বিজরী বরকতুল্লাহ । বাংলাদেশি মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী

বিজরী বরকতুল্লাহ একজন বাংলাদেশি মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি ধরে দর্শকদের মন যুগিয়ে আসছেন তিনি। ১৯৮৮ সালে ‘সুখের ছাড়পত্র’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। প্রায় ৫০ টির উপর নাটকে অভিনয় করছেন বিজরী।

 

প্রাথমিক জীবন

বিজরী বরকতুল্লাহ জন্ম শিল্প-সংস্কৃতি ঘনিষ্ঠ একটি পরিবারে। বাবা মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ নাট্য ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। মা জিনাত বরকতুল্লাহ দেশের একজন নামি নৃত্যশিল্পী। খুব ছোটবেলায় মায়ের কাছে তার নাচের হাতেখড়ি। আড়াই বছর বয়সে বিটিভি তে নাশিদ কামালের উপস্থাপনায় ‘মাকে নিয়ে’ নামে ছোটদের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে মিডিয়াতে বিজরীর অভিষেক হয়েছিল।

এতোটুকু বয়স থেকেই বিভিন্ন স্টেজ শোতে নৃত্য পরিবেশন করে তিনি হয়ে উঠেন লিটল স্টার।নৃত্য চর্চার প্রতি বিজরী বরকতুল্লাহ সবসময় গুরুত্ব দিলেও বাবার অনুপ্রেরণায় অভিনয়ে আসেন। ১৯৮৮ সালে বিটিভির ‘সুখের ছাড়পত্র‘ নামের একটি নাটকে শখের বশে অভিনয় করেন। তারপর থেকেই অভিনয়ের প্রেমে পড়ে যান বিজরী। একসময় অভিনয়ই হয়ে উঠে তার নেশা ও পেশা।

রাজধানী ঢাকার ভিকারুন্নেসা স্কল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন বিজরী বরকতউল্লাহ। পড়াশোনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগে।

 

কর্মজীবন

অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল হিসেবে সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। এছাড়া একজন নৃত্যশিল্পী হিসেবে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।

বিজরী সুখের ছাড়পত্র নামক নাটকে প্রথম অভিনয় করেন, ১৯৮৮ সালে। এই নাটকটির পরিচালক ছিলেন তা বাবা, মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ। তারপর অনেকদিন বিরতীর পর তিনি কোথাও কেউ নেই ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেন। এরপর তিনি মাহফুজ আহমেদের সাথে মেঘ কালো নাটকে অভিনয় করেন, এই নাটকের পরিচালক ছিলেন, আব্দুস সাত্তার। তার উল্লেখযোগ্য কাজ হল, জহির রায়হানের জীবন থেকে নেওয়া চলচ্চিত্রে ভিত্তিতে নির্মিত নাটকে। পাশাপাশি অনেক জনপ্রিয় বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন তিনি।

 

ব্যক্তিগত জীবন

বিজরী, ২০১৩ সালের ১৪ই এপ্রিল বাংলাদেশী অভিনেতা ইন্তেখাব দিনারকে বিয়ে করেন,। এর পূর্বে ১৯৯৬-২০১২ সাল পর্যন্ত তার স্বামী ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক শওকত আলী ইমন। ইমন-বিজরীর একটি কন্যাসন্তান, উর্বানা শওকত।

Leave a Comment