“আমি কেমন করে পত্র লিখিরে” গানটি মুজিব পরদেশীর গাওয়া খুবই জনপ্রিয় একটি গান। মুজিব পরদেশী বাংলাদেশি একজন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী। তিনি লোকগীতি ধারার শিল্পী হিসেবেই বিশেষ পরিচিত। গান্তির সুর করেছেন বিদিত লাল ।
আমি কেমন করে পত্র লিখিরে [ Potro Likhi ]
গীতিকারঃ মুজিব পরদেশী
সুরকারঃ বিদিত লাল দাস
আমি কেমন করে পত্র লিখিরে [ Potro Likhi ]
আমি কেমন করে পত্র লিখিরে বন্ধু
গ্রাম পোস্টাফিস নাই জানা
তোমায় আমি হলেম অচেনা।।
বন্ধুরে………..
হইতা যদি দেশের দেশি
শ্রীচরণে হইতাম দাসী গো
আমি দাসী হইয়া সঙ্গে যাইতাম রে
শুনতাম না কারও মানা।।
তোমায় আমি………
বন্ধুরে………..
শুইলে না আসেরে নিদ্রা
ক্ষণে ক্ষণে আসে তন্দ্রা গো
আমি স্বপন দেখে জেগে উঠিরে বন্ধু
কেঁদে ভিজাই বিছানা।।
তোমায় আমি………
বন্ধুরে………..
মনমোহনের মনের ব্যথা
বলা যায়না যথাতথা গো
আমি কার কাছে বলিবো ব্যথা গো
কেহ নয় মোর আপনা।।
তোমায় আমি………
মুজিব পরদেশীঃ
মুজিব পরদেশী পিতার নাম ইউসুফ আলী মোল্লা। তিনি পাকিস্তানের করাচিতে ব্যবসা করতেন। মুজিব পরদেশী করাচীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬ বোন,৩ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। ১৯৬৫ সালে ১১ বছর বয়সে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মাস্টার্স ডিগ্রী লাভ করেন।
করাচীতে ওস্তাদ আশিক আলীর কাছে তবলা শেখা শুরু করেন। শৈশবেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ গোলাম হায়দার আলী খান, ওস্তাদ ফজলুল হক, ওস্তাদ আমানুল্লাহ’র নিকট। তবলা শিখেছেন ওস্তাদ মনির হোসেন খান ও ওস্তাদ সাজ্জাদ হোসেন খানের কাছে। তিনি দীর্ঘদিন গান করছেন লোকগীতির কিংবদন্তী আবদুল আলীমের সাথে। তিনি গণমানুষের জন্য গান করেছেন। তিনি স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী ছিলেন ।
বিদিত লালঃ
আমি কেমন করে পত্র লিখিরে গানের সুরকার বিদিত লাল ১৯৩৮ সালের ১৫ জুন সিলেটের শেখঘাটে সম্ভ্রান্ত জমিদার লাল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার দাদা বঙ্ক বিহারী দাস ছিলেন স্থানীয় জমিদার। তার পরিবার ভারতীয় কংগ্রেস পার্টির সাথে যুক্ত ছিল। বিদিতের পিতা বিনোদ লাল দাস ছিলেন আসাম সংসদের একজন সংসদ সদস্য এবং মাতা প্রভা রানী দাস। বিদিত লাল মুত্রথলী ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হন। ২০১২ সালের ৭ সেপ্টেম্বর অবস্থায় তাকে সিলেটের এলাইড ক্রিটিক্যাল কেয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়েছিল।অবস্থার অবনতি ঘটলে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২০১২ সালের ৮ অক্টোবর তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।