এর অন্যতম বড় নদী পদ্মা নদী নিয়ে লেখা গান যা লেখেছেন খ্যাতনামা বাংলাদেশী গীতিকার আব্দুল লতিফ এবং গেয়েছেন আব্দুল আলীম ।
সর্বনাশা পদ্মা নদী [Sorbonasha podda nodi]
গীতিকারঃ আব্দুল লতিফ
প্রথম রেকর্ডের কন্ঠশিল্পীঃ আব্দুল আলীম
সর্বনাশা পদ্মা নদী [Sorbonasha podda nodi]
সর্বনাশা পদ্মা নদী
তোর কাছে শুধাই
বল আমারে তোর কি রে আর
কূল কিনারা নাই ॥
পাড়ের আশায় তাড়াতাড়ি
সকাল বেলায় ধরলাম পাড়ি
আমার দিন যে গেল সন্ধ্যা হলো
তবু না কূল পাই ॥
পদ্মা রে তোর তুফান দেইখা
পরাণ কাঁপে ডরে
এই না আমায় মারিস নে তোর
সর্বনাশা ঝড়ে।
একে আমার ভাঙ্গা তরী
মাল্লা ছয়জন শল্লা করি
আমার নায়ে দিল কুড়াল মারি
কেমনে পাড়ে যাই ॥
আব্দুল লতিফঃ
আব্দুল লতিফ একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশী গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী। তিনি ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত আবদুল গাফফার চৌধুরীর কবিতা আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো এর প্রথম সুরকার। পরবর্তীকালে তিনি নিজেও ভাষা আন্দোলনের উপর অসংখ্য গান রচনা করেছেন । তিনি ১৬ বছর বয়স থেকে গান গাইতে শুরু করেন। ১৯৪৮ সালের জুলাই মাসে তিনি ঢাকায় আসেন এবং পরের মাসে রেডিও পাকিস্তানের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে যোগ দেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন মঞ্চ অনুষ্ঠানে গান গাইতেন এবং ভাষা আন্দোলনে অণুপ্রেরণা যোগাতেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে চাকরি করেছেন।
এই খ্যাতনামা বাংলাদেশী গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী ২০০৫ সালে মৃত্যূবরণ করেন ।
আব্দুল আলীম:
আব্দুল আলীম ছিলেন বাংলাদেশের লোক সঙ্গীতের একজন শিল্পী। যিনি লোক সঙ্গীতকে অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে জীবন জগৎ এবং ভাববাদী চিন্তা একাকার হয়ে গিয়েছিল। আবদুল আলীমের জন্ম ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই। তিনি বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের (ভারত) মুর্শিদাবাদের তালিবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই আলীম সঙ্গীতের প্রবল অনুরাগী ছিলেন। অর্থনৈতিক অনটনের কারণে কোনো শিক্ষকের কাছে গান শেখার সৌভাগ্য তার হয়নি। তিনি অন্যের গাওয়া গান শুনে গান শিখতেন; আর বিভিন্ন পালা পার্বণে সেগুলো গাইতেন ।
![সর্বনাশা পদ্মা নদী [Sorbonasha podda nodi] 1 YaifwwriN4BzRFCyqbslL4 সর্বনাশা পদ্মা নদী [Sorbonasha podda nodi]](https://bn.musicgoln.com/wp-content/uploads/1965/12/YaifwwriN4BzRFCyqbslL4-300x225.png)
বাবার নাম ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। প্রাইমারি স্কুলে পড়বার সময় গ্রামোফোন রেকর্ডে গান শুনে গান গাইবার জন্য আগ্রহ জন্মে। ছোটবেলায় তার সঙ্গীত গুরু ছিলেন সৈয়দ গোলাম আলী। ঐ অল্প বয়স হতেই বাংলার লোক সঙ্গীতের এই অমর শিল্পী গান গেয়ে নাম করেছিলেন। মাত্র তেরো বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে তার গানের প্রথম রেকর্ড হয়।
দেশ বিভাগের পরে আব্দুল আলীম ঢাকায় চলে আসেন এবং রেডিওতে স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে গান গাইতে শুরু করেন। তিনি পরে টেলিভিশন সেন্টার চালু হলে সেখানেও সঙ্গীত পরিবেশন শুরু করেন। এছাড়াও তৎকালীন বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ সহ বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে আব্দুল আলীম গান করেছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রটি হলো ‘লালন ফকির’। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০টির মতো গান রেকর্ড হয়েছিল তার ।