সেলেনার ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনের একপর্যায়ে তিনি প্রচুর পরিমাণে নিকোটিন গ্রহণ করতেন। পরবর্তী সময়ে এই অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টি যে সহজ নয়, তা-ও স্বীকার করেছেন তিনি। তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, নিকোটিনের প্রতি নির্ভরশীলতা তৈরি হলে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য দীর্ঘ সময় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন হতে পারে।
ভেপিংয়ের অভ্যাস রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা নতুন করে এটি শুরু করার কথা ভাবছেন, তাঁদেরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সেলেনা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে, কোনো অভ্যাসের তাৎক্ষণিক প্রভাব সব সময় স্পষ্ট না হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শারীরিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলার সময় ভক্তদের সঙ্গে রসিকতাও করেছেন এই গায়িকা। তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে ভালো না লাগলে ভক্তদের গান না শোনার কথাও বলেছেন তিনি। মন্তব্যটি ছিল হালকা মেজাজের, তবে এর মধ্য দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা মনোভাব প্রকাশ করেছেন সেলেনা।
ভেপিংয়ের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি
ভেপিং হলো ইলেকট্রনিক সিগারেট বা অনুরূপ যন্ত্রের মাধ্যমে বিশেষ তরল গরম করে তৈরি অ্যারোসল শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করার প্রক্রিয়া। এসব তরলে নিকোটিন থাকতে পারে, আবার কিছু পণ্যে নিকোটিন না-ও থাকতে পারে। তবে নিকোটিনযুক্ত ভেপিং পণ্য নিয়মিত ব্যবহারের ফলে আসক্তি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিকোটিন একটি আসক্তি সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পদার্থ। নিয়মিত গ্রহণের ফলে শরীর এর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে। ব্যবহার বন্ধ করার চেষ্টা করলে অস্থিরতা, বিরক্তি, মনোযোগের ঘাটতি এবং তীব্র আকাঙ্ক্ষার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ কারণে অনেকের পক্ষে নিকোটিন গ্রহণের অভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন হয়ে ওঠে।
ভেপিংয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা অ্যারোসলেও অতি সূক্ষ্ম কণা ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে, যা শ্বাসতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গলা ও শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া হওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তবে এসব প্রভাব পণ্যের উপাদান, ব্যবহারের মাত্রা এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে।
সেলেনা তাঁর কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের কথা জানালেও, চিকিৎসাবিষয়ক মূল্যায়ন ছাড়া ভেপিংকেই এর একমাত্র কারণ হিসেবে নিশ্চিত করা যায় না। কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার পেছনে কণ্ঠের অতিরিক্ত ব্যবহার, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা কিংবা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের মতো কারণও থাকতে পারে।
তরুণদের মধ্যে ভেপিং নিয়ে উদ্বেগ
তরুণদের মধ্যে ভেপিংয়ের জনপ্রিয়তা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্বাদের পণ্য, সহজলভ্যতা এবং প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর—এমন ধারণা অনেককে ভেপিংয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারে। কিন্তু কম ক্ষতিকর বলে বিবেচিত হওয়া আর সম্পূর্ণ নিরাপদ হওয়া এক বিষয় নয়।
ভেপিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। ফলে এর সব স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে এখনো পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে নিকোটিনের আসক্তি তৈরি হলে তা থেকে বেরিয়ে আসতে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে।
সেলেনা গোমেজের অভিজ্ঞতা তাই নিকোটিনের ব্যবহার নিয়ে সচেতন হওয়ার গুরুত্ব সামনে এনেছে। ভেপিং শুরু করার আগে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে জানা এবং আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে অসুবিধা হলে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, নিকোটিনের ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া এবং নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া।















