আমরা কিন্তু অনেক সময় কোনো বাদ্যযন্ত্র দেখলেই ঝটপট সেটা বাজিয়ে ফেলার জন্য অস্থির হয়ে পড়ি। কিন্তু জানেন তো, যেকোনো বাদ্যযন্ত্র শেখার একদম প্রথম আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো—যন্ত্রটাকে সঠিক পদ্ধতিতে ধরতে শেখা। যদি আপনার ধরার ভঙ্গিটাই ভুল হয়, তবে আঙুলগুলো ফ্রিলি নড়াচড়া করতে পারবে না, আর অল্পতেই হাত ব্যথা হয়ে যাবে।
আজকের পর্বে আমাদের প্রিয় বাঁশিবাদক মুস্তাকীম আবীর আমাদের দেখাবেন কীভাবে খুব আরামদায়কভাবে এবং সঠিক কৌশলে বাঁশি ধরতে হয়। চলুন, “পর্ব ০৩: বাঁশি ধরতে শেখা” ক্লাসের মূল ট্রিকসগুলো ঘরোয়া ভাষায় জেনে নিই:
Table of Contents
বাঁশি ধরার সঠিক কৌশল: সহজ এবং আরামদায়ক পাঠ
বাঁশি ধরাটা দেখতে খুব সহজ মনে হলেও এর পেছনে কিছু ছোটখাটো টেকনিক আছে। আপনি বাঁশিটি ডানহাতি নাকি বামহাতি হিসেবে ধরছেন, তার ওপর ভিত্তি করে আপনার হাতের পজিশন ঠিক করতে হবে। আবীর ভাই ক্লাসে বিষয়গুলো খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন:
১. আঙুলের সঠিক অবস্থান (Finger Placement)
বাঁশির সুরের ছিদ্রগুলোতে আঙুল রাখার সময় অনেকেই হাত একদম শক্ত করে ফেলেন। এটা কিন্তু মস্ত বড় ভুল।
আঙুলের নরম অংশ: ছিদ্রগুলো বন্ধ করার জন্য আঙুলের একদম ডগা (Tip) ব্যবহার না করে, আঙুলের ভেতরের নরম মাংসল অংশটি ব্যবহার করুন। এতে ছিদ্রগুলো খুব ভালোভাবে সিল বা বন্ধ হবে এবং বাতাস বের হতে পারবে না।
আঙুল থাকবে রিল্যাক্স: আঙুলগুলো যেন সোজা বা লাঠির মতো শক্ত হয়ে না থাকে। এগুলোকে সামান্য একটু বাঁকা (Curved) বা রিল্যাক্স রাখুন, ঠিক যেভাবে আমরা কোনো কিছু আলতো করে হাত দিয়ে ধরি।
২. হাতের সাপোর্ট বা ভারসাম্য (Balancing the Flute)
যেহেতু বাঁশি বাজানোর সময় সব কটি আঙুল ছিদ্রের ওপর থাকে না, তাই বাঁশিটি যেন হাত থেকে পড়ে না যায় বা কেঁপে না ওঠে, তার জন্য ব্যালেন্স করা খুব জরুরি।
বৃদ্ধাঙ্গুলির ম্যাজিক: আপনার দুই হাতের বুড়ো আঙুল বা বৃদ্ধাঙ্গুলি দুটি বাঁশির নিচের দিকে থেকে পুরো বাঁশিটাকে চমৎকার একটা সাপোর্ট দেবে।
ঠোঁটের সাপোর্ট: আপনার নিচের ঠোঁট এবং থুতনির অংশটিও বাঁশিটিকে এক জায়গায় স্থির রাখতে একটি থার্ড-পয়েন্ট সাপোর্ট হিসেবে কাজ করবে।
৩. কনুই আর কাঁধের অবস্থান
বাঁশি ধরার সময় আপনার কনুই দুটি শরীরের সাথে একদম লেপ্টে রাখবেন না, আবার খুব বেশি ওপরেও তুলে রাখবেন না। হাত দুটিকে স্বাভাবিকভাবে একটু ছড়ানো অবস্থায় রাখুন। কাঁধ দুটোকে রাখুন একদম রিল্যাক্স। যদি আপনার বসার বা দাঁড়ানোর ভঙ্গিটা আরামদায়ক হয়, তবে আপনি ক্লান্ত না হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাঁশি বাজিয়ে যেতে পারবেন।
আপনার জন্য ছোট্ট একটি পরামর্শ:
আজই বাঁশিটি হাতে নিয়ে কোনো ফুটা বন্ধ না করে বা ফুঁ না দিয়ে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু কয়েকবার ধরা এবং ছাড়ার প্র্যাকটিস করুন। দেখুন আপনার হাত আরাম পাচ্ছে কি না। হাত যখন নিজে থেকেই সঠিক পজিশনটা চিনে নেবে, তখন সুর তোলা কোনো ব্যাপারই না!
সহজ পদ্ধতিতে এবং নিয়মিত বাঁশি শিক্ষার এমন চমৎকার সব নিয়মিত টিউটোরিয়াল পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে রাখতে একদম ভুলবেন না!
বাংলা সঙ্গীতের ইতিহাস, সঙ্গীততত্ত্ব ও আর্কাইভাল গবেষণাকে সুনির্দিষ্ট একাডেমিক কাঠামোয় তুলে ধরতে কাজ করছে ‘একাডেমিক ডেস্ক’। গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে প্রকাশ করা হয় বস্তুনিষ্ঠ গবেষণা নিবন্ধ, সুর ও বাণীর বিশদ বিশ্লেষণ এবং ঐতিহাসিক দলিল। সঙ্গীতচর্চাকে কেবল বিনোদন নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।















