পিলু মমতাজ ছিলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। সত্তর ও আশির দশকে দেশীয় পপ সঙ্গীতের ধারায় তিনি অগ্রগামী ছিলেন।পপসংগীতের জনপ্রিয় এ শিল্পী উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ মমতাজ আলী খান এর মেয়ে।
Table of Contents
পারিবারিক জীবন
পিলু মমতাজের জন্ম ঢাকায়। তিনি ওস্তাদ মমতাজ আলী খানের কন্যা। সাতবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে পপসঙ্গীত তথা আজকের ব্যান্ড সঙ্গীতের প্রসারে পিলু মমতাজ পালন করে গেছেন অগ্রণী ভূমিকা। সত্তর দশকে আজম খান, ফকির আলমগীর, ফেরদৌস ওয়াহিদ, নাজমা জামানের সঙ্গে পপ ধারার গানের অন্যতম প্রবর্তক তিনি।
কর্মজীবন
সত্তর ও আশির দশকে টিভি ও মঞ্চে গান গেয়ে সাড়া জাগিয়েছিলেন পিলু মমতাজ । বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানে তিনি ‘একদিন তো চলে যাব, পরের ঘরনি হব’ গানটি গেয়ে দর্শক-শ্রোতার দৃষ্টি কাড়েন। পাশাপাশি মঞ্চে তিনি ওই সময়ের চার পপশিল্পী—আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফকির আলমগীর ও ফিরোজ সাঁইয়ের সঙ্গে এক হয়ে নিয়মিত গান পরিবেশন করে বেশ জনপ্রিয়তা পান।
২০০১ সালে ঈদে প্রচারিত বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান হানিফ সংকেতের ইত্যাদিতে আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফকির আলমগীরের সাথে “দিন আসে দিন যায়” গানটি পরিবেশন করেন। মঞ্চে শেষবারের মত ২০১০ সালে ষষ্ঠ সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন। ২০১২ সালে তার মৃত্যুর পর মমতাজ আলী খান সংগীত একাডেমী ও লেজার ভিশন ব্যানারে তার গানে অ্যালবাম ছিল কোন দিন প্রকাশিত হয়। এই অ্যালবামের সঙ্গীতায়োজন করেছেন আবিদ হোসাইন।
শুধু স্টেজেই নয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বাংলাদেশ বেতারে তিনি আশির দশকে নিয়মিত পপগানের পাশাপাশি আধুনিক গানও পরিবেশন করেছেন। আসাদুজ্জামান নূরের বিপরীতে অভিনয় করেছেন বিটিভির ‘টারজান আসছে’ নামে একটি নাটকে।
উল্লেখযোগ্য গান
এই অ্যালবামের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হলো — “আমি শত্রুকে আপন”, “বাতাসে আজ”, “কানে কানে বলো”, “কতদিন যে”, “ছিলে কোন দিন”, “কোন এক মধুর” ইত্যাদি।
ব্যক্তিগত জীবন
পিলু মমতাজের বাবা বাংলা লোকগানে প্রবাদপুরুষ মমতাজ আলী খান। পিলু লেফটেন্যান্ট কর্নেল আনোয়ারুজ্জামানের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক কন্যা, হোমায়রা জামান মৌ।
মৃত্যু
পিলু ২০১১ সালের ২৩ মে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
