রাগ দেশ উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত পদ্ধতিতে খাম্বাজ ঠাটের অন্তর্গত রাগ বিশেষ। আরোহণে গান্ধার ও ধৈবত বর্জিত, অবরোহণ সম্পূর্ণ। দুই নিষাদই ব্যবহৃত হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে যে কটি রাগ অত্যন্ত জনপ্রিয়- রাগ “দেশ” তার মধ্যে অন্যতম। দেশ রাগটি মধ্যরাত্রির রাগ। এবং অত্যন্ত শ্র“তি মধুর রাগ এটি।
অবরোহনে কোমল নিষাদের প্রয়োগ রস বৃদ্ধি করে। রাগটির খাম্বাজ ঠাটে। খাম্বাজ ঠাটের মূল্য বৈশিষ্টই হল কোমল ণি-র ব্যবহার। এই কোমল ণি-র জন্যই খাম্বাজ ঠাট ফোক গান এর জন্য উপযোগী। ইউরোপে খাম্বাজকে বলে মিক্সিলিডিয়ান মোড। রে মাপা ণিধাপা -এই স্বরগুচ্ছগুলি দেশ রাগের পরিচয় বহন করে। রাগ বৃন্দাবনি সারং এর আরোহনও দেশ রাগের মতই। এবং অবরোহনেও দেশ রাগে মতই কোমল নিষাদ ব্যবহৃত হয়। এজন্য, দেশ রাগ গাওয়ার সময় সতর্কতার সাথে বৃন্দাবনি সারং থেকে পৃথক রাখতে হয়।
মাঝরাত্তিরে যখন এই স্বরগুলি (কন্ঠে কি যন্ত্রে) বাজে তখন … তখন কী এক অর্নিবচনীয় আবেগ টের পাওয়া যায় …আশ্চর্য এই রাগ …। তবে মাঝরাতেই যে এই রাগটি শুনতে হবে; অন্য সময়ে শোনা যাবে না এমন কথার কোনও মানে হয় না।
রাগ দেশ রাগটির সংক্ষিপ্ত করিগরি পরিচয় :
আরোহণ: স র ম প ন র্স
অবরোহণ : র্স ণ ধ প ম গ র গ স
ঠাট : খাম্বাজ
জাতি : ঔড়ব-সম্পূর্ণ।
বাদীস্বর : ঋষভ (মতান্তরে পঞ্চম)
সমবাদী স্বর : পঞ্চম (মতান্তরে ঋষভ)
অঙ্গ : উত্তরাঙ্গ।
সময় : রাত্রি দ্বিতীয় প্রহর।
পকড় : র ম গ র, ম প, ন ন র্স, র্ ণ ধ প
সা রে গা মা-এই চারটি স্বর হল পূর্বাঙ্গ বা লোয়ার ট্রেটরা কর্ড; মা পা ধা নি র্সা-এই চারটি স্বর হল উত্তরাঙ্গ বা আপার ট্রেটরা কর্ড। তবে রাগটি উপভোগ করার জন্য অবশ্য এসব তত্ত্বকথা বোঝার দরকার নাই।
তথ্যসূত্র:
রাগ বিন্যাস (প্রথম কলি)। শ্রীশচীন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য্য। এস, চন্দ্র এন্ড কোং। শারদীয়া সপ্তমী, সেপ্টেম্বর ১৯৭৬।
দেশ রাগে রবীন্দ্র সঙ্গীত:
- জাগ’ জাগ’ রে জাগ’ সঙ্গীত
